চিকিৎসক নয়ন-সুমী দম্পতির উদ্যোগ পরিত্যক্ত জমিতে নিরাপদ সবজি বাগান

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সম্প্রসারিত ১৫০ শয্যার নতুন ভবনের পশ্চিমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা। সেখানে চিকিৎসক দম্পতি সার্জারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ডাঃ ওয়ালিউর রহমান নয়ন ও প্যাথলজিস্ট শিরীন জেবীন সুমী নিজেদের আবাসনকে ঘিরে পরিত্যক্ত ৭ কাঠা জমিতে গড়ে তুলেছেন শখের বাগান।
শখের বসে ২০১০ সালে তারা বাগানের কাজ শুরু করলেও সেই থেকে সেখানে উৎপাদিত শাকসবজি ও ফল পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে সহকর্মী, স্বজন ও প্রতিবেশীদের দিয়ে আসছেন। পরিছন্ন পরিবেশের কারণে সকাল-বিকালে অনেকেই সেখানে বেড়াতে আসেন। শুক্রবার সকাল ৭টায় সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ালিউর রহমান ও শিরীন জেবীন সবজি বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত। দুই সন্তান চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ওয়াফিয়াহ্ মুমত্বাহীন (১১) ও প্রদীপন বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ওয়াফির অনন রহমান (৭) বাবা-মাকে সহযোগিতা করছেন।
বাগানটি ঘুরে ঘুরে দেখা যায় মরসুমের প্রায় সব শাকসবজি এই বাগানে রয়েছে। মাচার ওপরে গাঢ় সবুজ পুঁইশাক এবং নিচে ঝুলছে সবুজ সতেজ লাউ, মিষ্টি কুমড়ো, চাল কুমড়ো, শিম, করোলা, শসা ও বরবটি। সেই সাথে খ- খ- জমিতে কলমি, কচু, ওল, লালশাক, সবুজ ডাটা শাক, ঢেঁড়শ ও বেগুনসহ ১৯ রকমের সবজি এবং গাছে গাছে ঝুলছে কলা ও পেঁপে। এছাড়া সেখানে বাসক ও তুলশীসহ বেশকিছু ঔষধি গাছ এবং গোলাপসহ নানান ফুল গাছের দেখা মেলে।
সবজি বাগান প্রসঙ্গে ডা. ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর ধরে সবজি বাগান করছি। ২০১০ সালে আমরা যখন এখানে এলাম, দেখলাম বাসার আশপাশে অনেক জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভাবলাম এখানে কিছু করা যায় কী-না। তখন থেকেই উদ্যোগ নেয়া। আরেকটা কারণ, বাজারে বিষমুক্ত বা রাসায়নিকমুক্ত শাকসবজি পাওয়া খুবই কঠিন। সে কারণে আগ্রহ জন্মেছে বিষমুক্ত ও রাসায়নিকমুক্ত কোনো সবজি উৎপাদন করার।’
ডা. ওয়ালিউর রহমান জানান, সবজির এই বাগান থেকে চিত্ত্বের খোরাক হয়, শারিরীক পরিশ্রম হয়, একটা বিনোদনের ব্যাপারও আছে। তাছাড়া, রুগী দেখা বা অন্যান্য পরিশ্রমের বাইরে এগুলো করলে ভালো লাগে। শরীর ভালো থাকে, মন ভালো থাকে। আর এখন করোনাকালে অখ- অবসর। রুগী দেখার পাশাপাশি বেশিরভাগ সময়ই বাসায় থাকা হয়। সময়টা বেশ ভালো কেটে যাচ্ছে।
যে সময়টি বাগানে দেন, সে সময়টি রুগী দেখলে বেশি উপার্জন হতো এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. ওয়ালিউর রহমান বলেন, দুইটা কিন্তু দুই জিনিস। রুগী দেখে হয়তো কিছু উপার্জন হয় কিন্তু চিত্ত্বের খোরাকটা এইসব কাজেই বেশি। কেউ বাগান করেন, কেউ টিভি দেখেন, কেউ বই পড়েন। এটা এক ধরণের শখও বলতে পারেন। শখও পূরণ হচ্ছে আবার নিজেরা নিরাপদ সবজি পাচ্ছি। প্রতিবেশীদের দিচ্ছি।
শিরীন জেবীন বলেন, ‘সবজি বাগানের কথা মনে হলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। অফিস থেকে ফেরার সময় যখন ক্ষেতটা দেখি খুব ভালো লাগে। মনটা জুড়িয়ে যায়। বাচ্চারা সকাল-বিকাল আমাদের সহযোগী হিসেবে গাছে পানি দেয়, ঝরা পাতাগুলো সরিয়ে ফেলে। বাগানে খেলাধুলা করে। তাছাড়া, নিজের হাতে নিজেদের ক্ষেত থেকে ফ্রেশ সবজি তোলা, সে একটা ঢেঁড়শ হোক, বেগুন হোক, পুঁইশাক হোক-তা আনন্দের বিষয়।’
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শামীম কবির জানান, ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন ও শিরীন জেবীন দম্পতির এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, হাসপাতালের কোয়ার্টারে বসবাসকারীদের পাশাপাশি অনেকেই বাগানটি পরিদর্শনে আসেন এবং মুগ্ধ হন।’

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More