দামুড়হুদার হাট-বাজারে ব্যবসায়ীদের হালখাতার হিড়িক

তাছির আহমেদ -বিশেষ প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাস, লকডাউন ও ঘুর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই দামুড়হুদার হাট বাজারের ব্যবসায়ীদের শুভ হালখাতার চিঠি পাওনাদারদের বাড়ীতে বাড়ীতে পৌছানোর হিড়িক পড়েছে। হালখাতার চিঠিতে লেখা রয়েছে, আপনার হিনাব’ হালখাতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সমুদয় বকেয়া পরিশোধের তাগিদ। হরতাল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও হালখাতা চলবে এমনও লেখা আছে তাতে। লকডাউন শিথিল হওয়ার পরপরই এসব ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে শুভ হালখাতা করছে বলে এলাকার শ্রমজীবি, কৃষককূল ও সাধারন মানুষজন হালখাতার চিঠি পেয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। ভুক্তভোগীমহল বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি কামনা করেছেন।
জানা গেছে, দেশে করোনা ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর পহেলা বৈশেখের সকল আনুষ্ঠানিকতা সরকার বন্ধ ঘোষনা করেন। করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের আওতায় এসে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রার মান গৃহবন্দী হয়ে পড়ে। গত মাসের ৩০ তারিখে মানুষের কল্যাণে শর্ত দিয়ে সরকার লকডাউন তুলে নেন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থবিধি, সামাজিক দুরত্ব বজায় ও সময় সুচী বেঁধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমুহকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন সরকার। এমতাবস্থায় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সদরের হাট-বাজারের ব্যবসায়ীরা শুভ হালখাতার চিঠি পাওনাদের বাড়ীতে বাড়ীতে পৌঁছে দেওয়ার হিড়িক ফেলেছে। তাতে এলাকার চাষী, দিন মজুর ও সাধারন মানুষজন শুভ হালখাতার চিঠি পেয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। এসকল ব্যবসায়ীরা তাদের শুভ হালখাতার দিন ধায্য করেছেন চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে। আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারের বড় বড় ব্যবসায়ীরা যখন হালখাতা শুরু করেছেন তখন আমরাও করবো তবে রয়েসহে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষক, শ্রমজীবি ও মধ্যবৃত্ত সাধারন মানুষজন বলছেন, আমরা চলতি মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ব্যবসায়ীদের শুভ হালখাতা পরিশোধের চিঠি পেয়ে হতশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। এসকল চিঠিতে লেখা রয়েছে, আপনার হিসাব’ শুভ হালখাতার দিনে হালখাতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সমুদয় বকেয়া পরিশোধের জন্য। সেই সাথে লেখা আছে, হরতাল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও হালখাতা চলবে। এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আমাদের জন্য বেশ কঠিন হবে। সময ও সুযোগ দিলে আমরা অবশ্যই সকল পাওনা পরিশোধ করবো। কারণ ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ না করলে আমরা ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়বো। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা ভুক্তভোগী মহল মানবিক দিক বিবেচনায় মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
দামুড়হুদা বাজারের ব্যবসায়ীগণ বলেন, হালখাতা বাংলার সব অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের উৎসব। বাংলা বছরের প্রথম দিন থেকে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। সারা বছরের বাকীতে ব্যবসার টাকা এই দিনে আদায় করা হয়। পুরানো টালি খাতার সব হিসেব শেষ করে নতুন বছরের ব্যবসা শুরু করা হয় নতুন করে। পুরানো হিসেব চুকিয়ে শুরু হয় ব্যবসায়ীদের নতুন খাতা খোলার পালা। যুগ যুগ ধরে এমনটাই চলে আসছে। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর সেই ঐতিহ্যে ছেদ পড়েছে। বাংলাদেশে ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম বাংলার নববর্ষের দিনে উদযাপিত হয়নি কোন হালখাতা। বর্তমান পরিস্থিতির এ মুহুর্তে হালখাতা বন্ধের কোন নির্দেশনা এখনো পর্যন্ত কেউ হাতে পায়নি।
এ ব্যাপারে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা রেল বাজার কমিটির সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, দর্শনা রেল বাজারের কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই মুহুর্ত পর্যন্ত কোন হালখাতার প্রস্তুতি গ্রহন করেনি। তবে দর্শনার অনেকে বলেছেন, বাজারের অনেক ব্যবসায়ীর শুভ হালখাতার কার্ড পৌছে গেছে অনেকের বাড়ীতে বাড়ীতে। দামুড়হুদা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল কবীর ইউসুফ বলেন, এসময় কেউ যদি হালখাতা করে থাকেন তাহলে বিগত বছরগুলোর মত এবারের হালখাতা সেই ভাবে পুর্ণতা পাবে না।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য বিধি, সামাজিক দুরত্ব বজায় ও সময় সুচী মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহের ওপর বিভিন্ন দিক নির্দেশনা বলবৎ রয়েছে। দিক নির্দেশনা সমূহ কেউ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থার নিয়ম রয়েছে। এ বিষয়ে দুর্যোগময় মুহুর্তে মানবিক দিক বিবেচনা করে সবাইকে মানুষের কল্যানে সহযোগিতা করা কর্তব্য।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More