অধিক মূল্যে সার বিক্রি করায় দুই ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা

আলমডাঙ্গায় পৃথক প্রতিষ্ঠানে জাতীয় ভোক্তা অধিকারের অভিযান

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে সার বিক্রি করায় দুই বিসিআইসি ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই জরিমানা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চুয়াডাঙ্গা জেলার সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ জানান, কৃষকদের সাথে প্রতারণা করে অধিক মূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড মোড় ও হাফিজ মোড়ে অভিযান চালানো হয়। নতুন বাসস্ট্যান্ড মোড়ে অবস্থিত বিসিআইসি ডিলার মেসার্স নূর মোহাম্মদ ট্রেডার্সে অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, ১ আগস্টের পূর্বে উত্তোলিত সার অধিক দামে বিক্রি করছেন তিনি। প্রতি বস্তা ৮০০ টাকার ইউরিয়া সার ৯৮০ টাকায় ও অন্যান্য সারও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪০ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি মূলত আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার। কিন্তু থাকেন আলমডাঙ্গায়।

এদিকে, হাফিজ মোড়ে অবস্থিত বিসিআইসি ডিলার মেসার্স জনির উদ্দিন অ্যান্ড ব্রাদার্স যিনি মূলত কুমারী ইউনিয়নের ডিলার এই প্রতিষ্ঠানটিতেও অধিকার মূল্যে সার বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। টিএসপি সারের সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য ২২ টাকা কেজি হলেও এই প্রতিষ্ঠান ৩৫ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সাজিয়ে রাখা প্রচুর মেয়াদ উত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ করা হয়। ওই অপরাধে তাকে একই আইনের ৪০ ও ৫১ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সজল আহমেদ জানান, গত ১ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত একটি চিঠিতে ইউরিয়া সারের দাম ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা করা হয় খুচরা পর্যায়ে। একই চিঠিতে উল্লেখ করা হয় ১ আগস্টের আগে ডিলার পর্যায়ে মজুদকৃত সার পূর্বের দামে অর্থাৎ ১৬ টাকা কেজি হিসেবেই বিক্রি করতে হবে। অভিযানে সহযোগিতা করেন আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি টিম। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, আলমডাঙ্গা এলাকায় কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ও মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার অনেক বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। যদিও কৃষি অধিদফতর সারের কোনো সঙ্কট নেই বলে জানিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে সারের দাম বেশি নেয়া হলেও ডিলাররা কোনো রশিদ দিচ্ছেন না। প্রতিবাদ করলে সার বিক্রি করবেন না জানিয়ে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ডিলারদের দাবি, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ার কারণে বাজারে সারের কিছুটা সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করছেন তারা।

অভিযোগকারীরা জানান, আলমডাঙ্গা শহরের সার ডিলারদের গোডাউনে সার ভর্তি থাকলেও সারের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। আনন্দধামসহ শহরের সর্বত্র সার ডিলারদের গোডাউন ভর্তি ইউরিয়া সার। গত সোমবার থেকে সরকারিভাবে ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সোমবারের পর থেকে আজোবধি কোনো ডিলারের  গোডাউনে ৩-৪ ট্রাকের বেশি ইউরিয়া সার আসেনি। অথচ, অনেক ডিলারের গোডাউনে ৪-৫ হাজার বস্তা ইউরিয়া সার রয়েছে। অধিকাংশ সারই সোমবারের পূর্বে আমদানিকৃত। অথচ, পূর্বে ক্রয়কৃত সারও বর্তমানে বৃদ্ধিকৃত দামে অর্থাৎ বস্তাপ্রতি ৩শ টাকা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গার গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি আলমডাঙ্গা শহরের কয়েকজন পরিচিত সার ডিলারের দোকানে গিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাননি। পরে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করে সার কিনতে হয়েছে। তবে, বাড়তি দামের রশিদ  দেননি।

পাঁচলিয়া গ্রামের গ্রামের কৃষক তোতা ম-ল বলেন, কয়েকদিন আগে আলমডাঙ্গার একজন সার বিক্রেতার কাছ থেকে প্রতি বস্তা টিএসপি সার দেড় হাজার টাকায় কিনেছেন। রশিদ চাওয়ায় দোকানদার তার সারের বস্তা কেড়ে নিতে চাচ্ছিলেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More