আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জের আরতি দাস পালালেও ৭ লাখ টাকার মাদকসহ সৌরভ আটক

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জের খুদিয়াখালী থেকে বিপুল পরিমাণ রেকটিফাইড স্পিরিটসহ চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ী সৌরভ দাসকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। ৩৫০ লিটার রেকটিফাইড স্পিরিট ও ২শ’ গ্রাম গাঁজাসহ আরও উদ্ধার করা হয়েছে মাদক বিক্রির নগদ ৭ হাজার টাকা। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জের খুদিয়াখালী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। আটককৃত সৌরভ দাস (২৫) যশোর জেলার অভয়নগরের বাশহাটি গ্রামের তপন দাসের ছেলে এবং মুন্সিগঞ্জের চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ী আরতি দাসের স্বামী। সৌরভকে আটক করা হলেও অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় তার স্ত্রী আরতি দাস। গতকালই একজন পলাতকসহ সৌরভের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিয়ত উল¬াহ, উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ, শাহারা ইয়াসমিন, উপ-সহকারী পরিদর্শক আজগর আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে খুদিয়াখালি গ্রামের শ্মশানপাড়ায় অভিযান পরিচালনা করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জ বাজারের বহুল আলোচিত মাদকব্যবসায়ী সৌরভ দাসকে (২৫) আটক করা হয়। তার দেহতল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ২শ’ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ ৭ হাজার ১৫০ টাকা। পরে সৌরভের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির পাশে গর্তে পুতে রাখা ৩৫০ লিটার রেকটিফাইড স্পিরিট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক বিক্রির জন্য মজুদ রাখা বিপুল পরিমাণ খালি বোতল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
এলাকাসূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ বাজারের বহুল আলোচিত মাদকব্যবসায়ী মাধব দাসের স্ত্রী পূর্ণী দাস প্রায় ২০ বছর আগে জেহালা পানহাটে ঝাড়ুদারের কাজ নেয়। কিছুদিনের মধ্যে পূর্ণী দাস ও তার মেয়ে আরতি দাস সেখানে মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলে। বছর পাঁচেক আগে তাদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে মাধব দাস এলাকায় না ফিরলেও কিছুদিনের মধ্যে আবারও এলাকায় ফিরে রমরমা মাদক ব্যবসা শুরু করে পূর্ণী ও আরতি। বিভিন্ন সময় পুলিশের অভিযানে আরতি দাস আটক হয়ে হাজতবাসও করে। ফিরে এসে আবারও শুরু করে মাদকব্যবসা। এরইমধ্যে আরতি দাস তার খালাতো ভাই হরি দাসকে মুন্সিগঞ্জ পশুহাটে ঝাড়ুদারের কাজে লাগিয়ে তাকেও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে নেয়। কিছুদিন পর তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে তারা আলাদাভাবে ব্যবসা শুরু করে। এছাড়া আরতি তার ছোট ভাই নিতাই ও রবিনকেও নিজ বাড়িতে নিয়ে ব্যবসায় লাগিয়ে দেয়। আরতি দাস পানহাটে দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসা চালালেও সম্প্রতি খুদিয়াখালি শ্মশানপাড়ায় বাড়ি করে সেখানেই মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরীয়ত উল¬াহ দৈনিক মাথাভাঙ্গাকে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৫০ লিটার রেকটিফাইড স্পিরিট (অ্যালকোহল), ২শ’ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ ৭ হাজার ১৫০ টাকাসহ মাদকব্যবসায়ী সৌরভ দাসকে আটক করা হয়েছে। একজন পলাতকসহ আটককৃত সৌরভের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জেলা প্রশানের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান বলেন, এরা ১ লিটার রেকটিফাইড স্পিরিট প্রসেসিং করে ৪ লিটার মদ তৈরি করে। ৩৫০ লিটার রেকটিফাইড স্পিরিট প্রসেসিং করে ১ হাজার ৪শ’ লিটার মদ তৈরি করতো। যার আনুমানিক খুচরা বাজারমূল্য ৭ লাখ টাকা।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More