করোনা ভাইরাসে চুয়াডাঙ্গায় মৃত্যের সংখ্যা বেড়ে অর্ধশত

কোভিড-১৯ প্রতিরোধক টিকা গ্রহণে বেড়েছে আগ্রহ : নতুন ২৩ জনের নমুনা সংগ্রহ

স্টাফ রিপোর্টার: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গায় আরও একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অর্ধশত। অপরদিকে কোভিড-১৯ প্রতিরোধক টিকা নেয়ায় আগ্রহ বেড়েছে। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১ হাজার ৯শ ৩৯জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এ নিয়ে মোট ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৬ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগসূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দেহাটি গ্রামের রবিউল ইসলাম বেশ কিছুদিন ধরে সর্দি কাশিতে ভুগছিলেন। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে প্রেরণ করে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ। নমুনা দেয়ার পর রবিউল ইসলাম বাড়ি ফেরেন। পরদিন তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে আসার আগেই ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে নিজবাড়িতে মারা যান। আনুমানিক ৬৫ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম কোথায় কীভাবে করোনা আক্রান্তের সংস্পৃর্ষে সংক্রমিত হন তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। পরিবারের আর কেউ আক্রান্ত কিনা তাও নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গার ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ জন মারা গেছেন চুয়াডাঙ্গায় বাকি ৫ জন মারা গেছে চুয়াডাঙ্গার বাইরে। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ নতুন ২৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে প্রেরণ করেছে। গতকাল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গার মোট ৭ হাজার ৭শ ৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে মোট শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬শ ৬৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬শ ১২ জন। অপরদিকে সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও করোনা ভাইরাস জনিত রোগ তথা কোভিড-১৯ প্রতিরোধক টিকা নেয়ায় আগ্রহ বেড়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল, বিজি হাসপাতাল ও পুলিশ হাসপাতাল থেকে ৪শ ৩১জন, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৫শ ৬০ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৫শ ৬৮ জন ও দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৩শ ৮০জন টিকা নিয়েছেন। টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এমএ রাশেদ, সহকারী অধ্যাপক মোসা, কোহিনুর খাতুন টুনী, সহকারী অধ্যাপক মো. আতিয়ার রহমান, অফিস সহকারী মো. শফিকুল ইসলাম অন্যতম। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্র থেকে এরা টিকা নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলে প্রভাষক মো. খসরুজ্জামান, প্রভাষক মো. কুতুব উদ্দীন, প্রভাষক মো. আব্দুর রহিম, রুবাইত বিন আজাদ সুস্তির প্রমুখ। টিকা দেয়ার পর পৌর কলেজের অধ্যক্ষ সকলকে টিকা গ্রহণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, গতরাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে একজনও ছিলেন না। ৪ জন নিজবাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন। একজন রয়েছেন ঢাকায়। চুয়াডাঙ্গায় নিজবাড়িতে আইসোলেশনে থাকা ৪ জনের মধ্যে দুজনের নমুনা পুনঃপরীক্ষায় নেগেটিভ হলেও এরা ছাড়পত্র নেননি। এ দুজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের রেলপাড়ায়। অপর দুজনে মধ্যে একজন আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার ও একজন দর্শনা আনোয়ারপুরের বাসিন্দা।

জীবননগর ব্যুরো জানিয়েছে, জীবননগরে নবনির্বাচিত পৌর মেয়র রফিকুল ইসলামসহ গতকাল বুধবার এ উপজেলায় সর্বাধিক কোভিড-১৯ করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৫৬০ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে এ ৫৬০ জন্য ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত জীবননগর উপজেলায় করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছেন ২ হাজার ৩৫৭ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি হতে করোনা ভ্যাকসিন দেয়া শুরু করা হয় এ উপজেলাতে। বর্তমানে করোনার ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। প্রতিদিনিই ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত ৩ হাজার ৯০ জন অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৫৭ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। গতকালই সর্বাধিক ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৫৬০ জন। ভাওয়েল পাওয়া গেছে ২ হাজার ৫৭৩ জন। জীবননগর হাসপাতালের ইউপিআই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জুলফিক্কার আলী উপরোক্ত তথ্য নিশ্চিত করে বলেন এখনো ৩৫৬ ভাওয়েল ভ্যাকসিন রয়েছে। যা হতে ৩ হাজার ৫৬০ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া যাবে। এছাড়াও নতুন বরাদ্দের ভ্যাকসিন খুবই দ্রুত চলে আসবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More