কাউন্সিলর প্রার্থীর ভাই খুনের ৫ ঘণ্টা পর প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লাশ উদ্ধার

শৈলকুপায় পৌর নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোট স্থগিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: শৈলকুপা পৌরসভা নির্বাচনে সহিংসতায় এক কাউন্সিলর প্রার্থীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোট স্থগিত করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জুয়েল আহম্মেদ এই তথ্য জানিয়েছেন। গত বুধবার রাত ৮টার দিকে শৈলকুপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় প্রতিপক্ষের এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় নিহত হয়েছেন উমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত ইসলাম ওরফে বল্টু। তিনি অপর কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত আলীর ভাই। এই ঘটনার ৫ ঘণ্টা পর রাত একটার দিকে শৈলকুপা উপজেলার দেবতলা-বাড়ইপাড়া এলাকার কুমার নদ থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর খান ওরফে বাবুর লাশ উদ্ধার করা হয়। আলমগীর খান শৈলকুপা পৌরসভা এলাকার কবিরপুর গ্রামের জালাল আহম্মেদ খানের ছেলে ও শৈলকুপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। তার প্রতীক ছিলো পাঞ্জাবি।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক প্রার্থীর ভাই নিহত হওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পর প্রতিপক্ষ প্রার্থী আলমগীর হোসেন খানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীররাতে উপজেলার দেবতলা গ্রামের পাশে কুমার নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার সাঈদ জানিয়েছেন, শ্যাওলার ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সংঘর্ষের পর পালাতে গিয়ে নদী পার হওয়ার সময় তীব্র শীতে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়েছে।
গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শৈলকুপা পৌর নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আলমগীর হোসেন খান বাবু ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শওকত আলীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে লিয়াকত হোসেন নামে একজন নিহত হন। তিনি উমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত আলীর ছোট ভাই। এ ঘটনার পর আলমগীর খান বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। রাতে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাবুর লাশ উদ্ধার নিয়ে এলাকার বাসিন্দা জয়নাল জানান, রাতে মাছ ধরার সময় প্রথম তিনি বাবুর লাশ দেখেন। তার জুতো নদীর পানিতে ভাসছিলো। তার শরীরে জামা-কাপড় ছিলো না। পরে পটের (কচুরি) ওপর থেকে তার জামা-কাপড় উদ্ধার করা হয়। অপর একজন জানান, বাবুর সঙ্গে আরও দুই ব্যক্তি ছিলেন। তবে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
স্বজনরা জানান, মোবাইল ফোনে বাবু তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তখন বাবু জানিয়েছিলেন শহরে একজন খুন হয়েছে। পুলিশ আমাকে তাড়া করেছে। তোমরা নদীর ঘাটে নৌকা নিয়ে থাকো। দেবতলা গ্রামের জালাল খাঁর ছেলে বাবু উপজেলার কবীরপুরে থাকেন। আগে তিনি বিদেশে থাকতেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা কুমার নদের দেবতলা ঘাটে যান। পরে পুলিশ বাবুর লাশ উদ্ধার করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর খানের স্ত্রী বলেন, তার স্বামী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ছিলেন। তার যথেষ্ট জনপ্রিয়তাও ছিল। রাতে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার বিচার চান।
শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুর এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হোসেন ও আলমগীর হোসেন খান বাবুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় শওকত আলীর আপন ভাই লিয়াকত আলী বল্টুসহ উভয়পক্ষের ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বল্টু কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। কুষ্টিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার জানান, বল্টুর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এরপর রাত ১টার দিকে কুমার নদের দেবতলা ঘাট থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী বাবুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে বাবুর ময়নাতদন্ত করা হয়।
রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, ৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। তবে মেয়র ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, এক প্লাটুন করে বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে তারা টহল শুরু করেছেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ধরে এর পেছনে নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে। একদিনে আওয়াামী সমর্থক দুই ব্যক্তির লাশ পাওয়ার ঘটনা পৌর নির্বাচনকে আরও সঙ্ঘাতময় ও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অনেক মনে করেন একটি ঘটনার জের ধরে আরেকটি ঘটনা ঘটেছে। এদিকে কমিশনার প্রার্থী আলমগীর হোসেন বাবুর সমর্থক ও পরিবার দাবি করছেন পরিকল্পিতভাবে বাবুকে হত্যা করা হয়েছে। শৈলকুপা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুটি মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কেও মামলা করেনি। তাই গ্রেফতারও নেই। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। শহরের কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এদিকে প্রার্থীসহ দুই জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিরা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় দুটি পরিবারের স্বজনরা হতাশায় রয়েছেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More