কুষ্টিয়ায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ জনের মৃত্যু

শয্যা-সংকটের কারণে রোগীর ভিড়ে হাসপাতালে পা ফেলার জায়গা নেই
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া করোনা হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ১৪ জন করোনায় এবং ৩ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টার মধ্যে মারা যান তারা। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এমএ মোমেন। এদিকে নতুন ৮৯২ নমুনা পরীক্ষা করে ২৪৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার প্রায় ২৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। হাসপাতালে ৪২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। শয্যা-সংকটের কারণে অতিরিক্ত রোগীরা হাসপাতালের মেঝে, করিডোর ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে। এজন্য চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাই চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীর ভিড়ে হাসপাতালের কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। অক্সিজেনসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও জনবল ও জায়গার অভাব রয়েছে। এজন্য চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, করোনা এভাবে বাড়তে থাকলে কোনো সিস্টেম কাজে আসবে না। তখন অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে যাবে। সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যাবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যা ঘটেছে। এজন্য আমাদের সবার সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। নিজের পরিবার ও প্রতিবেশীর জন্য সচেতন হতে হবে। অন্যথায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, অধিকাংশ রোগীকে অক্সিজেন দেয়ার দরকার হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কাড়াকাড়ি লেগে যাচ্ছে। অনেকেই ৪০ থেকে ৭০ ভাগ অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। তাদের অবস্থা জটিল। তাদের কমপক্ষে এক সপ্তাহের জ্বর, ঠা-া ও কাশি রয়েছে। এ রকম বেশির ভাগ রোগীই আসছেন জটিল অবস্থা নিয়ে। আর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়ার পর যেসব রোগী আসছেন, তাদের বাঁচানো কঠিন হচ্ছে। এজন্য আগে থেকেই চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এম এ মোমেন বলেন, ২৫০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড এই হাসপাতালটিতে এখন শয্যার চেয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। করোনা আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবারবার সকাল পর্যন্ত ৪২২ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই ২৯২ জন। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৩০ জন। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট নেই। তবে শয্যা, নার্স, আয়া ও সুইপারের অভাব রয়েছে।
ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে করোনায় মৃত্যুর মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় তিন ও উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৭ জন। সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৪৭ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৫০জন, শৈলকুপায় পাঁচজন, হরিণাকু-ুতে ২৬ জন, কালীগঞ্জে ১৫ জন, কোটচাঁদপুরে ২৫ জন ও মহেশপুরে ২৬ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত সদর উপজেয়ার মোট আক্রান্ত হয়েছে সদর উপজেলায় ২ হাজার ৫৪৬ জন, শৈলকুপায় ৭৩৫জন, হরিণাকু-ুতে ৪৩৮ জন, কালীগঞ্জে ১ হাজার ০৫৫ জন, কোটচাঁদপুরে ৪৭৫ জন ও মহেশপুরে ৪১১জন আক্রান্ত হয়েছেন। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন. ডা. সেলিনা বেগম জানান, সকালে ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া থেকে ৩৪৬ জনের নমুনার ফলাফল এসেছে। এর মধ্যে ১৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৬৬০ জন। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হারুন-আর-রশিদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা ইউনিটে তিনজন ও উপসর্গ নিয়ে তিনজন মারা গেছে। গতকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ১৪৭ জন করোনা রোগী ভর্তি আছে। এছাড়া হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৭৫টি শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More