গাংনীতে ডাক্তার ইউপি চেয়ারম্যান ও নার্সসহ মেহেরপুর জেলায় করোনায় আক্রান্ত ২৮

বিলম্ব রিপোর্টে আক্রান্ত কয়েকজনের স্বাভাবিক চলাফেরায় সংক্রমণের ঝুঁকি মারাত্মক
মেহেরপুর অফিস: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সাদিয়া আক্তার, দুই জন নার্স, বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেনসহ জেলার ২৮ জন নতুন করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাত দশটা পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২১৭। আর সুস্থ হয়েছেন ১১৮ জন। তবে নমুনা প্রদানের এক সপ্তাহ পরে রিপোর্ট আসায় আক্রান্ত অনেকে ঘুরে বেড়িয়েছেন অবাধে। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দেরিতে আসায় কোভিড-১৯ নেগেটিভ ভেবে অনেকেই ঘর থেকে বের হয়েছেন। এতে মেহেরপুর জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও দায় নিচ্ছেন না কেউ। ফলে সচেতন মহলের মাঝে মারাত্মক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে, গেলো ২৯ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৬৮টি নমুনা পরীক্ষা রিপোর্ট মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাব থেকে হাতে পেয়েছে সিভিল সার্জন অফিস। এর মধ্যে কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে ২৮ জন। নতুন এ শনাক্তের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫ জন, মুজিবনগরে ৪ জন ও গাংনী উপজেলায় ৯ জন।
মুজিবনগর উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন ও তার স্ত্রী, মোনাখালী গ্রামের বাসিন্দা মেহেরপুর সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখার এক নারী কর্মকর্তা ও আনন্দবাস গ্রামের এক নারী।
গাংনী উপজেলায় আক্রান্ত ৯ জন হলেন, গাংনী হাসপাতালের আরএমও ডা. সাদিয়া আক্তার, নার্স আমেনা ও তার স্বামী গাড়াডোব গ্রামের আবু শামা, হাসপাতালের স্টোরকিপার দবির উদ্দীন, গাংনী র‌্যাব ক্যাম্পপাড়ার একজন চিকিৎসক, আমতৈল গ্রামের ইউপি সদস্য ফজলুল হক ও তার স্ত্রী, চেংগাড়া গ্রামের একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং বামন্দীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক চপল।
অপরদিকে সদর উপজেলায় আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে পূর্বালী ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা ও এক কর্মকর্তার স্ত্রী এবং শিশু কন্যা। সদর হাসপাতালের একজন নার্স ও অ্যাম্বুলেন্স চালক। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক কর্মী, ওয়াপদা মোড়ের এক চা দোকানি, বড় বাজারের ক্লথ স্টোরের এক ব্যক্তি এবং আরেকজন হোটেল বাজারের মাছ ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী এবং তাতিপাড়ার একই পরিবারের তিনজন।
এদিকে বেশ কিছুদিন আগে নমুনা দেয়ায় অনেকে করোনাভাইরাস নেগেটিভ ভেবে স্বাভাবিক চলাফেরা করেছেন। গাংনীর আমতৈল গ্রামের ইউপি সদস্য ফজলুল হক বেশ কয়েকদিন ধরে অবাধে চলাফেরা করছেন। মসজিদে নামাজ আদায় থেকে শুরু করে চায়ের দোকানে আড্ডা এবং স্বাভাবিক সব কাজকর্মই করেছেন তিনি। এছাড়াও আব্দুল মালেক চপল গেলো দুই দিন ধরে বাইরে স্বাভাবিক চলাফেরা করছেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, জ্বর সেরে যাওয়ার পরও নমুনা পরীক্ষার রির্পোট না আসায় স্বাস্থ্য বিভাগেরে এক ব্যক্তি জানিয়েছিলেন যে হয়তো তিনি নেগেটিভ। তাই গত দুই দিন ধরে স্বাভাবিক চলাফেরা করেছি। শুধু ফজলুল হক কিংবা আব্দুল মালেকই নন নমুনা দেয়াদের মধ্যে অনেকে গেলো কয়েকদিন ধরে স্বাভাবিক চলাফেরা করেছেন। মিশেছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে বিভিন্ন স্থানে। তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকির দায় কার? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সিভিল সার্জনের মোবাইলে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More