চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত আরও ৪১ জন শনাক্ত : মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১২

নমুনা দিয়ে যারা ঘুরছেন জনগণের মাঝে তাদের অনেকেরই রিপোর্ট আসছে কোভিড-১৯ পজেটিভ : সামাজিক দুরত্ব না মানার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে 

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা দৌলাতদিয়াড়ের মারা যাওয়া কাছেদ আলী মোল্লা করোনা আক্রান্ত ছিলেন। এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় মোট ১২ জন কোভিড-১৯ রোগী মারা গেলেন। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে ৭০ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে নতুন করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪১ জন। নতুন শনাক্ত ৪১ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের ২৪ জন, জীবননগর উপজেলায় ১১ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৫জন ও দামুড়হুদা উপজেলায় ১জন।

চুয়াডাঙ্গায় নতুন ৪১ জন করোনা রোগী নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২৯ জন। গতকাল বুধবার আরও ২৯ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থতার সনদ পেয়েছেন ৩৭৩জন। বুধবার চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আরও ৮০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে। দামুড়হুদা উপজেলার নতুন শনাক্ত একজন রোগী আশা অফিসের। আর জীবননগর উপজেলার ১১ জনের মধ্যে উপজেলা পরিষদের দুজন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন, জীবননগর হাসপাতালপাড়ার একজন, শাপলাকলিপাড়ার একজন, শাখারিয়ার একজন, বসুতিপাড়ার একজন, পুরাতন তেতুলিয়ার একজন, বালিহুদার একজন, ঘোষপুরের একজন ও ধোপাখালির একজন। আলমডাঙ্গা উপজেলার ৫ জনের মধ্যে রামদিয়ার একজন, মাদরাসাপাড়ার একজন, ওসমানপুরের একজন, কালীদাসপুরের ১ জন ও উপজেলা শহরের বাবুপাড়ার একজন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ২৪ জনের মধ্যে ২০ জনই বসবাস করেন জেলা শহরে। এরা হলেন সদর হাসপাতালের দুজন, রেলপাড়ার ১জন, সবুজপাড়ার দুজন, কোটপাড়ার একজন, কেদারগঞ্জপাড়ার একজন, এতিমখানাপাড়ার একজন, যুব উন্নয়ন অফিসের ১ জন, মালোপাড়ার ৩ জন, পোস্টঅফিসপাড়ার একজন, ফার্মপাড়ার একজন, বাগানপাড়ার দুজন ও চুয়াডাঙ্গা সদরের গোপাল চন্দ্র ম-ল। এছাড়া জেলা শহরের বাইরে যে ৪জন তাদের মধ্যে সরোজগঞ্জের দুজন, শাহপুরের একজন ও হাতিকাটার একজন। চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট আক্রান্ত ৭২৯ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩৭৩জন। বুধবার পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে ছিলেন ৪৪ জন, বাড়িতে চিকিৎসাধীন ২৯৯জন।

প্রসঙ্গত: গত ৩০ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা শহরতলী দৌলাতদিয়াড় সরদারপাড়ার কাছেদ আলী মোল্লা বাড়িতেই মারা যান। করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনি বেশ কিছুদিন ভোগার পর মারা গেলে স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফনের অনুমোদন দেয়। তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ অর্থাৎ তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তার এক ছেলেও করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রয়েছেন। পুত্রবধূও আক্রান্ত ছিলেন। তবে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অপরদিকে করোনা উপসর্গে ভুগছেন চুয়াডাঙ্গার অনেকে। যারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েও সুস্থতা পাচ্ছেন না তাদেরই অনেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিচ্ছেন। অবাক হলেও সত্য যে, নমুনা দিয়ে অনেকেই ঘুরছে জনসমাবেশে। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কাজ করে বেড়াচ্ছেন নিবিঘেœ। দু-একদিন পর যখন করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসছে তখন দেখা যাচ্ছে তাদের অনেকেই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত। ফলে রিপোর্ট পেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বা হোম আইসোলশেন যাওয়ার আগে তারা করোনা ছড়াচ্ছেন। বিষয়টির দিকে বিশেষ নজর দেয়া না হলে পরিস্থিতির আরও খারাপের দিকে যেতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে জেলা করোনা বিস্তার প্রতিরোধ কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More