চুয়াডাঙ্গায় প্রতিরোধ কমিটির জরুরী সভায় সিদ্ধান্ত : নজরদারি জোরদারসহ বন্ধ এলাকার পশুহাট  

স্টাফরিপোর্টার :চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তি গ্রামগুলোতে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার ১৮ টিগ্রামে ১৪ দিনের লকডাউন অব্যাহত রয়েছে। করোনা যাতে ছড়িয়েনা পড়ে এবং তা মোকাবেলায় গতকাল রোববার বিকেলে করোনা প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা করেছে জেলা প্রশাসন । চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় করোনা প্রবণ এলাকায় কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ।

জরুরি সভায় স্বস্ব উপজেলাধীন নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন জেলা প্রশাসকের কাছে। গতকাল অবধি চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ১৮টি গ্রামকে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। নতুন করে লকডাউনের আওতায় আনা ৯টি গ্রাম হচ্ছে কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ফুলবাড়ি, চাকুলিয়া ও ঠাকুরপুর এবং পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের ঝাঁঝাডাঙ্গা, কামারপাড়া, বারাদী, নাস্তিপুর, ছোটবলদিয়া, বড়বলদিয়া ও মদনা। এরআগে ২ জুন কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের শিবনগর, হরিরামপুর, জাহাজপোতা, পীরপুরকুল্লা, মুন্সীপুর, কুতুবপুর ও হুদাপাড়া গ্রামে লকডাউন ঘোষণাকরে উপজেলা প্রশাসন। আলোচনায় আসে লকডাউন কার্যকরের পরও মানুষকে ঘরেআটকে রাখা যাচ্ছেনা। নানা অজুহাতে তাঁরা ঘর থেকে বের হচ্ছেন। চায়ের দোকানসহ মাচায় বসে আড্ডা দিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, আজ ( সোমবার ) থেকে বিধিনিষেধের তদারকিতে মাঠে থাকবে ভ্রাম্যমান আদালত  । জেলা সদরসহ আক্রান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জন প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হবে । করোনায় আক্রান্ত মানুষ গুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে । আজ (সোমবার) থেকে আগ্রহীদের বাড়ীতে পৌঁছে যাবে খাদ্যসহায়তা ।  জেলা প্রশাসক আরও জানান উপদ্রুত এলাকায় সবধরণের জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে । ডুগডুগি পশুহাটসহ বন্ধ থাকবে নাটুদহএলাকার পশুহাটও , চায়ের দোকান খোলা যাবেনা । জনপ্রতিনিধিদের সীমান্ত এলাকায় নজরদারিবাড়াতে বলেন জেলা প্রশাসক । গোপনে কে উসীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসলে সাথে সাথে তা প্রশাসনকে জানাতে হবে । লকডাউন বাস্তবায়নে সড়কে প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি মানুষের চলাচল ঠেকাতে পুলিশ, গ্রামপুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার উপরেও গুরুত্বারোপ করা হয় এ সভায়। অবৈধ ভাবেভারতে থেকে কেউ যেন দেশে ঢুকতে না পারে সে লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল জোরদার করার জন্য বিজিবিকে বলা হয় ।   এদিকে ,স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দামুড়হুদা উপজেলায় বর্তমানে ৯৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত দামুড়হুদা উপজেলায়  ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় অতি: জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) মনিরাপারভীন,অতিরিক্ত পুলিশসুপার  (প্রশাসন) আবু তারেকসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

 

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More