চুয়াডাঙ্গা আকন্দবাড়িয়া গ্রামের ২৫ বছর আগে মারা যাওয়া কৃষকের নামে বিজিবির মাদক মামলা

বেগমপুর প্রতিনিধি ঃ চুয়াডাঙ্গায় ২৫ বছর আগে মারা যাওয়া কৃষকের নামে মাদক মামলা করেছে বিজিবি। গত ১ মে জীবননগরের উথলী বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার নুরুল হক বাদী হয়ে দর্শনা থানায় মামলাটি করেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মৃত রমজান ম-লের ছেলে ২৫ বছর আগে মারা যাওয়া শরিফুল ইসলাম ( আকন্দবাড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ঘরজামাই ) ওই মামলার ৯ নম্বর পলাতক আসামি। তবে মামলার বাদী বলছেন মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে নাম ঠিকানা জেনে মামলাটি করায় এমনটি হয়েছে।
ঝিনাইদহের মহেশপুর ৫৮ সদর বিজিবির অধীন চুয়াডাঙ্গার উথলী বিজিবি কোম্পানি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার নুরুল হক (জেসিও নং ৭৫৭০) গত ১ মে দর্শনা থানায় একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারসূত্রে জানা গেছে, নায়েক সুবেদার নুরুল হক সঙ্গীয় সিপাহী মোস্তাক আহম্মেদ রাজ (৮১২২৬), দেলোয়ার হোসেন (৭৮৩২৭), মহিবুল (৯৩০৭৬) ও সুজন মাহমুদকে (১০১৯০৪) নিয়ে ৩০ এপ্রিল রাত পৌনে ১১টার দিকে মাদক বিরোধী অভিযান চালান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়ীয়া গ্রামে। এসময় বিজিবি ৬ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে ওই গ্রামের শরিফুলের স্ত্রী বিলু বেগম (৪৫), ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২৭) ও রমজান ম-লের ছেলে নিজামকে (৫২)। এ ঘটনায় নায়েক সুবেদার নুরুল হক বাদী হয়ে পরদিন সকাল সোয়া ১০টার দিকে আটককৃত তিনজনসহ পলাতক আরও ছয় আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলো একই গ্রামের নিজামের দুই ছেলে আকাশ (২৬) ও বাতাস (২২), আবদার আলীর ছেলে বিপুল (৩৫), আশকার আলীর ছেলে লিটন (৪০), মিজানের স্ত্রী সবুরা বেগম (৪০) এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের মৃত রমজান ম-লের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৫০)। ছয়জনকে পলাতক আসামি দেখিয়ে দর্শনা থানায় (জিআর ১১৩/২০২১) বিজিবি এজাহারটি দায়ের করে। আসামি পক্ষের লোকজন আদালত থেকে মামলার কপি সংগ্রহ করে দেখতে পান ৯নং পলাতক আসামি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মৃত রমজান ম-লের ছেলে কৃষক শরিফুল ইসলাম ২৫ বছর আগে মারা যান। মৃত শরিফুলের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘আমার বয়স যখন ৫ কি ৬ বছর তখন আমার পিতা বিষপানে আত্মহত্যা করেন।’ উজ্জ্বলের মামা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘২৫ বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে বিজিবি কেন মাদক মামলার আসামি করল সেটা আমাদের জানা নেই।’ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দর্শনা থানার এসআই হারুন অর রশিদ বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে গিয়ে জানতে পারি মামলার ৯নং পলাতক আসামি শরিফুল ইসলাম অনেক আগেই মারা গেছেন।’ এ ব্যাপারে মামলার বাদী বর্তমানে দর্শনার নিমতলা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার মো. নুরুল হক নিজের ত্রুটি স্বীকার করে বলেন, ‘ধৃত আসামিদের কাছ থেকে পলাতক আসামিদের নাম জানতে গিয়ে এমন ত্রুটি হয়ে গেছে। এখন তো আর কিছুই করার নেই। আমি বিষয়টি আদালতে গিয়ে মোকাবেলা করব।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More