চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের আয়োজনে শহিদ মিনারে অবস্থান ধর্মঘট, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি

স্টাফ রিপোর্টার:প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁকে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত সাংবাদিকরা অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন এবং প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছেন। চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব আয়োজিত এই আন্দোলন কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নিয়েছেন প্রথম আলো চুয়াডাঙ্গা বন্ধুসভা ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা ইউনিট।
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব হাসান কচির নেতৃত্বে সাংবাদিকরা বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন। জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার নিজ হাতে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসক এসময় বলেন,‘ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা আছি। অন্যায়ের পক্ষে কোনদিনই ছিলাম না। যে অন্যায় করবে সে শাস্তি পাবে, সে যেই হোক।’
সাধারণ সম্পাদক রাজীব হাসান কচি স্মারকলিপি পড়ে শোনান। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে,মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকার নিয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের হাতে নিপীড়িত হয়ে বর্তমানে জেলে অবস্থান করছেন। রোজিনাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের বিরুদ্ধে এই অবস্থান দেশের সংবিধান ও স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী, দুঃসহ ও চরম অগ্রহণযোগ্য।১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টসের আওতায় সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই যুগে এই সময়ে ব্রিটিশ আমলে করা আইনে মামলা দায়ের সংশ্লিষ্টদের সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের নেতিবাচক মনোভাব ও অশুভ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের চেষ্টার পাশাপাশি আগামী দিনের স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের জন হুমকি। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরণের হীন চেষ্টা সংবাদপত্রের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয় ও পেশাকে চ্যালেঞ্জের দিকে নিয়ে যায়। নজিরবিহীন এই ঘটনা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।
এদিকে স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকরা পূর্রঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এক ঘন্টার অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেন। চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক রাজীব হাসান কচি ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সভাপতি বর্ষীয়ান সাংবাদিক আজাদ মালিতা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন,অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্বাধীন সাংবাদিকতা ,মানবাধিকার ও নাগরিকের মানবিক মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। কারণ,বিভিন্ন দুর্নীতি,অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করে রোজিনা ইসলাম যাদের রোষানলে পড়েছেন, তাঁরাই এ দেশে সৎ সাংবাদিকতার কণ্ঠ রূদ্ধ করতে তাঁকে এভাবে হেনস্তা এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা সাজিয়েছে।
আমরা সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্তভাবে তাঁকে মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি। এবং একই সাথে তাঁকে হেনস্তাসহ পুরো ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
গতকালের আন্দোলন কর্মসূচিতে প্রথম আলোর চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি শাহ আলম সনি, দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক রহমান ও সহ-সম্পাদক ইসলাম রকিব,বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ ও সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা ইউনিটের সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান মুনি, সিনিয়র সাংবাদিক এমএম আলাউদ্দিন , শেখ সেলিম, মিজানুল হক মিজান, সাংবাদিক নেতা রিফাত রহমান, আতিয়ার রহমান, আবুল হাশেম, আব্দুস সালাম, হোসাইন মালিক, সাংবাদিক মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার, শামসুজ্জামান রানা, পলাশ উদ্দিনসহ গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More