জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষক সাদেককে কুপিয়ে খুন

গাংনীর হোগলবাড়ীয়ায় প্রতিপক্ষের ওপর আকস্মিক হামলা
গাংনী প্রতিনিধি: কৃষক সাদেক আলী গ্রামের মাঠে ধান রোপণ করতে গিয়েছিলেন। আপন মনেই কাজ করছিলেন তিনি। আকস্মিকভাবে পেছন থেকে হেঁসো দিয়ে কোপ দেয় এক ব্যক্তি। আকস্মিক আক্রমণ সামলাতে গিয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি আক্রমণকারীরা বল্লাম দিয়ে উপুর্যপরি তার পেটে আঘাত করে। নাড়িভুড়ি বের হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একইসাথে আহত হন সাদেক আলীর পক্ষের ১০ জন। এর মধ্যে গুরুতর আহত তিন জন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়ীয়া মাঠে এই রক্তাত্ত আক্রমণের ঘটনা ঘটে। নিহত সাদেক আলী (৬০) হোগলবাড়িয়া গ্রামের আফিল উদ্দীনের ছেলে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা বলে জানায় এলাকাবাসী। আহত ইদবার, বাদল ও তৌহিদুল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজক। তাদেরকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বিঘা খাস জমি নিয়ে হোগলবাড়িয়া গ্রামের সাদেক আলী গং ও খাইরুল ইসলাম গংয়ের সংঙ্গে একযুগ ধরে বিরোধ চলছিলো। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান। গত বুধবার ওই জমিতে সাদেক আলী গং ধানের চারা রোপণ করেন। বৃহস্পতিবার প্রতিপক্ষ খাইরুল ইসলাম গং ওই জমিতে রোপণকৃত চারা বিনষ্ট করে। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। শুক্রবার সকালে আবারও ওই জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে যান সাদেক আলী গং। এসময় ওৎ পেতে থাকা খাইরুল ও তার লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং লাঠিশোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সাদেক আলী। আহত হন তার সহযোগী আরো ১০ জন। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি সাতজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি শোকের ছায়া নেমে আসে নিহতের পরিবারসহ এলাকায়। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে যায়। অবশ্য কয়েক মিনিটের মধ্যে রক্তের খেলা সম্পন্ন করেই সটকে পড়ে হামলাকারীরা।
ঘটনাস্থলে পরিবারের লোকজন শোকে নিথর ছিলেন। কেউ কোন কথা বলতে পারেননি। কেউ কেউ গুমরে কাঁদছেন আবার কেউ কেউ মুছে চলেছেন চোখের জল। তাদের কারও কথা বলার মতো ভাষা ছিলো না। এমনকি প্রতিবেশীরাও ছিলেন হতবাক। অনেকটাই বাকরুদ্ধ গ্রামের লোকজন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। না জানি হামলাকারীরা তাদেরকেই আবার হামলা করে। ঘটনার পর থেকে গ্রামের মানুষ এতোটাই আতঙ্কিত ছিলেন যে হামলাকরীদের পরিচয় জানলেও মুখে প্রকাশ করছিলেন না। এর মধ্যে বিলাপ করে নাজমা খাতুন নামের নারী বলছিলেন কিছু কথা।
তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি নিয়ে অনেকবার স্থানীয়ভাবে সালিস করা হয়। সেই সালিস মানেনি খাইরুল গং। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। উচ্চাদালতে বিচারাধীন মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষরা অপেক্ষা করেনি। পেশিশক্তি দিয়ে বারবার জমি দখলের অপচেষ্টা করছিলো। যার চুড়ান্ত পরিণতি হিসেবে সাদেক আলীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি ধারালো হাসুয়া, একটি হাতুড়ি, দুটি বল্লম ও আটটি বাঁেশর লাঠি উদ্ধার করে।
গাংনী থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওই গ্রামে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্ত আর মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার রাফিউল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More