দোকানে বাকির ৫০ টাকার জন্য পিতা-পুত্রকে মারধর : ছেলের বিষপান : অভিযুক্ত দোকানদার আটক

বেগমপুর প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার কৃষ্ণপুর ডাক্তারপাড়ায় দোকান বাকির ৫০ টাকার জন্য ছেলে গামছা দিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে এবং পিতার দাড়ি ধরে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দোকানি তোরাফ হোসেন ও ছেলে সোহাগের বিরুদ্ধে। এ অপমান সইতে না পেরে ক্ষোভ ও অভিমানে ছেলে আরাফাত বিষপানে আত্মহত্যার অপচেষ্টা চালিয়েছে। আহত আরাফাতকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত দোকানি পিতা-পুত্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে গ্রামবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে। এদিকে ঘটনার পরপরই দর্শনা থানা পুলিশ অভিযুক্ত তোরাফকে আটক করতে পারলেও পালিয়ে যান অপর অভিযুক্ত সোহাগ।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর ডাক্তার পাড়ার জুলফিকার আলীর ছেলে আরাফাত আলীর নিকট ৫০ টাকা দোকান বাকি পায় একই গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে চা দোকানি তোরাফ হোসেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আরাফাত দোকানে গেলে দোকানী তোরাফ বাকি টাকার জন্য আরাফাতকে মারধর করে গামছা দিয়ে দোকানের খুঁটির সাথে প্রায় ১০ মিনিট বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এসে দোকানির নিকট থেকে তাকে ছাড়িয়ে দেয়। মাত্র ৫০ টাকার জন্য এ অপমান সইতে পারেননি আরাফাত। বাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। বাড়ির পাশের মাঠে গিয়ে বিষপান করে আত্মহত্যার অপচেষ্টা চালান আরাফাত (৪৫)। আহত আরাফাতকে বাড়িতে প্রথমিক চিকিৎসা দেয়া হলেও তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। দুপুরের পর তাকে চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের লোকজন জানায়। এদিকে পরক্ষণই বাকি টাকার জন্য ছেলে বেঁধে রাখার খবর পেয়ে পিতা জুলফিক্কার আলী (৭০) ছেলের বাকি টাকা শোধ দেবার জন্য তোরাফ হোসেনের দোকানে যায় এবং পকেট থেকে ১শ টাকার একটি নোট বের করে ছেলের কাছে পাওনা বাকি টাকা রাখার জন্য দোকানিকে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানে বসে থাকা তোরাফের ছেলে সোহাগ (২২) বৃদ্ধ জুলফিক্কারে মারধর করে দাড়ি ধরে টানা হেচড়া করে। চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে জুলফিক্কারকে সোহাগের হাত থেকে মুক্ত করে। সামান্য দোকান বাকির ৫০ টাকার জন্য দরিদ্র পিতা-পুত্রের সাথে এহেন আচরণ করায় গ্রামবাসী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার পরপরই দর্শনা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দোকানদার তোরাফকে আটক করতে পারলেও পালিয়ে যায় অপর অভিযুক্ত ছেলে সোহাগ। এ ব্যাপারে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি লুৎফুল কবির বলেন, দোকানদার তোরাফকে আটক করা হয়েছে। বাদিপক্ষ অভিযোগ করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More