নিবন্ধনের মাধ্যমে ভয় কাটিয়ে টিকা নেয়ার আহ্বান

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরসহ সারাদেশে করোনা টিকাদান কর্মসূচি শুরু

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরসহ সারাদেশে করোনা টিকা দান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার সারাদেশে করোনার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের সব টিকা কেন্দ্রে নিজ নিজ এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, রাজনীতিবিদসহ জনপ্রতিনিধিরা টিকা নেবেন। তারা এই টিকা কার্যক্রমকে চালিয়ে নেয়ার জন্য অন্যদের উদ্বুদ্ধ করবেন এবং বিশেষ করে ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স তাদের টিকা নেয়ার সুযোগ করে দেবেন। চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রথম দিন ৪২০ টিকা দেয়া হয়েছে। সারাদেশে প্রথম দিনে ৩১ হাজার ১৬০জন টিকা নিয়েছেন। সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি ১ হাজার ৫টি হাসপাতালে সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত নিবন্ধিত ব্যক্তিদের টিকা দেয়া হয়। শুরুর দিন ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে টিকা দেয়ার প্রস্তুতি রেখেছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। সারাদেশে ২ হাজার ৪০০টি দল টিকা দিতে কাজ করেছে। টিকা নেয়ার জন্য আগে থেকে নিবন্ধন করতে হয়েছিল তাদের। এছাড়া টিকাদানকেন্দ্রেও নিবন্ধনের সুযোগ ছিল। প্রথম দিন টিকা দেয়ার সময় গ্রহীতাকে বলে দেয়া হয় দ্বিতীয় ডোজের তারিখ। গতকাল রোববার দেশজুড়ে শুরু হওয়া করোনাভাইরাসের গণটিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনে টিকা নেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও।
চুয়াডাঙ্গায় করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। প্রথমে জেলার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসানকে দেয়া হয় কোভিড-১৯ এর টিকা। তাকে টিকা দেন সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রোজিনা খাতুন। পরে টিকা নেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গা শাখার সভাপতি ডা. মার্টিন হিরক চৌধুরী, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সদস্য পলাশ উদ্দিনসহ আরও অনেকে। পুলিশ হাসপাতাল কেন্দ্র থেকে টিকা নিয়েছেন পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। প্রথম দিন ৪২০ জনকে দেয়া হয়েছে ভারত সরকারের উপহার করোনাভাইরাসের টিকা। সুরক্ষা অ্যাপসে নিবন্ধন করা ব্যক্তিদেরই কেবল ওই টিকা দেয়া হবে।
টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গা শাখার সভাপতি ডা. মার্টিন হিরক চৌধুরীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এ সময় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত যেমন বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো, ঠিক সেভাবেই এই মহামারীর সময়েও পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে বিরোধী দল বিএনপি অনেক রাজনীতি করছে। তারা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। তাদের ধারণা ভুল বলে প্রমাণিত করতে মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারাই সবার আগে টিকা নিচ্ছেন।
টিকা নেয়ার পর চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান জানান, টিকা নেয়ার পর কোনো অস্বস্তিবোধ হচ্ছে না। কারণ এই টিকার কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে আমিই প্রথমে টিকা নিয়েছি। এতে অন্যরা টিকা নিতে আগ্রহী হবেন। তাদের ভেতর থেকে ভয় দূর হবে।
পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান, এখনও কোনো সমস্যা হয়নি। পুলিশের অন্যান্য সদস্যদের উৎসাহিত করতে জেলা পুলিশের প্রধান হিসেবে আমিই প্রথম টিকা নিয়েছি। করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে দেশে একটি মহৎ কাজের শুরু হলো। এ সময় পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গা সকল পুলিশ সদস্যদের টিকা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষে প্রথম টিকা গ্রহণ করায় পুলিশের সকল সদস্যের মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে সদর হাসপাতালে ৮টি কেন্দ্র, বিজিবি হাসপাতাল ও পুলিশ হাসপাতালে ১টি করে কেন্দ্রে এবং উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৩টি করে কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি চলবে। টিকাদান কর্মসূচি সকাল ৮টায় শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
আলমডাঙ্গা ব্যুরো জানিয়েছে, আলমডাঙ্গায় করোনার প্রথম টিকা নিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের বয়োবৃদ্ধ চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। গতকাল রোববার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি টিকা গ্রহণ করেন। তাকে টিকা দেয়ার মধ্যদিয়ে আলমডাঙ্গায় টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এরপর টিকার ডোজ গ্রহণ করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ সাঈদ, সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলামসহ অনেকে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিটন আলী। টিকা নেয়ার পর তাদের আধা ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। টিকা গ্রহণের পর আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের বয়োবৃদ্ধ চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন জানান, ‘আমি তো হাসতে হাসতে টিকা নিলাম। টিকা যে নিলাম, সেটা টেরই পেলাম না। বসে আছি, কোনো সমস্যা হচ্ছে না। লোকের কথায় কান না দিয়ে সকলের উচিত স্বেচ্ছায় এ টিকার ডোজ গ্রহণ করা।’
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, দামুড়হুদায় কোভিট-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান আলি মুনছুর বাবু কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দামুড়হুদা উপজেলায় প্রথম কোভিট-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন দর্শনা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক আরিফ। এ উপলক্ষে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান আলি মুনছুর বাবু। দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু, ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ও দর্শনা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক আরিফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা ওয়াহিদ, মেডিকেল অফিসার ডা. ওয়ালিদ মাহমুদ প্রমুখ। ডা. আবু হেনা জামান শুভ জানান, ইতোমধ্যেই এ উপজেলার জন্য আমরা ৬ হাজার ডোজ করোনা টিকা পেয়েছি। এরই মধ্যে নিবন্ধন করেছে ১৯৪ জন। নিবন্ধন রয়েছে চলমান। উদ্বোধনী দিনে ২০ জনকে করোনা টিকা দেয়া হয়েছে। মাসে ১২দিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিদিন ৩০ জনকে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২২ জন কর্মী এবং সেচ্ছাসেবী ৪৪ জন।
জীবননগর ব্যুরো জানিয়েছে, জীবননগরে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন টিকার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা খাতুন এ উপজেলায় প্রথম করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণকারী হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মুনিম লিংকন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকি, থানা অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তজা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিমা আখতার, আরএমও মাহমুদ বিন হেদায়েদ সেতু, মেডিকেল অফিসার হেলেনা আক্তার নিপা, ডা. মেহেদলী আল মাসুম, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এমআর বাবু ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জিএ জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএফএইচপিও ডা. সেলিমা আখতার জানান, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য শনিবার পর্যন্ত এ উপজেলায় ২১৮জন নাম রেজিস্ট্রেশন করেছেন। রেজিস্ট্রেশনের এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গতকাল এ উপজেলায় ২৩ জনকে করোনা ভাইরাসরে ভ্যাকসিন দেয়া হয় বলে জানানো হয়েছে। জীবননগর উপজেলাবাসীর জন্য ইতিমধ্যে ৩ হাজার ডোজ টিকা এসেছে বলে জানা গেছে।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, মেহেরপুর জেলায় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর আগে সকালে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্টোলিভার হাসপাতালে টিকা গ্রহণ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রথম টিকা গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান। এরপর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন, ইউপি আই সুপার আব্দুস সালাম ও সিনিয়র নার্স দিপালী রোজারিও টিকা গ্রহণ করেন। রেস্ট্রিস্টেশন অনুযায়ী মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ৯টি বুথ ও গাংনী এবং মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে বুথে টিকা প্রদা করা হচ্ছে বলে জানান সিভিল সার্জন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় কোভিড নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড পরিস্থিতির প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী তার দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। কোডিভ মোকাবেলায় বিশে^র যে ২০টি দেশ সবচেয়ে ভালো করছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এটি অত্যান্ত গর্বের একটি বিষয়। এ মোকাবেলার ক্ষেত্রে আমরা বিশ^ স্বীকৃতি ইতোমধ্যে পেয়েছি। এ রোগটি নিয়ন্ত্রণ করে আমরা এখন কিন্তু ইউরোপের থেকে বা বিশে^র যেকোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অত্যান্ত সম্মানজনক অবস্থায় আছে। এতো দ্রুত সময় আর্টিফিসিয়াল মেশিনসহ সমস্ত প্রকার ব্যবস্থা আমরা করতে পেরেছি। টিকা নিতে মেহেরপুর জেলাবাসীসহ সারাদেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
টিকা নিয়ে গর্ব অনুভব করছি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, এটি অত্যান্ত সেইফ একটি টিকা। সমস্ত বৈজ্ঞানিক প্রটোকল যথাথভাবে মেইনটেইন করে এই টিকাটি আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অত্যান্ত দূরদর্শিতার সাথে বুঝে শুনে সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে বিশেষ করে প্রবাসে বাংলাদেশের যে সকল বিজ্ঞানিরা রয়েছেন তাদের সাথে আলাপ করে এবং বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে কথা বলে সেফ টিকাটি তিনি আমাদের জন্য সংগ্রহ করেছেন। এতো তাড়াতাড়ি এই টিকা পেয়েছি তা মেহেরপুরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান। অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) পল্লব ভট্টাচার্য।
স্বাগত বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন বলেন, আজ আনন্দের দিন যে, দীর্ঘ পরিক্রমায় কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণে সফলতার মধ্যদিয়ে আমরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছি। রেজিস্ট্রেশন করলে মোবাইলে ভ্যাকসিন গ্রহণের তারিখ ও সময় পেয়ে যাবেন। আগামী ১২দিন এ কার্যক্রম চলবে। এখনও যারা রেজিস্ট্রেশন করেননি তাই আজই রেজিস্ট্রেশন করুন। এ টিকায় মারাত্মক কোন পাশর্^প্রতিক্রিয়া নেই বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, বিশে^র সবচেয়ে ভালো টিকা আমরা পেয়েছি। সকল অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে আমরা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিকা প্রয়োগ সম্পন্ন করবো। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী টিকা নিয়ে আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন আমরাও সকলেই টিকা গ্রহণ করে অন্যান্য মানুষকেও উৎসাহিত করবো।
এদিকে গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একযোগে শুরু হয়েছে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান কার্যক্রম। মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন প্রধান অতিথি হিসেবে গতকাল দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম রিয়াজুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাংনী থানার ওসি বজলুর রহমান। গাংনী হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) আব্দুর রশিদ প্রথম টিকা গ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত. শনিবার সকাল পর্যন্ত টিকা নিতে মেহেরপুর জেলায় রেজিস্ট্রেশন করেছেন এক হাজার ২০৯ জন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঝিনাইদহে করোনার গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে জেলার সদর হাসপাতালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলায় প্রথম টিকা গ্রহণ করেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি। পরে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা টিকা গ্রহণ করেন। সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, উদ্বোধনী দিনে ১০৪ জনকে টিকা দেয়া হবে। এর আগে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনাসভা। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি, পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগমসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
কালীগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে করোনার প্রথম ভ্যাকসিন নিলেন স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার। রোববার বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তিনি নিজের শরীরে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেই করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্র্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী ঠা-ু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রানী সাহা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ পারভীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামিমা শিরিন লুবনা, হাসপাতাল স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য মোচিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম রসুল ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামিমা শিরিন লুবনা জানান, রোববার স্থানীয় সাংসদের শরীরে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ দিনে কালীগঞ্জের ১৫১ জনকে ভ্যাকসিন পুশ করা হবে। ইতোমধ্যে তাদের হাতে ৯’শ ৫৬ ভায়াল করোনা ভ্যাকসিন এসে পৌঁচেছে। প্রতি ভায়াল ভ্যাকসিন থেকে মোট ১০ জনকে দেয়া যাবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার দাস, ডা. অরুন কুমার দাস, ডা. সুলতান আহম্মেদ, ডা. খুরশিদ নাজনিন, ডা. সম্পা মোদক প্রমুখ।
মহেশপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিড-১৯ টিকার উদ্বোধন করলেন স্থানীয় এমপি চঞ্চল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাশ্বতী শীলের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল আজম খাঁন চঞ্চল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ময়জদ্দীন হামীদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক আজা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা খাতুন হেনা প্রমুখ।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More