ফলজ গাছের চারা রোপণসহ সমবায় ভিত্তিতে সমন্বিত চাষ-আবাদের গুরুত্বারোপ

স্টাফ রিপোর্টার: ‘বছর ব্যাপী ফল চাষে, অর্থ পুষ্টি দুই আসে’ স্লোগান সামনে মেলে ধরে চুয়াডাঙ্গায় ৩ দিনের ফল মেলা শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের কবরী রোডস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। এলাকায় উৎপাদিত দেশি-বিদেশি হরেক রকম ফল ফললীর প্রসার সাজিয়ে বসেছেন জেলার বেশ ক’জন সফল কৃষি উদ্যোগতা।
বেলুন উড়িয়ে, মেলার স্টোলগুলোর ফুলেল ফিতে কেটে মেলা উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠানমালার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ অমিনুল ইসলাম খান, প্রধান অতিথি বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক চুয়াডাঙ্গার কৃতিসন্তান ড. হামিদুর রহমান, বিশেষ অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনকে সাথে নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণের চুয়াডাঙ্গা উপপরিচালক কৃষিবিদ বিভাস চন্দ্র সাহা মেলার স্টোলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখান। আম জাম, কাঁঠাল, আনারস, কলা কামরাঙ্গাসহ এমন কোনো ফল নেই যে, মেলার স্টোলগুলোতে ঠাঁই পায়নি। ডাবের পানি বিশেষভাবে উপস্থাপন করেও দৃষ্টি কেড়েছেন একজন নারী কৃষি উদ্যোগতা। স্টোল পরিদর্শনের পর প্রধান অতিথি ড. হামিদুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান ও বিশেষ অতিথি রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন তিনটি আমের চারা রোপণ করেন। রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনের রোপণকৃত আমের চারাটি বছরে তিনবার আম ধরবে। চারা রোপণের সময়ও কয়েকটি আমের মুকুল ছিলো।
ফলজ গাছের চারা রোপণের পর উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভা শেষে উপস্থিত নারী কৃষি উদ্যোগতাদের মধ্যে বিভিন্ন ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. হামিদুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ থেকে ৫০ বছর আগে কৃষকদের সম্মিলিত হয়ে সমবায় ভিত্তিতে সমন্বিত আবাদের তাগিদ দিয়েছিলেন। সেই তাগিদ এখনও পদে পদে আমাদের উপলব্ধি হচ্ছে। সম্মিলিতভাবে সমন্বিত আবাদ মানে, যে মাঠ যে আবাদের জন্য উপযোগি সেই মাঠে সকলে সেই আবাদই করবে। একই সাথে পাতু দেয়া, একই সাথে রোপন, একই সাথে সেচসহ যাবতীয় পরিচর্যার পর কাটতে পারলে উৎপাদন বড়বে বহুগুণ। কৃষকেরা জমির পরিমান হিসেবে হিস্যা নেবেন। খরচ কমবে অনেক। খাটুনি কমবে। আয় বাড়বে। দেশ সমৃদ্ধতার পথে এগোবে আরও এক ধাপ। সমন্বিত আবাদের উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা এখন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই। মানুষ বাড়ছে। আবাদি জমি কমছে। বেশি ফলনের বীজও বিজ্ঞানিরা পাল্লা দিয়ে উদ্ভাবন করে তা কৃষকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। দেশে কৃষকদের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভর্তুকি মূল্যে সার সরবাহ করছেন। এ সার বীজ সঠিকভাবে সঠিক সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করে দেশকে প্রধানমন্ত্রী যে খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে রেখেছেন তা সত্যিই গর্বের বিষয়। বিশে^র অনেক দেশ যখন টালমাটাল অবস্থায় তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণের উদ্যোগে ফল মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক। তিনি মরসুমি ফল মানব দেহের জন্য কতোটা প্রয়োজনীয়, কতটা পুষ্টি জোগায় তার সারসংক্ষেপ বর্ণনা করে সরিষার তেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অতিথি ছিলেন জেলা কৃষ্টি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বিশেষ অতিথি রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বলেন, আমাদের চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের মাটি খুবই সুফলা। এ মাটিতে যা করা যায় তাই হয়। কৃষকেরা বংশ পরম্পরায় একের পর এক ফসল ফলিয়ে নিজেদের যেমন ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে চলেছেন, তেমনই দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনে অবদান রাখছেন। কৃষকদের পাশে সব সময় আওয়ামী লীগ সরকার রয়েছে। কৃষি বিভাগে যারা কর্মরত রয়েছেন তারা সকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এবং কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির জোগান দিচ্ছে। আরও আন্তরিক হলে কৃষিপ্রধান দেশের কৃষকেরা আরও অবদান রাখতে পারবেন। তিনি উপস্থিত নারী কৃষি উদ্যোগতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাড়ির আঙিনায় সামান্য জমিতে সবজিসহ ফল ফলার গাছ লাগিয়ে নারীরা যে অবদান রাখছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। প্রয়োজনে এ ধরণের উদ্যোগতাদের পুরস্কৃতও করার উদ্যোগ নিতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের উপস্থাপতি সভায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের বনকাঠাল থেকে শুরু করে দেশীয় বিভিন্ন প্রকারের ফলফলারি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। ৩দিনের এ মেলা শেষ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। মেলায় সর্বস্তরের সকলকে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More