বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে ২৪ মে : মার্চে হল খোলার দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা

ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন অব্যাহত : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদুল ফিতরের পর আগামী ২৪ মে খুলবে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়। এর এক সপ্তাহ আগে ১৭ মে খুলে দেয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল। এই সময়ের মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার আবাসিক ছাত্র-ছাত্রীকে টিকা দেয়ার কাজ শেষ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদেরও টিকা দেয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীরা মার্চেই আবাসিক হল খুলে দেয়ার দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। গতকাল সোমবার শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পাস খোলার আগে কোনো ধরনের পরীক্ষা নেয়া যাবে না। তবে অনলাইনে ক্লাস অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরাই হলে উঠে গেছেন তাদের অবিলম্বে হল ত্যাগের আহ্বান জানান। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ক্যাম্পাস খোলার এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখে বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ও পরীক্ষার তারিখ পেছানো হবে। করোনার কারণে বয়স অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, এ বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে হল খুলে দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন অব্যাহত। এর মধ্যেই সোমবার দুপুরে হঠাৎ ডাকা এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে উল্লিখিত ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মন্ত্রীর এই ঘোষণায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর এই ঘোষণা ‘প্রত্যাখ্যান’ করে হলেই অবস্থান করছেন। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১ মার্চের আগে হল খুলে দেয়ার দাবি জানালেও পরে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। এছাড়া সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এর আগে ১৩ মার্চ কেবল পরীক্ষার্থীদের জন্য হল খোলার ঘোষণা দিয়েছিলে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি আজকে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডেকেছে।
ওদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পরিস্থিতি আছে কিনা তা পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যেই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের আগেই মন্ত্রিপরিষদের ভার্চুয়াল সভা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ব্রিফিংটি অনুষ্ঠিত হয়।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সঙ্গে এ সপ্তাহের মধ্যেই বৈঠকে বসার চিন্তা চলছে। বিশেষ করে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করা হবে। এরপরই স্কুল, কলেজ, মাদরাসা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়ে বন্ধের মেয়াদ দাঁড়াচ্ছে ১৪ মাস এক সপ্তাহ। কয়েক মাস ধরে অনলাইনে ক্লাস এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি পরীক্ষা চলছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার আরও কিছু সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। এছাড়া অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৭টি। তবে কার্যক্রম চালু আছে ৯৭টিতে।
মন্ত্রী বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ঈদুল ফিতরের পর আগামী ২৪ মে থেকে শুরু হবে। এর আগে আগামী ১৭ মে হল খুলে দেয়া হবে। হল খোলার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনার টিক দেয়া হবে। তবে যদি কোনো শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিন না নেয়ার ক্ষেত্রে যৌক্তিক কারণ থাকে তবে তা বিবেচনা করা হবে। আর এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি নেবে কর্তৃপক্ষ। হলগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করবেন।
মন্ত্রী বলেন, ২৪ মের আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো পরীক্ষা হবে না। তবে অনলাইনে ক্লাস চলবে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখে বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ও পরীক্ষার তারিখ পেছানো হবে। করোনার কারণে বয়স অতিক্রম হয়ে যাওয়া কোনো পরীক্ষার্থী যেন এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা হলে আছেন, তাদের অবিলম্বে তা (হল) ত্যাগ করতে হবে। এছাড়া কেউ যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করেন, তবে এর দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রহণ করবে না। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, প্রয়োজনে ভর্তি পরীক্ষার তারিখও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার তারিখের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের ভবিষ্যত। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। তড়িঘড়ি করে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের করোনার নিয়ন্ত্রণের যে সাফল্য, তা নষ্ট করে দেয়া যেতে পারে না। তাই সরকারি ও বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট ২২০টি আবাসিক হল আছে। এতে আবাসিক শিক্ষার্থী প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার। যাদের সবাইকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা দেওয়া হবে।
এ সময় মন্ত্রী জানান, দেশে এখন মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে অন্তত এক ডোজ, আর সম্ভব হলে দুই ডোজই টিকা দেয়ার পরিকল্পনা আমাদের আছে। স্কুল-কলেজ খোলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। তার আগে করোনা মোকাবিলা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে স্কুল-কলেজে আবাসিক ব্যবস্থা নেই। তাই তাদের ব্যাপারে আমরা ভিন্ন চিন্তা করতে পারছি। এখন পর্যন্ত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি আছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত নয়। কারণ যারা ভর্তি পরীক্ষা দেবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। তারপরও প্রয়োজন মনে করলে ভর্তি পরীক্ষার তারিখও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা যেতে পারে।
করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়ালি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যোগ দেন।
বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ডেকে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে একটা সিদ্ধান্তে আসতে বলা হয়েছে। তারা প্রিভিউ করবে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবো কি না এবং কখন খুলবো। দ্রুত খোলা যায় কি না, কী পদ্ধতিতে খুলবো- যাতে সেইফটিও ঠিক থাকে, একইসঙ্গে লেখাপড়াও হয়। কারণ অনেক দিন হয়ে গেছে। অন্যান্য দেশে ভার্চুয়ালি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাই আছে। সেইসব দৃষ্টিকোণ থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন- ‘আপনারা বসে চিন্তাভাবনা করেন আমরা খুলে দিতে পারি কি না।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হচ্ছে গ্রামে-গঞ্জের ছেলেমেয়েরা একটু ফ্রিলি মুভ করছে। উনি (প্রধানমন্ত্রী) যেটা বলেছেন, আগে শিক্ষক ও কর্মচারীদের ভ্যাকসিনটা কনফার্ম করতে হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা গেট ভেঙে হলে প্রবেশ করছে। এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছি কি না- জবাবে খন্দকার আনোয়ার বলেন, ‘আলোচনা হয়নি। তবে এটা আলোচনা হয়েছে যে, বিশেষ করে যারা আবাসিক শিক্ষার্থী তাদের সেইফটিটাই হলো সবচেয়ে বড় রিস্কের বিষয়। তাদের জন্য সেইফটি মেজার্স নিয়ে কীভাবে স্কুল-কলেজ খোলা যায়, সেটা পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।’
তবে কী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই সপ্তাহে না হলে আমরা আগামী রোব-সোমবারের মধ্যে ইনশাআল্লাহ মিটিংয়ে বসব। বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনের সবাইকে নিয়ে বসে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারব। এটা আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিং হবে। কারণ অনেককে লাগবে। সরকার খোলার পরিবেশটা প্রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আবাসিক হল খোলার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। কর্মসূচি থেকে হল খোলার সিদ্ধান্ত নিতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীদের একটি দল হৈ-হুল্লোড় করে প্রবেশ করেছে। অমর একুশে হলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। যদিও পরবর্তীতে তারা আর হলে প্রবেশ করেনি। এ অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে আজ সকালে বসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের বিশেষ সভা। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার সাড়ে দশটায় একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং রয়েছে। জাতীয় সিদ্ধান্ত, প্যানডেমিক সিচুয়েশন, শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনেশেনর আওতায় আনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত হবে। শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র জুনাইদ হুসেইন খান বলেন, সেশনজট যাতে আর দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য মার্চ থেকেই হল খুলতে হবে। করোনার আতঙ্ক এখন আর নেই। আমরা ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি না, কারণ প্রশাসনিক অনেক বিষয় আছে। ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে মার্চে হল খোলার বিষয়ে লিখিতভাবে নোটিশ দিতে হবে। সমাবেশ শেষে এই দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে।
শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে শিক্ষার্থীরা হলে এসেছিলো। এখন কেউ সেখানে নেই। অমর একুশে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইসতিয়াক এম সৈয়দ যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীরা হলে ঢুকেছিলো, পরবর্তীতে বের হয়ে গেছে।
আবাসিক হল খোলা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন হল ছাড়তে কড়া নির্দেশ দিলেও সেদিকে কর্ণপাত করেনি শিক্ষার্থীরা। উল্টো নতুন করে তালা ভেঙে হলে অবস্থান নিয়েছে তারা। ছেলেদের ৮টি হলে প্রত্যেকটিতেই শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করেছে। মেয়েদের ৮ হলের একটিতে ছাত্রীরা থাকতে শুরু করেছে। অপরদিকে শিক্ষামন্ত্রীর হল ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার রোডম্যাপ ঘোষণার পরে সেটিকে সাধুবাদ জানিয়ে ‘শ্রদ্ধার সাথে প্রত্যাখ্যান’ করেছে হল খোলার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। শারমীন আক্তার সাথী বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে। এ অবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। হলই আমাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল। তাই আমরা হলে অবস্থান করব এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ছাত্রী হলে শিক্ষার্থীরা উঠবে।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান যুগান্তরকে বলেন, হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল টিম শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার অনুরোধ করেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে রাজি হয়নি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিভিন্ন হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা পরিবহণ চত্বরে জড়ো হন। সেখান থেকে দুপুর ১২টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের সামনে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা হলের তালা ভেঙে হলে অবস্থান শুরু করে। ছেলেদের আবাসিক হলগুলো ঘুরে দেখা যায়, কোনো শিক্ষার্থী হল ছাড়েনি, উল্টো নতুন করে হলে আসতে শুরু করেছেন। এদিকে হলে ঢুকলেও শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করেনি প্রশাসন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলো ১ মার্চের আগে খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তা না হলে ১ মার্চ যেকোন মূল্যে আবাসিক হলে ঢুকবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সোমবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে সমবেত হন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকেই এই ঘোষণা দেয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার বিষয়ে ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে না আসে, তবে ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা হবে। ১ মার্চ আমরা যার যার হলে প্রবেশ করব। যদি হলে প্রবেশের সুযোগ না দেয়া হয় তাহলে হলের বাইরে অবস্থান করবো। তারা বলেন, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের মজুত আছে এবং দরকার হলে চলতি মাসের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিন গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে রোববার হল এবং ক্যা¤‹াস খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে হল ও ক্যা¤‹াস খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়া হয়।
আবাসিক হল খোলার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার বেলা ১১টা থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও বিভিন্ন আবাসিক হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তারা। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্তে নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে সোয়া ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আতাউর রহমান। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমরা পরীক্ষা নিতে রাজি না।’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৪ মে এবং হলসমূহ খোলা হবে আগামী ১৭ মে। যেহেতু সরকারি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় খুললে পরবর্তীতে পরীক্ষা নেয়া হবে। চলমান পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হবে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More