মামলা থাকায় চুয়াডাঙ্গার ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না : একটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিলেও বাকী ৬টি ইউপিতে প্রশাসক নেই

রফিকুল ইসলাম: চুয়াডাঙ্গায় নবগঠিত দুটিসহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দীর্ঘ ৫ বছরেও অনুষ্ঠিত না হওয়ায় নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়নবাসী। সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে একটিতে প্রশাসক পদে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিলেও অপর ছয়টি ইউপিতে প্রশাসক না দেয়ায় নাগরিকদের মধ্যে এক প্রকার ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা অবিলম্বে প্রশাসক নিয়োগের দাবি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদে সর্বশেষ ২০১১ সালের ৫ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসেবে এ ইউপিতে ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু দীর্ঘ ৫ বছরেও এ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি কিংবা প্রশাসক নিয়োগ করা হয়নি। শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হলেও তারও কার্যক্রম চালু হয়নি।
তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের পর গত ১ বছর আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অথচ, তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালেল ৫ জুন। ২০১৬ সালে ৪ আগস্ট তিতুদহ ইউপির মেয়াদ শেষ হলেও এখনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে, ওই ইউনিয়নে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালের ৫ জুন। এ ইউপিতে ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ৫ বছর পার হলেও এ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি কিংবা কোন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়নি। এ ইউনিয়নে নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। অথচ, নেহালপুরের কার্যক্রমও চালু হয়নি। কিন্তু কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালের ২১ জুন। এ ইউনিয়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের ২০ জুন। দীর্ঘ ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন কিংবা প্রশাসকের ব্যবস্থা করা হয়নি।
একইভাবে, হাউলী ইউনিয়ন পরিষদে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত ২০১১ সালের ২১ জুন। এ ইউনিয়নে মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের ২০ জুন। এ ইউপির মেয়াদের দীর্ঘ ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি কিংবা প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়নি।
নির্বাচন না হওয়ার কারণসমূহ: শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন বিভাজন করে শঙ্করচন্দ্র ও মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এ দুটি ইউনিয়নের সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত ইস্যুতে ২০১৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিভাজনের গেজেট প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেজ্ঞ করে হাইকোর্ট ডিভিশনে ২০১৫ সালে একটি রিট পিটিশিন দাখিল হয়, যার নং ৮৯৮৮/১৫। পরবর্তীতে আদালত থেকে আর কোনো আদেশ পাওয়া যায়নি। তবে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ২০২০ সালের ২০ জুন ইস্যুকৃত ইনফরমেশন স্লিপ অনুযায়ী মামলাটি বর্তমান বিচারধিীন আছে মর্মে জানা যায়।
তিতুদহ ইউনিয়নের ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ সংকান্ত হাইকোর্ট ডিভিশনে দায়েরকৃত রিট পিটিশন মামলা নং ৬৫৮৮/২০১৬ এর আদেশ অনুযায়ী পুনঃ সীমান্ত নির্ধারণ শেষে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। দাবিটি নিষ্পত্তি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ২০২১ সালেল ২৬ জুন পত্রের নির্দেশক্রমে উক্ত ইউনিয়নের ভোটার তালিকা বিভাজনের জন্য পুনঃবিন্যাসকারী ও সহকারী পুনবিন্যাসকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ভোটার তালিকা বিভাজনের কাজ সম্পন্ন করে নির্বচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ভোটার তালিকার কাজ সম্পন্ন হলে তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বেগমপুর ইউনিয়ন বিভাজন করে বেগমপুর ও নেহালপুর ইউনিয়ন গঠন করা হয়। সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত ইস্যুতে ২০১৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিভাজনের গেজেট প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট ডিভিশনের ২০১৫ সালে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়, যার নং ৮৯৮৯/১৫। তবে হাইকোর্ট ডিভিশন বিভাগ কর্তৃক ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর ইস্যুকৃত ইনফরমেশন স্লিপ অনুযায়ী বর্তমান বিচারাধীন আছে মর্মে জানা যায়।
পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে পিটিশন নং ৭৭৬৭/২০১৮ মামলা চলমান আছে। পিটিশন নং ৭৭৬৭/২০১৮ সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত হাইকোর্টর নিকট হতে সর্বশেষ আদেশ ৬ মাসের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন দাখিল করেছেন।
হাউলী ইউনিয়নে হাইকোর্ট বিভক্তি নিয়ে পিটিশন নং ৮৬৮৮/২০১৭ চলমান আছে। পিটিশন নং ৮৬৮৮/২০১৭ সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত হাইকোর্ট এর নিকট হতে সর্বশেষ আদেশ ৬ মাসের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন দাখিল করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেমদ বলেন, মামলা থাকার কারণে যেসকল ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা বিভাজন করা কিংবা এ ধরণের যেকোন মামলা পরিচালনা সংক্রান্ত কাজ স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রলালয়ের আওতাভুক্ত। এ ব্যাপারে মামলা চ্যালেঞ্জ করে মামলা পরিচালনা করা স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর এখতিয়ার আছে। এ কারণে চুয়াডাঙ্গা জেলার যেসকল ইউনিয়নে মামলার কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন না। ইউনিয়ন পরিষদ বিভাজন বা অন্য কোন কারণে যেসকল মামলা/ রিট পিটিশন রয়েছে, তা আদালত কর্তৃক মিমাংসা হওয়া স্বাপেক্ষে উক্ত ইউনিয়নসমূহ নির্বাচনের উপযোগী হবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More