মেহেরপুরে আরও ৭ জনের মৃত্যু : করোনা আক্রান্ত ৭৫

লকডাউন সফলে প্রশাসনের সচেতনতা ও প্রচারণা অব্যাহত

মেহেরপুর অফিস: মেহেরপুরে প্রতিদিন করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে ঘটে যাচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত ৭জন রোগী মারা গেছেন। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫জন। আক্রান্তের হার শতকরা প্রায় ৪৭ ভাগ। এতে মেহেরপুরে সচেতন মানুষের মাঝে বাড়ছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মেহেরপুরের লকডাউন কঠোরভাবে পালনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তবে সফলভাবে শহরে লকডাউন পালিত হচ্ছে। আর অধিকাংশ গ্রামে লকডাউন চোখে পড়ার মতো নয়। গত ২৪ ঘণ্টায় মেহেরপুর জেলায় নতুন করে ৭জন করোনা রোগী মারা গেছে। মৃত্যুবরণকারীরা হচ্ছে সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের মেরিনা খাতুন (৩৫) ও আশরাফপুর গ্রামের মহন আলী (৬০)। গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামের আজিজুল ইসলামের মেয়ে রিনা খাতুন (৩৫) ও বামন্দী বাজারের মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী জহুরা খাতুন (৬০), মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামের নজরুল ইসলাম (৫০) ও মহাজনপুর গ্রামের গফুর আলী (৭০)। অপরদিকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা গেছেন মেহেরপুর পৌরসভার শেখপাড়ার মেহেজান খাতুন (৫৫)। মেরিনা খাতুন ও নজরুল ইসলাম ভোরে, দু’জন দুপুরে এবং বাকি দু’জন বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন। শারীরিক অসুস্থা নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কোভিড-১৯ পরীক্ষায় তারা সকলেই পজিটিভ ছিলেন। আর নতুন করে ৭৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলায় ৩২ জন, গাংনী উপজেলায় ৩৯ ও মুজিবনগর উপজেলায় ৪ জন রয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে জেলায় মোট করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৩০ জন। গতকাল রোববার রাতে সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মেহেরপুর সিভিল সার্জন অফিস আরও জানায়, কুষ্টিয়া ল্যাব থেকে ১৫৯টি নমুনা পরীক্ষা শেষে রিপোর্ট মেহেরপুরে এসে পৌঁছে। এর মধ্যে নতুন ৭৫ জন করোনা রোগী চিহ্নিত হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন মোট ৪৩০ জন করোনা রোগীর মধ্যে সদর উপজেলার বাসিন্দা ১৭৯ জন, গাংনী উপজেলার বাসিন্দা ১৬২ জন ও মুজিবনগর উপজেলার বাসিন্দা ৮৯ জন। এছাড়া ট্রান্সফার্ড হয়েছেন ১০৮ জন। এদের মধ্যে সদর উপজেলার ৬৬ জন, গাংনী উপজেলার ১৭ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ২৫ জন রয়েছেন। এ ছাড়া এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ১৩৭ জন। যার মধ্যে সদর উপজেলায় ৬১৫ জন, গাংনী উপজেলায় ৩৭৫ জন ও মুজিবনগর উপজেলায় ১৪৭ জন রয়েছেন। এছাড়া এ পর্যন্ত মারা গেছেন (নতুন ২ জনসহ) ৪২ জন। যার মধ্যে সদর উপজেলায় ১৪ জন, গাংনী উপজেলার ১৮ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ১০ জন রয়েছেন।
এদিকে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় দফায় উদ্বেগজনক হারে সংক্রমণ ঘটছে। এ প্রেক্ষিতে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন জনসচেতনতা ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। ‘মাস্ক পরার অভ্যাস, করোনামুক্ত বাংলাদেশ’ এই সেøাগানকে সামনে রেখে মেহেরপুর পুলিশের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে শতভাগ মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ জনসাধারণের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালের দিকে মেহেরপুর পুলিশের একটি দল মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার, বড় বাজার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় জনসচেতনতা মূলক প্রচারণা চালান। অযথা ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
মেহেরপুর জেলাব্যাপী লকডাউন ঘোষণার চতুর্থ দিনে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুল আলম শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন। মেহেরপুরে করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় রোববার লকডাউনের চতুর্থ দিনে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুল আলম শহরের হোটেলবাজার, বড়বাজার ও কলেজ মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং নিজের সুরক্ষার সাথে সাথে পরিবার ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে সবাইকে কাজ ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার আহ্বান জানান। মেহেরপুর সদর থানার এসআই এবাদত হোসেনসহ সদর থানা পুলিশের একটি দল এসময় তার সাথে ছিলেন। তবে বিকেল থেকে রাত অবধি জেলা অধিকাংশ গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানসহ সব ধরণের দোকান-পাট খোলা ছিলো।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More