মেহেরপুরে চাষ হচ্ছে লাভজনক ফসল একাঙ্গী : রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের মাঠে চাষ হচ্ছে লাভজনক ফসল একাঙ্গী। প্রতি বিঘা জমিতে ৪০-৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে বছর শেষে এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব বলে চাষিরা জানিয়েছেন। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন একাঙ্গীর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত একাঙ্গী যাচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।
মেহেরপুর কৃষি বিভাগের কাছে জেলায় কি পরিমান একাঙ্গী চাষ হচ্ছে তার হিসেব নেই। তবে কৃষি বিভাগ বলেছে লাভজনক এ ফসলের চাষে কৃষকদের তারা উদ্বুদ্ধ করছেন এবং চাষ পদ্ধতি সম্বন্ধে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
মেহেরপুর সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া-নওদাপাড়া গ্রামের মাঠে ওই গ্রামের কৃষক ইয়াদুল প্রায় ৫ বছর ধরে একাঙ্গীর চাষ করে আসছেন। ভালো লাভ পাওয়ায় তিনি দিন দিন চাষ বৃদ্ধি করছেন। আশে-পাশের অনেক কৃষক তাকে দেখে একাঙ্গী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
কৃষক ইয়াদুল জানান, প্রতি বিঘা জমিতে একাঙ্গী চাষ করতে বীজ, সার, পানি, লেবারসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। চৈত্র-বৈশাখ মাসে জমি প্রস্তুত করে একাঙ্গীর বীজ রোপণ করতে হয়। হালকা পানি দিয়ে জমি রসালো রাখতে হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বছরের মাথায় প্রতি বিঘা জমি থেকে ৮০ থেকে ১০০ মণ একাঙ্গী পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা তার ক্ষেত থেকে ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা মণ দরে একাঙ্গী কিনে নিয়ে যায়। এতে তার এক বিঘা জমিতে খরচ-খরচা বাদ দিয়ে বছরে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়। তিনি বলেন, প্রথম বছর ২ বিঘা জমিতে একাঙ্গী চাষ করে তিনি ভালো লাভবান হন। এরপর থেকে একাঙ্গীর চাষ বেছে নেই। পরের বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে ১২ বিঘা, ২৩ বিঘা, ২৭ বিঘা এবং চলতি বছরে ৪৪ বিঘা জমিতে একাঙ্গীর চাষ করেছি। তিনি বলেন, লাভজনক হওয়ায় এলাকার অনেক কৃষক একাঙ্গী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত জীববিজ্ঞান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, একাঙ্গী আদা জাতীয় ফসল। এটি মাটির মাত্র ২ ইঞ্চি নিচে হয়। মাটির ওপরে গাছগুলোও ছোট হয়। মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাছ ধরার অন্যতম উপাদান ও ঔষধিগুন সমৃদ্ধ একাঙ্গীকে একানি বলে। মেহেরপুরে এ ফসলকে একানি বলা হলেও অঞ্চল ভেদে মানুষ একে শঠি কিংবা ভূঁই চম্পা হিসেবে জানে। তিনি আরও বলেন, যে নামেই ডাকা হোক না কেন একাঙ্গী সুগন্ধযুক্ত। এটি মাছ ধরার চারে সুগন্ধি মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একাঙ্গী প্রসাধনী ও হোমিও প্যথি ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয়।
মেহেরপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্মা আশরাফুল ইসলাম জানান, সাধারণত উঁচু ভিটার জমিতে একাঙ্গী চাষ ভাল হয়। সারা বছর জমি রসালো থাকবে। তবে জমিতে পানি জমে গেলে গাছ মারা যায়। একাঙ্গী চাষে প্রচুর খাদ্য লাগে। তাই একই জমিতে পরপর দুইবার চাষ না করা ভালো। একই জমিতে দুইবার একাঙ্গী চাষ করলে খাদ্যাভাব ও ছত্রাক লাগতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে উৎপাদিত একাঙ্গী চিন, ভারত, পাকিস্তান ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, আম, পেয়ারা ও মাল্টার বাগানে সাথী ফসল হিসেবে একাঙ্গী চাষ করে কৃষক কয়েক বছরের জন্য বাড়তি সুবিধাও নিতে পারেন। লাভজনক এ ফসলের আবাদ বৃদ্ধিতে আমরা জেলার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। এছাড়া আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা একাঙ্গী চাষিদের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More