মেহেরপুর পৌর সমাজসেবার মাঠকর্মী ফারুক আহমেদকে কুপিয়ে খুন

মেহেরপুর অফিস: মেহেরপুর সমাজসেবা অফিসের মাঠকর্মী ফারুক আহমেদ (৪২) খুন হয়েছে। গতরাত (বৃহস্পতিবার) সাড়ে ১১ টার দিকে নিজ বাসভবনের গেটে দূর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। ফারুক আহমেদ গাংনী উপজেলার বড়বাজার এলাকার শওকাত হোসেনের ছেলে। তবে শিশুকাল থেকে তিনি মেহেরপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড থানাপাড়ার (উত্তর) বাসিন্দা তার মা ফজিলা খাতুনের সাথে থাকতেন। খবর পেয়ে মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী, সদর থানার ওসি শাহ দারা খানসহ পুলিশ ও ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তবে তার পরিবার, পুলিশ কিংবা এলাকাবাসী হত্যা রহস্য নিয়ে হিসেবে-নিকেশ মিলাতে পারছে না।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাত ১১ টার দিকে ফারুক আহমেদ মেহেরপুর সদর থানার গেটে অবস্থিত রতনের চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সুমনের দোকান থেকে মশার কয়েল ও শিশু পুত্রের জন্য জুস কিনে বাসায় উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি নিজ বাড়ির গেটে পৌঁছামাত্র ৩-৪ জনের একদল অস্ত্রধারী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাতকরা প্রথমে তার বামপায়ে একটি এবং পরে ঘাড়ে ২টি ও গলায় একটি কোপ মারে। এসময় তার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসার আগেই অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এসময় লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নেয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেহেরপুর ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার হাবিবুর রহমান জানান, পায়ে, ঘাড়ে ও গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অনেকগুলো কোপ মারায় ফারুক আহমেদের শরীর থেকে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু আব্দুল্লাহ বাপ্পী মাথাভাঙ্গাকে জানান, পিতা শওকত হোসেনের সাথে বনিবনা না হওয়ায় ফারুক আহমেদ ও তার প্রতিবন্ধী ভাই সামছুলকে সাথে নিয়ে তার মা ফজিলা খাতুন মেহেরপুর শহরের থানাপাড়ায় চলে আসেন। এরপর থেকে ফারুক আহমেদ সরকারি শিশু পরিবারে থেকে বড় হতে থাকেন। কিশোর ফারুক আহমেদ ও প্রতিবন্ধী সামছুলকে মা ফজিলা খাতুন বুকে আগলে রাখতেন। প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে তার মা পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিল পদে ভোট করেছেন। পরবর্তীতে ফারুক আহমেদ ৩নং ওয়ার্ডে ভোট করে পরাজিত হন। এরপর শহর সমাজ সেবায় চাকরি পাওয়ায় তিনি ভোট করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি আরও বলেন, মা ফজিলা খাতুন মারা যাওয়ার সমসময়ে ফারুক আহমেদ গাংনী উপজেলার কোদালকাঠি গ্রামের নাজমা খাতুনকে বিয়ে করেন। সংসার জীবনে তাদের ১২ বছর ও ৪ বছেরেরর দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। মায়ের মৃত্যুর পরে ফারুক আহমেদ ছোট ভাই প্রতিবন্ধী সামছুলকে বুকে আলগে রাখেন। তার চোখে নিহত ফারুক আহমেদ একজন ভাল লোক ছিলেন।

স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, ফারুক আহমেদ প্রথমে বাড়ি বিক্রি করে ঘাটের ধারে বাড়ি করেন। পরে সে বাড়ি বিক্রি করে থানাপাড়া (উত্তরে) দুইতলা বাড়ি করেন। স্থানীয়রা তাকে ভালো মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও অনেকে বলেছেন, পৌরসমাজ সেবা অফিসের ঋণ আদায় নিয়ে কারো সাথে তার বিরোধে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আবার অনেকে বলেছেন ফারুক আহমেদ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে খুন হতে পারেন। কারণ হত্যাকান্ড ঘটাবার মুহূর্তে তার পকেটে নগদ ১৪ হাজার টাকা ও অফিসের চাবিও ছিলো।

এদিকে ফারুক আহমেদের মৃত্যুতে তার স্ত্রী, ২ সন্তান, প্রতিবন্ধী ভাই, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারা খান বলেন, কিলিং মিশনে কারা এবং কয়জন ছিলো তার নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে অজ্ঞাত কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে তার বাড়ির গেটে পেছন থেকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল যাই। লাশ পুলিশ হেফাজতে নিয়ে হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। রাতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More