মোটরসাইকেল ভাঙচুর-অগ্নি সংযোগ : কয়েকজন আহত : ২জন আটক

আলমডাঙ্গার ডাউকি ও কুমারীতে নির্বাচনে অফিসে হামলা পাল্টা হামলা

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: আলমডাঙ্গার কুমারী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে অফিসে অবস্থানকালে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মোটরসাইকেল ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অপরদিকে আলমডাঙ্গার ডাউকি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজমুল হুসাইনের পোয়ামারী গ্রামের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। একই সময় নাজমুল হুসাইনের সমর্থক আলী হোসেন (৪৫) ও তার অন্তঃসত্ত্ব¡া স্ত্রী মিনি খাতুনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গার কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে কুমারী গ্রাম থেকে দু’জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু সাঈদ পিন্টু ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাম্মেল হক। ১৪ নভেম্বর রোববার রাতে মোজাম্মেল হক ও আবু সাঈদ পিন্টুর নৌকার অফিসে হামলা হয়েছে বলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে কুমারী বাজারে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। সংবাদ পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আবু সাঈদ পিন্টুর সমর্থক সেলিম ও মোজাম্মেল হকের সমর্থক হিরনকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনার বিষয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাম্মেল হক জানান, রাতে তারা কয়েকজন অফিসে বসে ছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষ নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন হামলা করে। হামলায় তাদের ৭/৮টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ১টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় তাদের হামলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাইসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
এদিকে এ বিষয়ে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাঈদ পিন্টু বলেন, রাতে তার অফিসে দু’একজন ছাড়া তেমন লোকজন ছিল না। এ সময় প্রতিপক্ষ আনারস প্রতীকের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার সমর্থকদের আহত করে। তাদের হামলায় আমার সমর্থক লাভলু ও দীপন আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানতে পেরে আমি ওসি সাহেবকে ফোন করেছি।
এদিকে এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, কুমারীতে দুই প্রার্থীর অফিসে হামলার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দু’প্রার্র্থীর দু’জন সমর্থককে আটক করা হয়েছে।
এদিকে আলমডাঙ্গার ডাউকি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজমুল হুসাইনের পোয়ামারী গ্রামের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। রোববার রাতে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় নাজমুল হুসাইনের সমর্থক আলী হোসেন (৪৫) ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মিনি খাতুনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় গ্রামে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সংবাদ পেয়ে এসআই শরিয়তের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এসআই শরিয়ত জানান, সংবাদ পেয়ে আমি ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে এসেছি। অভিযোগ করা হচ্ছে যে নৌকার লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হুসাইনের অফিস ভাঙচুর করেছে। এ অপরাধের সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। আটক হলে কারা অফিস ভাঙচুরের সাথে জড়িত তা সঠিক করে জানা যাবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More