যশোরে তিন কিশোর হত্যা : চুয়াডাঙ্গার আনিছসহ ৮ কিশোর গ্রেফতার

দুই তদন্ত কমিটির কাজ শুরু হত্যাকা-ে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
যশোর প্রতিনিধি: যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নির্যাতনে ৩ কিশোর হত্যা ও ১৫ জনকে আহতের ঘটনায় আটক ৮ কিশোরকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোরের চাঁচড়া ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক রোকিবুজ্জামান আগে থেকে আটক থাকা ৮ কিশোরকে শ্যোন এরেস্টের জন্য গতকাল রোববার আদালতে আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। গ্রেফতার ৮ কিশোর হলেন চুয়াডাঙ্গার আনিছ, গাইবান্ধার খালিদুর রহমান তুহিন, নাটারের হুমাইদ হোসেন ও মোহাম্মদ আলী, পাবনার ইমরান হোসেন ও মনোয়ার হোসেন, রাজশাহীর পলাশ ওরফে শিমুল এবং কুড়িগ্রামের রিফাত আহমেদ। এদিকে, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নির্যাতনে তিন কিশোর হত্যা ও ১৫ জন আহতের ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। সমাজসেবা অধিদফতর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত দুটি কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে আহত কিশোরদের সঙ্গে কথা বলেছে। অপরদিকে, হত্যাকা-ে জড়িতদের বিচারের দাবিতে গতকাল রোববার বিকেলে যশোর শহরের দড়াটানায় মানববন্ধন করেছে সিপিবি। সমাজসেবা অধিদফতর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান সমাজসেবা অধিদফতর ঢাকার পরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির সাংবাদিকদের বলেন, ইতোমধ্যেই তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত কিশোরদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্তের জন্য তারা যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে যাবেন। এরপর ঢাকায় গিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের রিপোর্ট প্রদান করবেন। এ তদন্ত কমিটির অপর সদস্য হলেন সমাজসেবা অধিদফতর ঢাকার উপপরিচালক এমএম মাহমুদুল্লাহ।
সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে। কিশোরদের নির্মমভাবে মারপিটের পরও সময়মতো যদি তাদের হাসপাতালে নেয়া হতো, তাহলে প্রাণহানির ঘটনা নাও ঘটতে পারতো বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। নিহত তিন কিশোরকে হাসপাতালে নেয়া হয় মৃত অবস্থায়। আর ঘটনার প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা পর আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়। একই ঘটনার তদন্তে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবু লাইছকে প্রধান করে তিন সদস্যের যে তদন্ত কমিটি গঠন করে, সেই কমিটিও তাদের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তমিজুল ইসলাম খান। গত ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোর বন্দিদের অমানুষিক মারপিট করা হলে ৩ কিশোর নিহত ও ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ১৪ আগস্ট রাতে নিহত কিশোর রাব্বির পিতা রোকা মিয়া বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অজ্ঞাত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসামি করা হয়। পুলিশ এ মামলায় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালকসহ ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করে। গত শনিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রকিবুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার বিকেলে আদালত ৫ জনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করার পরপরই তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।
এদিকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তিন কিশোর হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) যশোর জেলা শাখা। গতকাল রোববার বিকেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শহরের দড়াটানা মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, জেলা সিপিবি নেতা অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, মফিজুর রহমান নান্নু, বিথিকা সরকার, আব্দুল জলিল, অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার কনা, আবু জাফর বাচ্চু প্রমুখ। বক্তারা বলেন, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে শিশুদের সংশোধনের শিক্ষা না দিয়ে কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত ও নির্মম পৈশাচিকভাবে তিন কিশোর হত্যা ও ১৫ জনকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচার এবং শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের আধুনিক উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সংস্কারের দাবি জানান।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More