রেলের পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রীদের আতঙ্ক পাথর হামলা

চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা দর্শনাসহ ২০ জেলার ৭০ স্থান চিহ্নিত

স্টাফ রিপোর্টার: রেলের পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রীদের কাছে এখন আতঙ্কের নাম পাথর হামলা। এক বছরে পশ্চিমাঞ্চলে ৭৪টি পাথর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন রুটে এসব পাথর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ট্রেনের জানালা-দরজার কাচ। আহত হয়েছেন ট্রেনের চালক, সহকারী চালক এবং যাত্রী। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, লকডাউনের কারণে ট্রেন বন্ধ ছিল। তা না হলে পাথর হামলার সংখ্যা আরও বেশি হতো। খেলার ছলে শিশু-কিশোরেরাই এসব হামলার সঙ্গে জড়িত বলে তারা জানতে পেরেছেন। গত ১৫ আগস্ট নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রেনে ছোড়া পাথরের আঘাতে আজমির ইসলাম নামে পাঁচ বছরের এক শিশু চোখ হারাতে বসেছে। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে সৈয়দপুর রেলস্টেশন মাস্টার ময়নুল হোসেন বাদী হয়ে রেলওয়ে থানায় মামলা করেছেন। কিন্তু অন্য ঘটনাগুলোতে মামলা করার নজির কম। যদিও এই হামলার ব্যাপারে কঠোর শাস্তির বিধান আছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে জানিয়েছে, গত বছরের ৮ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২২ জুন পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলে ৭৪টি পাথর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬৩টি ট্রেনের দরজা-জানালার কাচ ভেঙেছে। এতে ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন চালক এবং একজন সহকারী চালকও ছিলেন। এছাড়া দুজন গার্ড এবং একজন সহকারীও আহত হয়েছেন। বাকিরা শিশুসহ নানা বয়সী যাত্রী। পাথর নিক্ষেপের ফলে ট্রেনে এখন যাত্রীরা জানালার পাশে বসতেই ভয় পান।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সারা দেশের ২০ জেলার ৭০টি স্থানকে পাথর নিক্ষেপের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ১৫টি জেলা পড়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মধ্যে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে আছে- চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, দর্শনা হল্ট, কুষ্টিয়ার পোড়াদহ জং, মিরপুর, ভেড়ামারা, পাকশী, ঈশ্বরদী বাইপাস, খুলনার দৌলতপুর, ফুলতলা, নোয়াপাড়া, যশোর, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, পঞ্চগড়, সৈয়দপুর, ডোমার, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, পাঁচবিবি ও চাটমোটর।
পশ্চিম রেলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশু-কিশোররা ট্রেন যাওয়ার আগে লাইনে কান পেতে শোনে। এতে তারা বুঝতে পারে ট্রেন আসছে। তখন রেললাইন থেকে পাথর নিয়ে তারা প্রস্তুত থাকে। কে কোন বগিতে মারবে, কে কাচ ভাঙবে, কে ইঞ্জিনে মারবে- এসব প্রতিযোগিতা করে। এটা তারা খেলা মনে করে। এ জন্য যাত্রী ও রেলের চালক-সহকারীদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। যেহেতু শিশু-কিশোরেরা এই কাজটি করে, তাই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে সচেতনতায় জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ না করার ব্যাপারে সচেতনতা তৈরিতে লিফলেট তৈরি করে বিতরণ করা হয়। রেললাইনের পাশের মসজিদের ইমামদের এসব লিফলেট দেওয়া হয়। তারা জুমার দিন পড়ে শোনান। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়ে কাজ করা হয়। আরএনবি এবং জিআরপি পুলিশও কাজ করে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সভা করা হয়। পাশাপাশি ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে এর কুফল সম্পর্কে শিশুদের অবগত করা হয়।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More