কিছুই করতে দিলো না করোনা

প্রকাশনার ২৯ পেরিয়ে আড়াই যুগে আজ দৈনিক মাথাভাঙ্গা
স্টাফ রিপোর্টার: প্রতিবার কিছু না কিছু তো হয়-ই। এবার করোনা কিছুই করতে দিচ্ছে না। নতুনকে স্বাগত জানানো মাথাভাঙ্গা পরিবারের মজ্জাগত হলেও বিষ বলে কথা। বিষ এর নাম যাই হোক, আর তা দেখতে যেমনই হোক, তাকে স্বাগত জানানো দূরের কথা, ওই বিষ কবে দূর হবে তা নিয়েই যতো চিন্তা। নোভেল করোনাভাইরাস মানে নতুন মুকুটাকৃতির বিষ। এ বিষ বিশ্ববাসীকেই বেকায়দায় রেখেছে। ফেলেছে চরম সঙ্কটে। এর মাঝে কি উৎসবে মেতে ওঠা যায়? হলো না, করোনার কারণেই দৈনিক মাথাভাঙ্গার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উৎসব হলো না। তাই বলে কি আর হবে না? এমন দীর্ঘশ্বাস মাখা প্রশ্ন তুলতেই নারাজ। মাথাভাঙ্গা পরিবার বিশ্বাস করে খুবশিগগিরই আসছে সুন্দর ঝলমলে সকাল।

দৈনিক মাথাভাঙ্গা প্রকাশনার ২৯ বছর পেরিয়ে আজ ৩০ বর্ষে পর্দাপন করলো। ১৯৯১ এর ১০ জুন দৈনিক মাথাভাঙ্গার যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘপথচলা। বহু দুষ্টের চোখরাঙানী, অন্যায়কারী অনেকের কালোথাবা, ঘেরাটোসহ কতরকমের বাধা উপেক্ষা করে দৈনিক মাথাভাঙ্গা আজ প্রকাশনার দেড় যুগে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এলাকার যে মুখপত্র নির্দলীয় নিরপেক্ষ হিসেবে যাত্রা শুরু করে, সেই যাত্রা চলছে। এই দেড় যুগে বদলে গেছে অনেক কিছু। বদলানোর সাথে সাথে সময়ের হাতধরে মাথাভাঙ্গাও বদলেছে বহু। আর যে কতো বদলাতে হকে কে যানে? শুরুতে ছিলো শিশার তৈরি অক্ষর সাজিয়ে কাগজে ছাপা। এরপর এলো আধুনিক যন্ত্র। কম্পিউটার। অফসেট। এরপর রঙিন। চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর, ঝিনাইদসহ কৃষ্টিয়ার একাংশে শুধু কি কাগজে মুদ্রিত সংখ্যা? ২০০৭ থেকে ওয়েবে ছড়িয়েছে সারাবিশ্বে। যদিও শুরুটা ছিলো শুধুই চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুরকে নিয়েই। চুয়াডাঙ্গা থেকে দৈনিক পত্রিকা তাও আবার এক সময় রঙিন হবে এমনটি যখন পোড়খাওয়া দূরদর্শীরাও ভাবতে পারেননি, তখন সরদার আল আমিন প্রকাশক, মুদ্রাকর মালিক হয়ে দৈনিক পত্রিকাটি প্রকাশ করেন। প্রস্তাবনা সংখ্যাটি অবশ্য ওই বছরের ২৬ মার্চ প্রকাশিত হয়। এ সংখ্যায় হামিদুল হক মুন্সি সম্পাদক থাকলেও পরবর্তীতে তিনি তখন পৌর কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার কারণে সম্পাদক থাকতে পারেননি। পরবর্তীতে তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের পর পর দুদফা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত গণমানুষের নেতা সাইফুল ইসলাম পিনুকে সম্পাদক নিয়োগ করে ছাড়পত্র পাওয়ার আবেদন জানান প্রকাশক। ছাড়পত্র হাতে পাওয়ার পরই ১০ জুন পত্রিকাটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। ওই সময়ের সাড়া জাগানো সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি থেকে বলেন, দৈনিক মাথাভাঙ্গা সমাজের সকল অনিয়ম, অত্যাচার, নির্যাতন নিপিড়নের মাথাভাঙ্গুক।
দৈনিক মাথাভাঙ্গা প্রকাশের স্বপ্নের বাতাবরণ ছিলো চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের আঙিনা। কুঞ্জু আফেয়াত নামের ছোট্টঘরের বারান্দায় বসে আলী কদর পলাশ, সরদার আল আমিন, রিচার্ড রহমান ও পাঞ্জু দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের পরিকল্পনা হৃদয়ে আঁকেন। নামকরণের বেলায় আকস্মীক উপস্থিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী মাথাভাঙ্গা নদীর নামটি প্রস্তাবনা করেন। সেই নামটিই পছন্দ হয় সকলের। মাথাভাঙ্গার যাত্রা শুরু হয়। প্রথম দিনেও যেমন ছিলো আহাদ আলী মোল্লার টিপ্পনী, তেমনই পত্রিকার পাতা জুড়ে লেখা ছিলো এমআর বাবুর প্রতিবেদন। এখনও এদেরসহ পুরো পরিবারের পরিপক্ক হাতের ছোঁয়ায় পত্রিকাটি যেমন পূর্ণতা পায়, তেমনই আলী কদর পলাশ, রিচার্ড রহমান, পাঞ্জু, আহমদ শরীফ মিম, রাজিব আহমেদসহ অনেকেই কর্মসূত্রে দূরে থাকলেও পত্রিকার জন্য আজো নিবেদিত। একটি দৈনিক পত্রিকা প্রতিদিন প্রকাশ বেশ পরিশ্রমের। সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই বাছাই সম্পাদনা করলেই সংবদপত্র হয় না, তা পত্রিকায় রূপ দিতে লাগে অরো অনেকের নিরলস পরিশ্রম। মুদ্রণ বিভাগ, সাজ সজ্জা, ছাপার পর তা সুষ্ঠুভাবে পাঠককূলের হাতের পৌঁছে দিতে লাগে আরও অনেকের দায়িত্বশীলতা। এতোকিছু আড়াই যুগ ধরে কতটা সুষ্ঠুভাবে করতে পেরেছে, কতটা পারেনি তার বিচার অবশ্যই পাঠককূলের ওপর। তাছাড়া পাঠকরাই দৈনিক মাথাভাঙ্গার সংবাদদাতা, নির্দেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলেই অগ্রযাত্রা তরান্বিত হয়েছে। এবার করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাড়তি আয়োজন করতে না পারার কারণে সম্পাদক প্রকাশক সরদার আল আমিন দুঃখ প্রকাশ করে সকলের নিকট মার্জনা চেয়েছেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, পরিবেশ অনুকূলে এলেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রত্যাশা পূরণ হবে সকলের। পাঠকসহ সকল শুভান্যুধায়ীর সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে দৈনিক মাথাভাঙ্গার অগ্রযাত্রায় দোয়া চেয়েছেন সম্পাদকসহ মাথাভাঙ্গা পরিবার।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ
1 টি মন্তব্য
  1. Mohammad Yusuf Reza বলেছেন

    HEARTFELT CONGRATULATION FOR THIS JOURNEY.YOU WERE BRAVE,HONEST AND ABOVE ALL THE TRUTH FINDER,KEEP UP THE GREAT JOB. LOVE TO ALL OF YOU STILL THERE AND THOSE WHO LEFT,SPECIALLY “UJJAL” A NICE HONEST GENTLEMAN.

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More