গড়াইটুপিতে শফিকুর ও ডাউকিতে তরিকুল চেয়ারম্যান নির্বাচিত

চুয়াডাঙ্গার দুটি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন ও আলমডাঙ্গা উপজেলার উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যারাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এ নির্বাচনে গড়াইটুপি ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিকুর রহমান রাজু নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ২৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল ওহেদ মিয়া (ঘোড়া) ৩ হাজার ১৪৭ ভোট, জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম (মোটরসাইকেল) ৩ হাজার ৭৫ ভোট, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকতার হোসেন (ধানের শীষ) ২ হাজার ১৪৮ ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন (আনারস) পেয়েছেন ১ হাজার ৮৪০ ভোট। মোট ভোট ছিলো ১৬ হাজার ৪৭৪। যার মধ্যে ১৩ হাজার ৪৫২ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

অপরদিকে ডাউকি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তরিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৮৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হুসাইন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ২৫  ভোট। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে ইউনুছ আলী পেয়েছেন ৭২৪ ভোট, ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কাদের পেয়েছেন ৮৩৭ ভোট, মোটরসাইকেল প্রতীকে নিজাম উদ্দীন পেয়েছেন ২০৪ ভোট। ইউনিয়নে মোট ভোট সংখ্যা ১৪ হাজার ৯২০ ভোট। মোট পোল হয়েছে শতকরা ৭২ ভাগ অর্থাৎ ১০ হাজার ৭২৭টি। বাতিল হয়েছে ১০০ ভোট। মোট বৈধ ভোটসংখ্যা ১০ হাজার ৬২৪ ভোট।

তরিকুল

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ডাউকি উপনির্বাচনে ব্যালটে সিল মেরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও গড়াইটুপিতে ইভিএম’র মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে ভোটার উপস্থিতির হার সকাল থেকেই বাড়তে থাকে। নারী ভোটারের পাশাপাশি পুরুষ ভোটারও কাজ ফেলে তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হন। দুটি ইউনিয়নে নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব, পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। উদ্বেগ আর আশঙ্কার মধ্যে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রণন করে নির্বাচন কমিশন।

বেলা ১১টার দিকে গড়াইটুপি ইউপি নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার ও পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসমলাম। ভোট পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বলা হয়, অপ্রীতিকর ব্যবস্থা এড়াতে ‘জিরো টলারেন্সে’ রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে যে কোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন ভোটাররা।

এদিকে সকাল থেকে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রগুলোতে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের লাইন বাড়ছে। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কঠোর তৎপরতা দেখিয়েছেন। কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি হয়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা উৎসবের আমেজে ভোট দিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় তারা খুশি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More