দু’নেতাকে হত্যা চেষ্টা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা জিমসহ গ্রেফতার ২

চুয়াডাঙ্গা পুলিশের অভিযান : পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় কৃষক লীগ নেতা মহাসিন রেজা ও ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব রিগানকে কুপিয়ে জখমের মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা জিম ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার দিনগত রাতে দামুড়হুদা উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত দু’জন হলেন চুয়াডাঙ্গা হকপাড়ার নাজিম উদ্দীনের ছেলে জেলা ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আহমেদ জিম (২৫) ও তার সহযোগী চুয়াডাঙ্গা শহরের বেলগাছি ঈদগাপাড়ার মিন্টু রহমান বাবুর ছেলে ইনসান আলী।
পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবু তারেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কনক কুমার দাস ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের মাঝেরপাড়ার জেলা ছাত্রলীগের (প্রস্তাবিত কমিটির) সহসভাপতি সোয়েব রিগানের বাবা আবুল আজম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। রিগান তার বাবাকে দেখতে ১ নভেম্বর দিনগত রাত ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে যান। এ সময় তার সঙ্গে মামা জেলা কৃষক লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মহাসিন রেজাও ছিলেন। ওই সময় ছাত্রলীগ কর্মী শাকিল আহমেদ জিমের নেতৃত্বে ৫-৭ জন রিগানকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় মহাসিন রেজা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে।
আহত দু’জনকে প্রথমে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাদেরকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়। ওই ঘটনায় মহাসিন রেজা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। ‘সশস্ত্র হামলাকারীদের ধরতে বুধবার দিনাগত রাতে সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রইচ উদ্দিন, আশিকুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামুড়হুদা উপজেলার মুক্তারপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় দুটি চাপাতিসহ শাকিল আহমেদ জিম ও ইনসান আলীকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের ওই ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার আরও জানান, আসন্ন পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ নিয়মিত পুলিশি অভিযান পরিচালনা করছে। কিছু কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ক্যাডার, যাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই, তারাই ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে ক্রমাগত চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থানে কোপাকুপির ঘটনা ঘটিয়ে চুয়াডাঙ্গার শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নস্যাৎ করার পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে।
পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী এসব সশস্ত্র হামলকারীদের নিয়ে এ ধরনের কর্মকা-ে লিপ্ত হলে বা পুলিশি তদন্তে সেসব নেতাদের নাম আসলে তার দলীয় পরিচয় যাই থাকুক না কেন, এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব রিগান ও তার মামা কৃষক লীগ নেতা মহাসিন রেজাকে কুপিয়ে জখম করে ১০-১২ জনের একটি গ্রুপ। পরে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঘটনার পরদিন আহত মহাসিন রেজা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫-৭ জনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More