আলমসাধুর চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত

বেগমপুর প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার বেগমপুর হাটখোলার সামনে ইঞ্জিনচালিত অবৈধ আলমসাধুর ধাক্কায় চাকায় পিষ্ট হয়ে জিম খাতুন নামে (৪) এক শিশুর মর্মান্তিক হয়েছে। স্থানীয়রা ঘাতক আলমসাধুসহ চালক যুগিরহুদার হৃদয়কে আটক করে বেগমপুর ক্যাম্প পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে। মা-বাবা তাদের একমাত্র মেয়ে জিমের এ মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের বেগমপুর হাটখোলাপাড়ার আব্দুল্লাহ খামেনির মেয়ে জিম গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তা পার হয়ে বেগমপুর বাওড়ে মায়ের কাছে যাচ্ছিলো। এসময় সরোজগঞ্জ বাজার থেকে বেগমপুর কলোনি বাড়াবাজারের দিকে আসা মাছের খাবার বোঝাই করা দ্রুতগতির একটি অবৈধ ইঞ্জিনচালিত আলমসাধুর ধাক্কায় চাকার নিচে পড়ে পিষ্ট হয় জিম খাতুন। এতে গুরুতর আহত হয় সে। তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের বেডে তার মৃত্যু হয়। এদিকে ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘাতক আলমসাধুসহ চালক কুতুবপুর ইউনিয়নের যুগিরহুদা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে হৃদয়কে (২০) আটক করে বেগমপুর ক্যাম্প পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। দুপুর ১২টার দিকে জিমের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছুলে পরিবার জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। জিম বাবা খামেনি ও মা সাদিয়ার একমাত্র মেয়ে। ওই সময় মা সাদিয়া কাড়চোড় কাচার জন্য বেগমপুর বাওয়েড়ের ঘাটে ছিলো। মাকে বাড়িতে না পেয়ে সে মায়ের কাছেই যাচ্ছিলো। শিশু জিমের মৃত্যুতে অভিভাবকদের কোনো অভিযোগ না থাকায় বিকেলে নামাজে জানাজা শেষে লাশের দাফন সম্পন্ন করে পরিবারের লোকজন। আটক হৃদয় জানায়, সরোজগঞ্জ বাজারের রাকিব ওয়েল মিল থেকে মাছার খাবার নিয়ে বেগমপুরে আসছিলো। পথিমধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে ।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, শিশুটি মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলো। ভর্তির প্রায় দুঘন্টা পর তার মৃত্যু হয়। মরদেহ কাউকে না জানিয়ে তার পরিবার বাসায় নিয়ে চলে যায়।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান কাজল খবর পেয়ে নিহত জিমের বাড়িতে গিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। সেই সাথে জিমের মা-বাবা খুবই গরীব হওয়ায় জিমের দাফনের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আলমসাধুর চালক হৃদয়কে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More