আর কতো প্রাণ ঝরলে সড়ক হবে নিরাপদ

সম্পাদকীয়

সড়কে মুহূর্তেই তাজা প্রাণ ঝরে পড়ার বিষয়টি যেন আমাদের পিছু ছাড়ছেই না। এটি বলতে গেলে আমাদের যেন গা সওয়া হয়ে গেছে। দিন দিন এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তেমনই একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে রংপুরে। সেখানে মারা গেছে বহু মানুষ। রংপুরে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংর্ঘষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০জনে দাঁড়িয়েছে। আহত ৫০ জনের বেশি যাত্রীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রংপুর জেলা প্রশাসন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ৮ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে তারাগঞ্জ খারুভাজ সেতুর কাছে ওই সংঘর্ষ ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে। আহত যাত্রীদের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

আমরা জানি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে। চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৭ শতাংশ। দুঃখজনকভাবে এ দুর্ঘটনায় উভয়টিই আমরা দেখছি। আমাদের মনে আছে, ২০১৫ সালের অক্টোবরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক বৈঠকে গতি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সড়ক আন্দোলনের সময় তিনি এসব নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বিশেষ করে চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেসব আইন ও নির্দেশনা কেন পুরোপুরি মানা হয় না তা বোধগম্য নয়। সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে সরকারের কিছু বিষয়ের নীতিগত স্পষ্টতা অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে, দেশের সড়ক এবং মহাসড়কগুলোর সংস্কার, ভিন্ন গতির গাড়ির জন্য ভিন্ন লেনের ব্যবস্থা করা, দেশের ফুটপাথগুলকে অবৈধ দখলদারমুক্ত করা, মহাসড়কে নসিমন, করিমন, ভটভটিসহ সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, চালকদের দেশের আইনের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে ন্যুনতম শিক্ষাগতা যোগ্যতা এসএসসি নির্ধারণ করা ইত্যাদি। আমরা আমাদের দেশের সড়ক দুর্ঘটনার সার্বিক চিত্র পরীবীক্ষণ করলে দেখতে পাব যে,এসব ব্যবস্থা গ্রহণের সীমাবদ্ধতা দুর্ঘটনা ঘটার জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে দায়ী। পাশাপাশি আমরা উন্নত দেশসহ অপরাপর দেশের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে সর্বাগ্রে এই ব্যবস্থাদি নিশ্চিত করে এর উৎকর্ষ সাধনে অন্যান্য পরিপূরক ব্যবস্থাদি নিতে দেখি, যার অভাব রয়েছে আমাদের ক্ষেত্রে।

সড়ক দুর্ঘটনার শতভাগ প্রতিকার কোনো দেশের পক্ষেই সম্ভব না হলেও উল্লেখযোগ্য হারে তা হ্রাস করা সম্ভব। আর এর জন্য প্রয়োজন অবশ্যই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ। একই সাথে রেল যোগাযোগে অব্যবস্থাপনার কারণে এই খাতটিতেও উল্লেখযোগ্য যাত্রী পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না। ফলতঃ বাধ্য হয়ে মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর এবং নিত্য ঘটে চলছে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের এ দিকটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া এখন সময়ের দাবি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More