উঠতি বয়সীদের অপরাধ এবং চুয়াডাঙ্গা পুলিশের পদক্ষেপ

কোনো অপরাধী চক্র মাথা চাড়া দেয়ার সাথে সাথে প্রতিহত করতে পারলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমতে বাধ্য। এরপর যদি হয় উঠতি বয়সীদের অপরাধমূলক কাজে পা বাড়ানো তা হলে তো কথাই নেই। ওদের যতো দ্রুত ধরে সুধরানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে ততোই কল্যাণ। এ ক্সেত্রে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের একটি উঠতি বয়সীদের উগ্রতা রুখতে পুলিশি পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। অভিবাদন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল এলাকার এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে জখমের পর একদল উঠতি বয়সীর উল্লাস এবং তাদের উল্লাস চিত্র ফেসবুকে দেয়ার মধ্যদিয়ে  যে উদ্ধততার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে তা দ্রুত রুখতে না পারলে সাধারণ মানুুষ শুধু সঙ্কিতই হতো না, অপরাধ প্রবণতা বাড়তো বহুগুণ। দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপ সেটা রুখতে সক্ষম হয়েছে।
তরুণদের গতিবিধি, ওদের কর্মকা-, কখন কার সাথে বন্ধুত্ব করছে এসব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সুপথে রাখা অভিভাবকদের দায়িত্বেরই অংশ। যদিও কর্মব্যস্ততা আর আদর আহ্লাদ মাখা বিশ্বাস অনেক অভিভাবককেই উদাসীন করে। চুয়াডাঙ্গায় অপ্রাপ্ত বয়সী একদল তরুণের ধারালো অস্ত্র মজুদ করা এবং উগ্র হয়ে ওঠার মধ্যে অভিভাবকদের ওই উদাসীনতার নজির মেলে। অজুহাত তো থাকবেই। ওই তরুণদের অভিভাবকদের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলা চালে ভুগলেও ফেসবুকে দেয়া ছবি দেখার পরও নিশ্চয় ছেলেকে সাধু বলে দাবি করবেন না। আর তা বলে দাবি করা মানেই তাকে আরও বিপথেই ঠেলে দেয়া নয়কি? পুলিশকে অবশ্যই ওই অভিভাবকদেরও সাধুবাদ জানিয়ে বলা উচিৎ, আমরা যেটা করতে পারিনি, পুলিশ সেটা করে ওদের সুধরানো তথা সুপথে ফেরানোর ব্যবস্থা করেছে।
এটা অস্বীকার করা যায় না যে, তরুণদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা এমনি এমনি হয় না। এর আড়ালে থাকে এক ধরনের মদদ। পাশে থাকার মদদেই মজুদ হয় অস্ত্র। অস্ত্র মজুদের পর অস্ত্রের উত্তাপ উগ্র করে তোলে। ভালো মন্দের বিচার করার বিবেকবোধ হারিয়ে আধিপত্য বিস্তারে মাতে। এতে মদদাতারও কোন না কোন স্বার্থ থাকে। সেটা হতে পারে মিছিলে পা মেলানোর সংখ্যা বাড়ানো, কিম্বা ভক্ত অনুরাগী গড়ে তোলার মানসিকতা। যেটাই থাক বা হোক, প্রজন্মকে সুপথে রাখা বড়দেরও দায়িত্বের অংশ। মারণাস্ত্রের বদলে মগজাস্ত্র শানানোর জন্য বই পুস্তুক তুলে দেয়াটাই ছোটদের প্রতি বড়দের দায়িত্ব। অবশ্য এ রেওয়াজ আমাদের সমাজ থেকে উবে গেছে বহু আগে। এরপরও হতাশ হলে হবে কেন? সকলেই তো ওরকম নন। ভালোরা যতো ভালো আলো ছড়ায় মন্দরা ততোই দূরে সরে যায়।
উঠতি বয়সী একদল কিশোর সংগঠতি হয়ে যা করেছে তা মেনে নেয়া যায় না। একটি অপরাধকে মেনে নেয়া মানে আরো বড়ধরণের অপরাধমূলক কাজে উৎসাহিত করা। অবশ্যই সমাজে বেশিরভাগ মানুষই ভালো। গুটিকয়েক মন্দের আচরণে মাঝে মাঝে অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে। প্রতিবাদ কিম্বা খারাপ কিছু থেকে সরে আসার পরামর্শ দেয়ার সাহস যেনো কালক্রমে ঘুনে খেয়েছে। এ কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহের ওপর সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে। যখন পুলিশের নিস্ক্রীয়তা ফুটে ওঠে, তখন হাতাশা গ্রাস করে। চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত পুলিশ সুপারসহ কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের তড়িত পদক্ষেপ সমাজের সাধারণ মানুষের আশা জাগিয়েছে। মন্দরা নিশ্চয় এ থেকে শিক্ষা নেবে। অভিভাকদের মধ্যেও বাড়বে দায়িত্বশীলতা।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More