একশ’ সেতু উদ্বোধন : আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে

সম্পাদকীয়

একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রশ্নে যাতায়াত সুবিধা এবং মানুষের চলাচল সহজ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ, ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে যেমন সমস্যা হয়, তেমনি ব্যবসাবাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ে। ফলে সেতুসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হয়। এ কথাও বলা দরকার. বাংলাদেশ নানাভাবেই উন্নয়নের যাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট, অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অগ্রগতিও দৃশ্যমান।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সারাদেশে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তার সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২৫টি জেলায় যানবাহন চলাচলের জন্য একযোগে ১শ’টি সেতু উদ্বোধন করেছেন। আমরা মনে করি, এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তথা জনগণের চলাচল ও ব্যবসাবাণিজ্যের অগ্রগতির প্রশ্নে যুগান্তকারী এক দৃষ্টান্ত।

তথ্য মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি একশ’টি সেতুর উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনকালে তিনি বলেছেন যে, ‘এটি হচ্ছে একযোগে একশ’ সেতু উদ্বোধনের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।’ আমরাও মনে করি, প্রধানমন্ত্রী যে একযোগে একশ’ সেতুর উদ্বোধন করলেন- তা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনিভাবে এসব সেতুর কারণে মানুষ উপকৃত হবে এবং দেশব্যাপী ব্যবসাবাণিজ্যর প্রসার ঘটবে। সামগ্রিক অর্থে মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এসব সেতু চালু হওয়ার ফলে, ৩৩টি রুটে ফেরি পরিষেবা মুক্ত করেছে। যা সড়ক যোগাযোগকে মসৃণ, দ্রুত, সহজতর এবং নিরাপদ করবে। আমরা মনে করি, যখন বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে তার সঙ্গে সঙ্গে দেশ ও মানুষের কল্যাণে এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিকল্প নেই। ফলে এসব সেতু মানুষের জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। একশ’ সেতুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সেতু চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫টি। সবচেয়ে কম কুমিল্লায় একটি সেতু। এ ছাড়া সিলেটে ১৭, বরিশালে ১৪, ময়মনসিংহে ছয়, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও রংপুরে পাঁচটি করে এবং ঢাকা বিভাগে দুটি সেতু রয়েছে। সব মিলিয়ে সেতুগুলোর মোট দৈর্ঘ্য পাঁচ হাজার ৪৯৪.১৩ মিটার। সরকারের অর্থায়নে নির্মিত এসব সেতুতে ব্যয় করা হয়েছে ৮৭৯ কোটি ৬১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। এটাও উল্লেখ্য যে, ৮৭৯ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নবনির্মিত সেতুগুলো রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে। যা অগ্রগতির প্রশ্নে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেই আশা করা যায়।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, একশ’ সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সড়ক যোগাযোগে নতুন আরেক যুগের সূচনা করল- যা সামগ্রিকভাবেই ইতিবাচক। এসব সেতুর কারণে দেশের মানুষের জীবনযাপন আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতির ধারাকে আরও বেগবান করবে-যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হয়। এসব উন্নয়নমূলক কর্মকা- আমলে নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও বেশি সহজ ও নিরাপদ করতে এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More