করোনা যোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়া দরকার

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সামনের কাতারে রয়েছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তবে তাদের দায়িত্ব হাসপাতালের চৌহদ্দির মধ্যে। মাঠেঘাটে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যাদের মধ্যে পুলিশ অগ্রণী। প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর লোকরাও রয়েছেন। রয়েছে মিডিয়াসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান; স্বেচ্ছাসেবকরাও রয়েছেন। পুলিশ সদস্যরা সামাজিক দূরত্ব মেনে নিরাপত্তার কার্যক্রমে অংশ নেয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। তারা করোনাকালের যোদ্ধা। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার ও প্রতিবেশীর সুরক্ষায় কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা এবং মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনও করছেন তারা। দরিদ্র ও অসহায় মধ্যবিত্তের ঘরে খাবারও পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। পেশাদারি দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালন করে পুলিশ সদস্যরা মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশের ৭৪১ সদস্য। দিন দিন তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বাড়ছে; মৃত্যুও ঘটছে। গত শনিবার পর্যন্ত পাঁচজন পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। তার পরও বিচলিত নন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের এক হাজার ২৫০ জন সদস্য এখন কোয়ারেন্টিনে আছেন। আইসোলেশনে আছেন ১৭৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ৫৭ জন। আক্রান্ত ৭৪১ সদস্যের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৩৫৬ জন রয়েছেন। ১৬ জন নারী পুলিশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া একজন এসপি, চারজন অতিরিক্ত এসপি, দুজন এএসপি, ১২ জন পুলিশ পরিদর্শক, এসআই ও সার্জেন্ট ৫৫ জন, এএসআই ৬৬ জন, নায়েক ২০ জন এবং ৩৩১ জন কনস্টেবল করোনায় আক্রান্ত। এর পরও তারা দায়িত্ব পালনে পিছ পা নন। এ বিপদে সর্বোচ্চ পেশাদারির সঙ্গে জনগণের সুরক্ষায় কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন তারা।
পুলিশে সংক্রমণ হওয়ার কারণ, নানা কার্যক্রমের জন্য তাদের সরাসরি জনসাধারণ এবং আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে আসা। ফলে তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়া স্বাভাবিক। তবু তারা ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। নিজের ভয়, পরিবার-পরিজনের পিছুটান উপেক্ষা করে তারা কাজ করছেন। চিকিৎসা ও সুরক্ষার জন্য তাদের যা দরকার সরকার তা নিশ্চিত করবে। তাদের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষাও নিশ্চিত হওয়া দরকার।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More