জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হোক

সম্পাদকীয়

 

প্রতি বছর জনসংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ঘরবাড়িও। ফলে জনশুমারি ও গৃহগণনার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। কেন না, এর ফলে সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যায়- যা সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে জনসংখ্যার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী- গত এক দশকে দেশে দুই কোটি ১১ লাখ মানুষ বেড়েছে। তথ্য মতে, এখন জনসংখ্যা হলো ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। এর মধ্যে বৃদ্ধির হারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা এবং কম বরিশাল বিভাগে। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বসবাস করছেন এক হাজার ১১৯ জন মানুষ। তবে গ্রামে বাস করেন ১১ কোটি আর শহরে ৫ কোটি। মোট জনসংখ্যার পুরুষের চেয়ে ১৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৯ জন নারী বেশি। একই সঙ্গে বেড়েছে তরুণ জনসংখ্যার হার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত ১৫ জুন সারাদেশে একযোগে জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম শুরু হয়- যা ২৮ জুন পর্যন্ত চলে। এক মাসের মাথায় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকল্প পরিচালক তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছেন। আমরা বলতে চাই, সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, জনশুমারি এবং গৃহগণনার তথ্য আমলে নেয়া এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। এটাও স্মর্তব্য যে, যেহেতু বাংলাদেশ জনসংখ্যাবহুল দেশ এবং জনসংখ্যা আরও বেড়েছে, ফলে গুরুত্ব দিতে হবে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করার বিষয়টিতে। আর সে ক্ষেত্রে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

লক্ষণীয়, প্রাথমিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ আট কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন। নারী আট কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন। এছাড়া হিজড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ আছেন ১২ হাজার ৬২৯ জন। দেশে জনসংখ্যার বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার কমছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২ শতাংশ। যা ২০১১ সালে বৃদ্ধির হার ছিলো ১.৪৬ শতাংশ, ২০০১ সালে ছিলো ১.৫৮ শতাংশ, ১৯৯১ সালে ছিলো ২.০১ শতাংশ, ১৯৮১ সালে ছিলো ২.৮৪ শতাংশ।

আমরা বলতে চাই, জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রাথমিক প্রতিবেদনে যেসব তথ্য উঠে আসছে তা আমলে নিতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এসব তথ্যকে সামনে রেখে আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিতে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা বজায় রাখতে হবে। এ কথাও বলা দরকার, জনসংখ্যা বাড়লে তা যদি জনসম্পদে রূপান্তর করা না যায় তবে সেটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে-যা কাম্য হতে পারে না। ফলে দেশের অগ্রগতি বজায় রাখতে এবং উন্নয়নের ধারায় দেশকে সমৃদ্ধ করতে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প থাকতে পারে না।

প্রসঙ্গত বলা দরকার, এ বিষয়গুলোও সংশ্লিষ্টদের আমলে নেয়া জরুরি যে, জনশুমারি ও গৃহগণনার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রতিটি খানা (হাউজ হোল্ড) ও খানার সদস্যগণকে গণনা করে দেশের মোট জনসংখ্যার হিসাব নিরূপণ করা, স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা, জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা, সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা ইত্যাদি। ফলে এই বিষয়গুলো দেশকে এগিয়ে নিতে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ তা অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ সমীচীন। সার্বিক বিষয় আমলে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণপূর্বক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণও অপরিহার্য।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, জনশুমারি ও গৃহগণনার মাধ্যমে জানা যায়- নারী-পুরুষ, শিশু, বিভিন্ন পেশা, শিক্ষা, আয়সহ গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য। ফলে এই তথ্যগুলো আমলে নিতে হবে। যা দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি অর্জনে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে সামগ্রিক চিত্র পর্যক্ষণ সাপেক্ষে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করার সামগ্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা জারি থাকবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More