দায়িত্বশীলদের অদূরদর্শিতার খেসারত দেয় সমাজ

সম্পাদকীয়

নতুন কিছু পেলেই তার ভালো-মন্দ না ভেবেই মেতে ওঠা কি মানুষের সহজাত? নাকি বাঙালির মজ্জাগত? কয়েক দশকের ঘটনা প্রবাহে বেশ কিছু উদ্ভাবন আমাদের সমাজকে যে উদ্ভট পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে তা বিশ্লেষণ করলে বাঙালি সমাজের একজন হয়ে নিজেকে বোকা বোকাই লাগে। কেন?

চাষকাজে সেচযন্ত্র হিসেবে চীন থেকে আমদানি করা ইঞ্জিন দিয়ে যখন হাতুড়ে আবিষ্কারক উদ্ভাবন করলেন যানবাহন; তখন হৈ হৈ পড়ে গেলো। ওই ইঞ্জিনচালিত যানবাহন সড়কে কতোটা নিরাপদ, তা তখন ভেবে না দেখে পত্রপত্রিকা থেকে শুরু করে দায়িত্বশীল অনেকেরই মেতে ওঠার দৃশ্য অনেকের স্মৃতিপটে এখনও অনেকটাই স্পষ্ট। পরিণাম কতোটা ভয়াবহ তা এখন নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না। একইভাবে কোন পরিবেশে কোন আবাদ হয়, কী ফলাতে গেলে কোন ধরনের আবহাওয়া প্রয়োজন তা না ভেবে যখন কমলা চাষ করলেন কয়েকজন, তখন ¯^য়ং কিছু কৃষিবিদসহ অনেকেই প্রচার প্রচরাণায় মেতে উঠলেন। কমলা বিক্রি করে যতোটা না অর্থ এলো, কমলার কলম বিক্রি করে প্রথমে চাষ করা কমলাচাষি প্রচুর অর্থের মালিক হলেন। কয়েক বছরের মধ্যেই অধিকাংশ কমলাচাষি বুঝতে পারলেন তারা প্রতারিত হয়েছেন। ইতোমধ্যে এ তথ্য পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। প্রতারিত চাষিদের অনেকেরই অভিমত, দায়িত্বশীল কিছু ব্যক্তির প্রচার প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে তারা প্রতারিত হয়েছেন। এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত অপরিহার্য। আবাদ করে কোনো কৃষক প্রতারিত হওয়া মানে গোটা জাতির ক্ষতিসাধন। একজন কৃষক যে ফসল ফলান তা বিক্রি করে কৃষক লাভবান হলেও সামগ্রিকভাবে দেখলে ওই ফসল সমাজের সকলেরই সহায়ক। একজন কৃষক প্রতারিত হলে অন্যের তৃপ্তির ঢেকুর তোলা শুধু অর্থহীনই নয়, বোকামিও বটে। বিষয়টি দেখার জন্য আমাদের দেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রয়েছে। কি চাষে উৎসাহিত করতে হবে, কোন কোন ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করতে হবে; তা দেখার দায়িত্ব সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তায়। তা হলে শত শত বিঘা জমিতে কমলার আবাদ হলো কীভাবে? কোন আবাদ করলে প্রতারিত হওয়ার শঙ্কা তা আগে কোনো একজন কৃষককেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছিলেন? দৃষ্টান্তের যথেষ্ঠ অভাব। শ্যালোইঞ্জিন চালিত যান যখন উদ্ভাবন হলো। উদ্ভাবককে নিয়ে দায়িত্বশীল অনেক পত্রিকায় বিশেষ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিলো। পরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ওই যান। সড়কে এই যান যখন যন্ত্রদানব হিসেবে দাঁড়ায় তখন সরকার সকলকে অবৈধযান চলাচলে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। উচ্চ আদালত থেকেও অবৈধযান সড়ক থেকে উচ্ছেদে আদেশ দেন। এরপরও সড়কের দিকে দৃষ্টি দিলে অবৈধযানের বেপরোয়া গতিতে চলাচল যেমন অবলোকন হবে, তেমনই সমাজের দিকে তাকালে এ যানের জন্য সমাজের অসংখ্য মানুষের জীবনে পঙ্গুত্বের অভিশাপ নেমে আসার বিষয়টিও জানা যাবে। গতকাল রোববার চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে একজন বক্তার বক্তব্যে সড়কে দুর্ঘটনা রোধে করণীয় বিষয়ে বিগত দিনের সুপারিশ উপস্থাপন করেন। তাতেও ওই অবৈধযান প্রধান প্রধান সড়কে চলাচল বন্ধসহ অবৈধযানে যাত্রী বহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার তাগিদ দেয়া হয়।

অবৈধযান অনেকেরই বেকারত্ব ঘোচিয়েছে ঠিক, বহু মানুষের জীবন কাড়ার পাশাপাশি পঙ্গুও যে করেছে তা অস্বীকার করার জো নেই। ফলে প্রধান প্রধান সড়ক থেকে এ যান যেমন উচ্ছেদ জরুরি, তেমনই কৃষকদের প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে কৃষি প্রশাসনকেও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More