নতুন উপধরন মোকাবেলায় সচেতন থাকার বিকল্প নেই

সম্পাদকীয়

করোনার সংক্রমণ সারা বিশ্বকে কতোটা বিপর্যস্ত করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়া করোনার প্রভাবে দেশেও ভীতিপ্রদ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো। এর প্রভাবে প্রায় প্রত্যেকটি খাতে নেতিবাচক পরিস্থিতিও পরিলক্ষিত হয়েছে, মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতাও বিঘিœত হয়েছে। কিন্তু এটাও ঠিক যে, বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতিকে সাফল্যের সঙ্গেই মোকাবেলা করেছে। তারপর করোনা পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করে, প্রতিটি খাতে আবারও গতি ফিরতে শুরু করে। কিন্তু এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেলো, চীন থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশে আসা এক ব্যক্তির ওমিক্রনের নতুন উপ-ধরন বিএফ.৭ শনাক্ত হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আমরা বলতে চাই, সাম্প্রতিক সময়ে করোনার নতুন ধরন নিয়ে দেশে উদ্বেগ বাড়ছে এমন তথ্য সামনে এসেছিলো। বিএফ.৭ নামের এ নতুন উপ-ধরন ওমিক্রনের চেয়েও চার গুণ বেশি সংক্রামক। এ ধরন কম সময়ের মধ্যে রোগীকে আক্রান্ত করে বলেও জানা যায়। যদিও নতুন ধরন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক বলেছেন, ‘নতুন উপ-ধরন নিয়ে আমরা ভীত নই। আমরা চাই না, কেউ করোনা সংক্রমণ নিয়ে প্যানিক হয়ে যাক, কারণ আমাদের সংক্রমণের হার বর্তমানে ‘১ শতাংশেরও কম।’ তদুপরি তিনি জানিয়েছেন, নতুন উপ-ধরনকে তারা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। কেননা, সংক্রমণের হার যেন কোনোভাবেই বাড়তে না পারে, সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এটাও উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এটি আলোচনায় এসেছে যে, স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে জনসাধারণের মধ্যে অনীহা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সচেতনতা ও পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে এই বিষয়টিকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। আমরা এটাও বলতে চাই, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে করোনা মহামারি নিয়ে নতুন উদ্বেগের কথা শোনা যায়। যা সহজ ভেবে এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। করোনাভাইরাসের একটি ধরন ওমিক্রন। ওমিক্রনের একটি উপ-ধরন বিএ-৫। বিএ-৫-এর একটি উপ-ধরন হলো বিএফ.৭। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে এই নতুন উপ-ধরন শনাক্ত হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বিএফ অন্য যে কোনো উপ-ধরনের চেয়ে দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। আর এখন যখন বাংলাদেশেও এটি শনাক্ত হলো, ফলে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সতর্কতার বিকল্প নেই। বিএফ.৭ না ছড়ানোর বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন উপ-ধরনকে খুব ক্লোজলি মনিটর করছে বলেও জানা যাচ্ছে। এছাড়া সংক্রমিত দেশগুলো থেকে যারা আসছেন, তাদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় যাদের নমুনা পজিটিভ, তাদের আইসোলেটেড করা, আরটিপিসিআর করা হচ্ছে। আর এই কার্যক্রমগুলো নিয়মিত চলছে। আমরা মনে করি, এই বিষয়গুলো যথাযথভাবে সম্পাদন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতেও উদ্যোগী হতে হবে। একদিকে শীত পড়তেই করোনাভাইরাসের নতুন ধরন বিএফ.৭-এর সংক্রমণে চীনসহ বিভিন্ন দেশে করোনা রোগী বাড়ছে। আর ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এটি শনাক্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে স্মর্তব্য, ভারতে সংক্রমণ বাড়লে বা নতুন ধরন শনাক্ত হলে উদ্বেগ বাড়ে বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশেও যখন নতুন উপ-ধরন শনাক্ত হলো তখন এটাকে এড়ানোর সুযোগ নেই। এই বিষয়টিও মনে রাখা দরকার, এর আগে এমন বিষয় বারবার বলা হয়েছে যে, সংক্রমণ কমায় স্বাস্থ্যবিধি পালনে শিথিলতারও কোনো অবকাশ নেই। ফলে এখন যখন নতুন উপ-ধরন নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে-তখন তা আমলে নিতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদাসীনতা নয়, বরং স্বাস্থ্যবিধি পালনে সবার আরও সচেতন হওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, এমনিতেই করোনা ভাইরাস বিলুপ্ত হয়নি, আবার নতুন উপ-ধরন দেশেও শনাক্ত হলো। সঙ্গত কারণেই আত্মতুষ্টিতে না ভুগে সবাইকে সচেতন থাকার বিকল্প নেই। একইসঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে করণীয় নির্ধারণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। করোনা মোকাবেলায় যথাযথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More