করোনা টিকার সময়মতো রেজিস্ট্রেশন নিয়ে অনিশ্চয়তা

ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
স্টাফ রিপোর্টার: দেশে করোনা ভাইরাসের টিকা দেয়ার কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি রেজিস্ট্রেশন সফটওয়ার তৈরি করছে সরকার। তবে এ সফটওয়ার সময়মতো হাতে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চিত স্বাস্থ্য অধিদফতর। এতে সময়মতো রেজিস্ট্রেশন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে করোনার টিকাদান কার্যক্রম বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশে আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসবে। এরপর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই দেশে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হবে। ভ্যাকসিন প্রয়োগের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অনলাইন নিবন্ধনের জন্য ২৬ জানুয়ারি থেকে ‘সুরক্ষা’ নামের একটি মোবাইল ও ওয়েবভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন চালু করার কথা রয়েছে। করোনা ভাইরাসের টিকা নিতে হলে এই অ্যাপে নিজেদের তথ্য দিয়ে তালিকাভুক্ত করতে হবে। সেখান থেকে সরকার টিকা গ্রহীতার সম্পর্কে যেমন সব তথ্য পাবেন, তেমনি যারা টিকা নেবেন, তারাও পরবর্তী আপডেট সম্পর্কে জানতে পারবেন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএস বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মোবাইলফোনে অ্যাপটি ডাউনলোড করে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজে থেকেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। অ্যাপটা সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে। যারা টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন, তাদেরও রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।’
স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখনো রেজিস্ট্রেশনের সফটওয়ার হাতে পাইনি। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিজস্ব ডাটাবেজ রয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এটা নিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবো। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর টিকাদান কার্যক্রমের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে যাদের সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে তারা যদি সময়মতো কাজ না করে তাহলে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘœ হওয়াটা স্বাভাবিক। সময়মতো দেশে করোনার ভ্যাকসিন আসবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, যখন টিকা আসবে তখনই নিশ্চিত হবো। এটা নিয়ে আর কোনো কথা বলতে চাই না।
স্মার্ট মোবাইলফোনে ‘সুরক্ষা’ অ্যাপ ডাউনলোডের পর ফোন নম্বর ও এনআইডি নম্বর দিয়ে ব্যবহারকারীরা অ্যাপে নিজেরা নিবন্ধন করবেন। অ্যাপে নিবন্ধন করার সময় নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি নম্বর, অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা আছে কিনা, পেশা ইত্যাদি বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। তবে কারা আগে টিকা পাবেন, সেই অগ্রাধিকারের তালিকাটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকেও সংগ্রহ করা হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসের দুটি করে ডোজ পাবেন। তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের বিস্তারিতও অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে। প্রতিবেশী ভারতেও টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে এরকম একটি অ্যাপের ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে করোনার ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠক হয়েছে। ভ্যাকসিন ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছুনোর পর থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো পর্যন্ত যে কোনো ধরনের নিরাপত্তা দেবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। চুক্তি অনুযায়ী সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে পাওয়া ৩ কোটি বা ততোধিক ডোজ ভ্যাকসিন ছয়টি ধাপে সরাসরি বাংলাদেশের নির্ধারিত জেলা ইপিআই কোল্ড স্টোরগুলোতে পৌঁছুনোর দায়িত্ব পালন করবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড। দেশের ৬৪ জেলার ইপিআই স্টোরে (ডব্লিউআইসি/আইএলআর) ১ লাখ থেকে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন রাখা যাবে। এছাড়া ৪৮৩টি উপজেলার ইপিআই স্টোরে (আইএলআর) রাখা যাবে ৭ হাজার ১০০ ডোজ ভ্যাকসিন। কোল্ড বক্সে ৯০০ ডোজ ভ্যাকসিন পরিবহন করে নেয়া যাবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More