চুয়াডাঙ্গার ভারত সীমান্তে স্বর্ণের বার আত্মসাতের অভিযোগ তুলে এক ব্যক্তিকে মারধর

স্টাফ রিপোর্টার: দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের মুন্সিপুর গ্রামের চুল ব্যবসায়ী তারিকুলকে স্বর্ণের বার আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মারধরসহ মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কুতুবপুর গ্রামের আনছার। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ও কার্পাসডাঙ্গা ফাঁড়ি পুলিশ।

অভিযোগে জানাগেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে মুন্সিপুর গ্রামের কুতুব আলীর ছেলে চুল ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলামকে কুতুবপুরে স্বর্ণের বার আত্মসাত করেছে মর্মে কুতুবপুর গ্রামের সদর আলীর ছেলে আনছারের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। এ সময় তার ব্যবহৃত অ্যাপাচি মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয় কুতুবপুর মাঝপাড়ায় রাস্তার ওপর। এ বিষয়ে তারিকুল সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, সকালে কুতুবপুর গ্রামের সাঈদ বিশ্বাস আমাকে ফোনে তাদের গ্রামে আসতে বলেন। আমি তার কথামতো কুতুবপুরে যাওয়ার জন্য রওনা দিই। পথিমধ্যে রাস্তায় ওৎ পেতে থাকা আনছার ও তার দলবল আমাকে থামিয়ে আনছার বলেন, ‘আমার ২০ পিস গোল্ড তুই মেরে দিয়েছিস। তোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের আকবর আলীর ছেলে তাজ। তার সাথে ফোনে কথা বল।’ ওই সময় আমি ফোনে তাজের সাথে কথা বললে তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, ‘ভাই আমাকে ওরা ঢাকাতে নিয়ে এসেছে। আমাকে আপনার নাম বলতে বলছে’ এ কথা বলে ফোন কেটে দেয়। এরপর আমাকে আনছার এবং তার ভাই মুনছুর আলীসহ তার বাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারপিট করে আহত করে। পরে আমার মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার পর সাঈদ বিশ্বাসসহ স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এ ব্যাপারে আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

কার্পাসডাঙ্গা ফাঁড়ির এসআই আতিকুর রহমান জুয়েল জানান, আমি আমাদের মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ সভায় উপস্থিত ছিলাম। আমার কাছে কুতুবপুর গ্রাম থেকে ফোন আসে গ্রামে মারামারি হচ্ছে। আমি এএসআই রওশনকে ঘটনাস্থলে যেতে বলি। পরে থানা থেকে দুজন অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় বিষয়টি জানার জন্য। এএসআই রওশন আলী জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। মুন্সিপুর গ্রামের তারিককে স্বর্ণের বার আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সাঈদ বিশ্বাসের বাড়িতে দুপক্ষ বসেছিলো। এসময় অপরপক্ষ তারিক নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে লাঞ্ছিত করে।

এ বিষয়ে আনছার আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিউজ করবেন না। কিছু টাকা দিচ্ছি নিউজটি বন্ধ রাখুন। তিনি আরো বলেন, আমার ভাইয়ের সাথে তারিকের পূর্বে ব্যবসা ছিলো। এখন তার সাথে সম্পর্ক নেই। তবে তিনি বারবার নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেন। এদিকে আনছারের পিতা সদর আলী সাংবাদিকদের জানান, তারিকের এখনও কিছুই হয়নি। আমি থাকলে আরও মারতাম এবং গাড়ি ভেঙে চুরমার করতাম। সে আমাদের সাথে বেইমানি করেছে। তার সাথে কোর্টে দেখা হবে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More