নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নগর সমাবেশ করবে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন চলছে। সরকার নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তাই জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে রাজপথের আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ৬ মহানগরে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি মনোনীত ৬ মহানগরের সাবেক মেয়র প্রার্থীরা এক সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির ছয় মহানগরের সাবেক মেয়র প্রার্থীরা হলেন ঢাকা উত্তর সিটির তাবিথ আওয়াল, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রামের শাহাদাত হোসেন, রাজশাহীর মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, খুলনার নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও বরিশালের মজিবর রহমান সরোয়ার। তবে নজরুল ইসলাম মঞ্জু পারিবারিক কারণে উপস্থিত ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি বলেন, সরকার ও সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব প্রতিষ্ঠান মিলেমিশে একাকার হয়েছে। তারা দেশে একের পর এক নির্বাচনের নামে প্রহসন করে যাচ্ছে। ইউপি নির্বাচনে পর্যন্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে আঁতাত হচ্ছে। সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে যেকোনোভাবে ক্ষমতায় থাকতে চায়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের নানা অনিয়ম তুলে ধরেন সেখানকার বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যালট প্যানেলের সুরক্ষা ছিলো না। ব্যালট প্যানেল দখল করে ভোট চুরি করা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ২০ শতাংশ ভোট নিজেরা দিয়ে ভোট ডাকাতি করেছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘দেশ চালাচ্ছে সন্ত্রাসী, গু-া ও মাফিয়ারা। ফলে দেশে আরও হাজারটা নির্বাচন করলেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’ এজন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বরিশালের সাবেক মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেন, সরকার মুখে শক্তিশালী বিরোধী দলের কথা বললেও সুকৌশলে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে চাচ্ছে না। এজন্য তারা নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। পরে ভোট কারচুপির প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ছয় মহানগরে সমাবেশের ঘোষণা করেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে, ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে, ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনায়, ১ মার্চ রাজশাহীতে, ৩ মার্চ ঢাকা উত্তরে ও ৪ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সমাবেশ করবে বিএনপি। এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন।
পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ
স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি ঘোষিত ছয় বিভাগে সমাবেশের পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে সমাবেশ ও গণসংযোগের কর্মসূচি দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। পাল্টাপাল্টি এ কর্মসূচি ঘোষণার মধ্যদিয়ে ফেব্রুয়ারিতে রাজনীতির মাঠ আবারও সরগরম হওয়ার আভাস দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দেশব্যাপী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে দেশব্যাপী সমাবেশ ও গণসংযোগের কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। দেশের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলের সব শাখা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ কর্মসূচি শুরু করবে। দলের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা স্ব স্ব বিভাগের কর্মসূচি সমন্বয় করবেন। বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির এ সমাবেশের কর্মসূচি দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের ষড়যন্ত্র। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে দেশের বিরাজমান স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিনষ্টের যেকোনো অপপ্রয়াস আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বা ইস্যু নেই যে, বিএনপিকে আন্দোলন করতে হবে। যেকোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে আওয়ামী লীগ স্বাগত জানায়। কিন্তু সমাবেশের নামে সহিংসতা সৃষ্টি করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শক্ত হাতে তা দমন করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি দেশ ও জাতির কল্যাণ ভুলে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের পথকেই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা কোটি টাকা ব্যয় করে লবিস্ট নিয়োগ করে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। বিএনপি একদিকে অপপ্রচারে অর্থ বিনিয়োগ করছে, অন্যদিকে ধোয়া তুলসি পাতা সেজে ব্যাখ্যা দাবি করছে। অপরাজনীতি পরিহার করে জনগণের জন্য রাজনীতি করার জন্য বিএনপি নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তাই ষড়যন্ত্রের পথ ত্যাগ করে জনকল্যাণের রাজনীতি করুন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More