মুজিবনগরে স্বামীর পরকীয়ায় ভেঙে গেলো গৃহবধূ শাহানাজের ৮ বছরের সংসার

মুজিবনগর প্রতিনিধি: মুজিবনগরে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত সুমন নামের এক যুবক যৌতুকের দাবিতে নিজ স্ত্রীকে দীর্ঘদিন নির্যাতন শেষে পাশের বাড়ির পুরোনা প্রেমিকাকে নিয়ে উধাও হয়েছে। উধাও হওয়ার একমাস পরও স্বামী ফিরে না আসায় বাধ্য হয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে পিতার বাড়ি চলে গেলেন গৃহবধূ শাহানাজ খাতুন (২৫)। সাথে নিয়ে গেলেন ৭ বছরের মেয়েকেও। ঘটনাটি ঘটেছে মুজিবনগর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে। সুমন মুজিবনগর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মজিবার রহমানের ছেলে ও শাহানাজ খাতুন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শাহাজান আলীর মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৮-৯ বছর আগে মুজিবনগর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মজিবার রহমানের ছেলে সুমন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শাহাজান আলীর মেয়ে শাহানাজ খাতুনকে ইসলামি শরিয়া মতে বিয়ে করে। সংসার জীবনে তাদের ঘরে আসে এক মেয়ে।
স্ত্রী শাহানাজ খাতুন জানান, তার স্বামী সুমন যে মেয়েটাকে ২য় বিয়ে করেছে তার সাথে সুমনের ছোট বেলা থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তাই বিয়ের পর থেকেই সুমন আমাকে নির্যাতন করতো। তাছাড়া সে বিয়ের পরও তার পুরোনো প্রেমিকাকে ছাড়তে পারেনি। তাই এর আগেও সুমন তার প্রেমিকার কারণে আমাকে তালাক দিয়েছিলো। স্থানীয় নেতারা মীমাংসা করলে সে আবার আমাকে বিয়ে করে তার সংসারে নিয়ে আসে। কিন্তু এরপরও সে বদলাতে পারেনি স্বভাব। শেষ পর্যন্ত গত ১ নভেম্বর সুমন তার পুরোনো প্রেমিকাসহ আবারো পালিয়ে গিয়ে ২য় বিয়ে করে। এরপর সে আমাকে গত ৬ ডিসেম্বর তালাক দেয়। এরপরও শ^শুর বাড়ির লোকজন আমাকে আশ^স্ত করে- যতদিন পর্যন্ত সুমন বাসায় না ফিরবে ততদিন পর্যন্ত আমাকে পিতার বাড়িতে যেতে দেবে না।
স্থানীয়রা জানান, বার বার বিষয়টি মীমাংসা করার পরও সুমন ভালো না হওয়ায় এদিন মেয়ের পরিবারের লোকজন এসে তাকে শ্বশুর বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।
শাহনাজের মা ফাতেমা খাতুন জানান, আনুমানিক ৮ বছর আগে সুমনের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিই। বিয়ের পর মেয়ের সুখের কথা ভেবে সুমনকে একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ, আংটি, চেইনসহ ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র দিই। বিয়ের কয়েক বছর পর আবারো তাকে একটি দোকান দেয়ার জন্য দেড় লাখ টাকা দেয়া হয়। তারপরও সুমন আমার মেয়েকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতে থাকে। স্থানীয়দের সাথে কয়েকবার বসে মীমাংসা করে মেয়েকে তার কাছে রেখে দিয়েছি। কিন্তু ২ মাস আগে সে আমার মেয়েকে নির্যাতন করে পাশের বাড়ির একটি মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে ২য় বিয়ে করে। তাকে ফিরে আসতে বলেও সে আমার মেয়ের কাছে ফিরে আসেনি। তাই আমরা আমার মেয়েকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে চিরদিনের জন্য নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি।
এ বিষয়ে সুমনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার পরিবারের লোকজন তাকে আটকে রাখেনি। আমার কাছে তাদের কিছু লেনাদেনা আছে। তাই সেটা নেয়ার জন্য স্বেচ্ছায় আমার স্ত্রী আমার বাসায় ছিলো। এর বেশি আমি আপনাকে মোবাইলে কোনো কথা বলতে রাজি নয়।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More