জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার: মানবতার জয়গানে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। লিখেছেন, ‘গাহি সাম্যের গান/ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান…।’ তিনি দ্রোহে ও প্রেমে, কোমলে-কঠোরে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে দিয়েছেন সর্বোচ্চ নতুন মাত্রা। সেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের এই দিনে (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র) তিনি ঢাকায় পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। আজ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মানুষ স্মরণ করবে তাদের প্রিয় কবিকে। এ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কবির স্মৃতিবিজড়িত কার্পাসডাঙ্গায় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও কার্পাসডাঙ্গা নজরুল স্মৃতি সংসদের আয়োজনে বিকেল ৪টার দিকে কার্পাসডাঙ্গা মিশন পল্লীর কবি স্মৃতি বিজড়িত আটচালা ঘর সংলগ্ন কবি স্মৃতি ফলকে পুষ্পমাল্য অর্পণ। সাড়ে ৪টায় কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে এবং রাত ৮টায় নজরুল স্মৃতি সংসদ কার্যলয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে গানে গানে নজরুল স্মরণ লাইভ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এবিষয়ে নজরুল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, সকল নজরুল অনুরাগী ও কার্পাসডাঙ্গার সকল প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কবিকে স্মরণ করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে শোভাযাত্রা সহকারে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে গমন, পুষ্পার্ঘ অর্পণ এবং ফাতেহা পাঠ ও পরে কবির মাজার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা। সকাল সাড়ে দশটায় প্রশাসনিক ভবনস্থ অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চ্যুয়াল ক্লাস রুমে আলোচনা সভা। সকালে বাংলা একাডেমি পক্ষ থেকে জাতীয় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। বেলা ১১টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মা জাহেদা খাতুন। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হয়েও কবি কখনো আপস করেননি। মাথা নত করেননি লোভ-লালসা, খ্যাতি, অর্থ, বিত্ত-বৈভবের কাছে। আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য। মানবতার মুক্তির পাশাপাশি সামপ্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, কূপমন্ডুকতার বিরুদ্ধেও ছিলেন সোচ্চার। মুক্তবুদ্ধি ও চিন্তার পক্ষে কলম ধরেছেন নির্ভীক চিত্তে। তার রচিত ‘চল্ চল্ চল্’ গানটি আমাদের রণসংগীত। ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তার বৈপ্লবিক সৃষ্টি। ১৯২২ সালে তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়। শুধু কবিতাতেই নয়, গান রচনায় নজরুল অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন। নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন ধ্রুপদি ধারার সঙ্গে। ছোটগল্প, উপন্যাস, গান, নাটক লিখলেও মূলত কবি হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More