বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন : মেম্বার বোরহানের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: আলমডাঙ্গার খেজুরতলা গ্রামে বিয়ের দাবি নিয়ে প্রেমিক লিুপর বাড়িতে অনশন করেছে রাজিয়া সুলতানা নামে এক নারী। এ সময় লিপুর পিতা খেজুরতলা গ্রামের ইউপি সদস্য বোরহানের বিরুদ্ধে রাজিয়াকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সংবাদ পেয়ে ঘোলদাড়ি ক্যাম্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে ওই নারীকে আলমডাঙ্গা থানা হেফাজতে নেই। রাতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের বোরহান মেম্বারের ছেলে নাসির আহমেদ লিপু ঢাকাতে চাকরির সুবাদে বগুড়া জেলার নামুজা বগারপাড়া গ্রামের আমির উদ্দিনের মেয়ে রাজিয়া সুলতানার সাথে পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের কথা বলেও লিপু তাকে এড়িয়ে যায়। গত জুন মাসে ঢাকার শেরে বাংলা নগর থানায় লিপুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে রাজিয়া সুলতানা। মামলায় লিপু গ্রেফতার হয়ে ২ মাস হাজতও খাটে। এরপর সে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি আসে। লিপু অন্যত্র বিয়ে করেছে জানতে পেরে রাজিয়া গতকাল ঢাকা থেকে খেজুরতলা গ্রামে লিপুর বাড়িতে এসে ওঠে। রাজিয়াকে দেখেই বোরহান মেম্বার তেলে বেগুনে জ¦লে ওঠে। সে রাজিয়াকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে রাখে। এ সংবাদ গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ভীড় জমায় বোরহান মেম্বারের বাড়ির সামনে। খবর পেয়ে ঘোলদাড়ি ক্যাম্প পুলিশ রাজিয়াকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানায় পাঠায়। রাতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমি ঢাকাতে একটি মহিলা হোস্টেলে রিসিপশনে চাকরি করি। গত ৬ বছর যাবত লিপুর সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বার বার আমাকে ঘোরাতে থাকে। পরে আমি শেরে বাংলা নগর (ডিএমপি) ঢাকায় একটি ধর্ষণ মামলা করি। সেই মামলা এখনো চলমান আছে। এর মাঝে কয়েকদিন আগে শুনতে পাই লিপু অন্য মেয়ের সাথে বিয়ে করেছে। এজন্য আমি গতকাল বিকেলেই চুয়াডাঙ্গায় লিপুর বাড়িতে চলে আসি। সেখানে আসার পর লিপুর বাবা আমাকে প্রচুর মারধর করে। যতই নির্যাতন করুক না কেন আমি লিপুকেই বিয়ে করবো। ইউপি সদস্য বলেন, আমি রাজিয়া সুলতানাকে মারধর করিনি। গত দু’মাস আগে আমার ছেলের বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। ওই মেয়ে আমার ছেলের নামে ধর্ষণ মামলা করেছে। আমার ছেলে প্রায় দেড় মাস পর জামিনে মুক্ত হয়। এখন জামিনে আছে লিপু। তিনি আরও বলেন, মামলা চলাকালীন সময়ে ওই মেয়ে আসা উদ্দেশ্যমূলক। ওই মেয়ের একটা ৯ বছরের ছেলেও আছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সৌরভ হোসেন বলেন, রাজিয়া সুলতানার মাথা, গলা, নাকসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে মারধরের আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, মেয়েটা আলমডাঙ্গা থানায় নেয়া হয়েছিল। বোরহান মেম্বার তাকে মারধর করেছে বলে শুনেছি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তিনি আরও বলেন, ওই মেয়ের পক্ষ থেকে করা মামলা চলমান। তাই তার পরিবারের স্বজনদের ডাকার জন্য বলেছি। তারা আসলে বিষয়টি দেখবো।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More