একই দিনে আলমডাঙ্গায় ৪ দুর্ঘটনায় ২জন নিহত ও আহত ৯

আলমডাঙ্গা ব্যুরো : একই দিনে আলমডাঙ্গায় ৪ সড়ক দুর্ঘটনা ও বিদ্যুতস্পৃষ্টের ঘটনায় ২জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন। ১৩ মার্চ শনিবার ছিল আলমডাঙ্গায় দুর্ঘটনার শহর। সকালে কলেজপড়ুয়া কিশোরের বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আলমডাঙ্গার কালিদাসপুরের মোটরশ্রমিক শরিফুল ইসলাম। একই দিন সন্ধ্যায় বিদ্যূতস্পৃষ্ট হয়ে আলমডাঙ্গার নতিডাঙ্গায় আয়না খাতুন নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল শনিবার ছিল আলমডাঙ্গায় দুর্ঘটনার শহর। এ দিনে ৪ দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালিদাসপুরের আব্দুল জলিলের ছেলে মোটরশ্রমিক শরিফুল ইসলাম (৪৫) বাইসাইকেল চড়ে আনন্দধান এলাকায় যান। তিনি আনন্দধামের এক চায়ের দোকানের সামনে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে সময় ২ জন কলেজপড়ুয়া কিশোরকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে আরেক কিশোর বেপরোয়া গতিতে মোটরশ্রমিক শরিফুল ইসলামকে ধাক্কা দেয়। মোটরসাইকেলের প্রচন্ড ধাক্কায় তিনি সড়কের উপর আছড়ে পড়েন। তাকে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আলমডাঙ্গার স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ও পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্ত্যব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

গতকাল বিকেলে এ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনাটি আড়াই লাখ টাকায় মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে আলুমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবীর জানান, নিহতের পরিবার মামলা করতে সম্মত হন নি।
এদিকে, এ দুর্ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেল চালক ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে জিম, মোটরসাইকেলের অপর দুই সহযাত্রি পাঁচলিয়া গ্রামের কলম আলীর ছেলে সলোক আলী ও বেলগাছি গ্রামের মৃত ইছাহক আলীর ছেলে মাসুমও আহত হয়েছেন।
একই দিন সন্ধ্যায় বিদ্যূতস্পৃষ্ট হয়ে লতিডাঙ্গা গ্রামের আয়না খাতুন নামের এক বৃদ্ধ মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তিনি জামাল উদ্দীন খাঁর স্ত্রী। সন্ধ্যায় আকাশে মেঘ দেখে তিনি তড়িঘড়ি করে দোকানের ছাদে শুকাতে দেওয়া মশুরী তুলতে যান। সে সময় ঘরের চালের টিন থেকে বিদ্যূতায়িত হয়ে মৃত্যু ঘটে তার।
একই দিন দুপুরে আলমডাঙ্গার স্টেশন রোডে মোটরসাইকেলের সাথে পাখিভ্যানের সংঘর্ষে এক কলেজছাত্রীসহ ৫ জন মারাত্মক আহত হয়েছেন। আলমডাঙ্গার স্টেশনপাড়ার রাসবিহারী কর্মকারের মেয়ে জ্যোতি রানী কর্মকার কলেজ থেকে পাখিভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন। সে সময় বিপরীত দিক থেকে ২ জনকে মোটরসাইকেলে নিয়ে চালক জামজামির সুব্রত কুমার দাস সে পাখিভ্যানে ধাক্কা লাগায়। এতে কলেজছাত্রী ও ভ্যানচালক এরশাদপুরের আজিম উদ্দীনের ছেলে রেজাউল হক গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সাথে মোটরসাইকেল চালক সুব্রত ও তার দু সহযাত্রিও আহত হয়েছেন। তবে তাদের নাম জানা সম্ভব হয়নি।
একই দিন দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের বিআরডিবি অফিসের সামনের গাছে ডাব পাড়তে উঠেন থানাপাড়ার দিনমজুর ইয়াছিন আলী। এক পর্যায়ে তিনি গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মেরুদন্ডের স্পাইরাল কড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More