গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্য : ময়নাতদন্ত

গাংনীতে অপ্রাপ্ত বয়সী দুজনের দাম্পত্যে নিত্যসঙ্গী অনটন
গাংনী প্রতিনিধি: পিতার পরিবারের অভিযোগ শ্বাসরোধে হত্যা করে গলায় ওড়না দিয়ে আত্মহত্যা সাজানোর অপচেষ্টা। পাড়া প্রতিবেশীদের অভিযোগ মেয়েটিকে তার স্বামী প্রায় সময়ই নির্যাতন করতো। হত্যাকা-ের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটতেও পারে বলে মন্তব্য অনেকের। এমন নানা মুনির নানা মতের মধ্যে আত্মহত্যা না হত্যা তা নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্ত করিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি গাংনী উপজেলার চেংগাড়া গ্রামে। গতকাল রোববার বিকেলে গৃহবধূ নাছিমা খাতুনের (১৫) মরদেহ তার নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সে চেংগাড়া গ্রামের শাকিল হোসেনের স্ত্রী। গাংনী থানা পুলিশ এ ঘটনায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নাছিমা খাতুনকে শ্বাসরোধে তার স্বামী শাকিল হত্যা করেছে বলে গ্রামের একজনের থেকে আরেকজনের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা নিজ ঘরে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তবে সেখানে তার স্বামী বা অন্য কারো উপস্থিতি ছিলো না বলে জানান প্রতিবেশী কয়েকজন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছে স্বামী শাকিল হোসেন।
প্রাথমিকভাবে নাছিমার পিতার পরিবারের লোকজন হত্যাকা- হিসেবে অভিযোগ করলেও তারা থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। বিয়ের পর থেকেই শাকিল প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। শনিবার দিনে কয়েকবার আর গতকাল রোববার দুপুরে স্ত্রীকে মারপিট করে বলে জানায় প্রতিবেশীরা। বিকেলে শ্বাসরোধে স্ত্রীকে হত্যা করে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা বলে অভিযোগ নাছিমার পিতার পরিবারের।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, বছর দেড়েক আগে চেংগাড়া গ্রামের ইকতার আলীর মেয়ে নাছিমার সাথে শাকিলের বিয়ে হয়। অপ্রাপ্ত দুজনের বিয়ের পর থেকে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। শাকিলকে গ্রামের মানুষ ভবঘুরে হিসেবেই জানে। এদিকে দরিদ্র পরিবার অন্যদিকে ঠিকমতো দিনমজুরি না করায় অভাব তাদের সংসার সুখের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো।
গৃহবধূর নাছিমা খাতুনের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন গাংনী থানার এসআই মোস্তফা শওকত জামান। তিনি বলেন, গলায় দাগ রয়েছে। তবে সেটি শ্বাসরোধের না আত্মহত্যার তা নির্ণয় করতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন লাগবে। অপরদিকে গৃহবধূর শরীরের অন্য কোথায়ও নির্যাতন বা মারধরের কোনো প্রকার দাগ নেই।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘরের ছাউনির আড়ার সাথে ওড়না ঝুলানো অবস্থায় পেয়েছে পুলিশ। ওই ওড়নায় পেচিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে তার স্বামীকে খুঁজে বের করতে পারলে মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশের কাছে পরিষ্কার হতে পারে। এ ব্যাপারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More