চুয়াডাঙ্গার আহম্মেদ আলী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত স্ত্রী গ্রেফতার

স্বামীকে হত্যার পর দীর্ঘ ১৮ বছর আত্মগোপনে থেকেও রক্ষা হলো না রাজবাড়ীর মমতাজ বেগমের

বেগমপুর প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার বেগমপুরের ভাঙড়ি ব্যবসায়ী আহম্মেদ আলী মোল্লা হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্ত্রী মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার ভোরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামনগর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মমতাজ বেগম চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের বেগমপুর কলোনি বাজারপাড়ার মৃত রবিউল মোল্লার ছেলে ভাঙড়ি ব্যবসায়ী আহম্মদ আলী মোল্লা হত্যা মামলার প্রধান আসামি। গতকালই তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামানের নির্দেশনায় সদর থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমজার নেতৃত্বে এসআই হিরন কুমার বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মঙ্গলবার ভোরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামনগর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পুলিশ মৃত আব্দুল হাকিমের মেয়ে মেয়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মমতাজ বেগমকে (৪০) গ্রেফতার করে। রাজবাড়ী থানার এসআই হিরন কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘটনার পর থেকেই মমতাজ বেগম আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। অপরাধ করলে কেউ যে আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারে না এটা তারই প্রমাণ। আদালতে সোপর্দের পর থেকেই রায় কার্যকর হবে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের বেগমপুর কলোনিপাড়ার মৃত রবিউল ইসলামের ছেলে ভাঙড়ি ব্যবসায়ী আহম্মদ আলীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রাজবাড়ী থানাধীন রামনগর গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের মেয়ে মমতাজ বেগমের সাথে। বিয়ের কয়েক দিনের মাথায় ব্যবসার জন্য আহম্মদ আলী শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।
নিহত আহম্মেদ আলীর ভাই মোহাম্মদ আলী জানান, বিয়ের কয়েক দিনের মাথায় ২০০২ সালের ১১ ডিসেম্বর আমাদের বাড়িতে খবর আসে আহম্মেদ আলী মারা গেছে। সেখানে গিয়ে দেখি শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্মম নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। ভাইকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুললে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে আটকে রাখে এবং স্ট্যাম্পে লিখিয়ে নেয় ভাইয়ের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়েছে। প্রাণের ভয়ে ভাইয়ের লাশ ফেলে সেখান থেকে চলে আসি। পরে গ্রামের মৃত সিরাজুল হক ফরাজির সাহায্যে মমতাজ বেগমকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত ৩৫/৩৬ জনকে আসামি করে রাজবাড়ী আমলি আদালতে (মামলা নং ১৭, তারিখ ১৯/১২/২০০২) একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। আদালত মামলাটি এজাহারভুক্ত করার জন্য রাজবাড়ী থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। ওইদিনই রাজবাড়ি থানা পুলিশ মামলাটি এজাহার হিসাবে নথিভুক্ত করে নেয়। মামলার দিন থেকেই ১নং আসামি মমতাজ বেগম আত্মগোপনে চলে যায়। আসামির অনুপস্থিতিতে রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. আমজাদ হোসেন গত ১০ আগস্ট ২০০৮ তারিখে মমতাজকে যাবজীবন কারাদ- এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছর বিনাশ্রম কারাদ-ের রায় ঘোষণা করেন। স্বামী হত্যা, আদালতের রায় এবং আত্মগোপনে থাকার ১৮ বছর পর মামলার প্রধান আসামি মমতাজকে রাজবাড়ি থানা পুলিশ গ্রেফতার করেন।
নিহত আহম্মদ আলীর ভাই আরও বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও একমাত্র ভাই হত্যার বিচার পেয়েছি। সে দিনের কথা মনে পড়লে এখনও ভয় লাগে। প্রাণের ভয়ে ভাইয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে স্ট্যাম্পে লিখে দিয়ে লাশ রেখে চলে আসতে হয়েছিলো।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More