চুয়াডাঙ্গায় চুরি করা  ছাগল জবাই, হাতেনাতে আটকের পর গণধোলাই

 

ডিঙ্গেদহ প্রতিনিধি: চুরি করা ছাগল জবাই করে মাংস কাটার সময় গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছেন চুয়াডাঙ্গার জালশুকা গ্রামের আশাদুল ও লালন। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী গণধোলাই দিয়ে তাদের পুলিশে সোপর্দ করে। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আসাদুল ইসলাম (৪০) ও একই গ্রামের আবু বড় মিয়ার ছেলে লালন (৩৮)।

অন্যদিকে, আলমডাঙ্গার হাউসপুর গ্রামে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক নিয়ে ছাগল চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে আটক হয়েছেন বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বিপ্লব ও হারদী গ্রামের মিন্টু। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ছাগল নিয়ে পালানোর সময় তাদের আটক করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জালশুকা গ্রামে যান। সেখানে গ্রামবাসীর গণধোলাইয়ের শিকার আহত দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাতে জালশুকা গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে দিপুর একটি ছাগল চুরি হয়ে যায়। সেই রাতেই খোঁজাখুঁজি করতে থাকে দিপুসহ এলাকার লোকজন। এরপর গ্রামের একটি বাগানের মধ্যে আসাদুল ও লালন ছাগলটি জবাই করে মাংস কাটার কাজ করতে দেখে এলাকাবাসী। পরে তাদের হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেয়া হয়। এর মধ্যে কেউ জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, আশাদুল ওরফে বোমা আশাদুল ও লালন শুধু চোরই না এলাকায় সন্ত্রাসী ও ডাকাতি, মাদক বিক্রির অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। বেশ কিছুদিন ধরে রাতে ছাগল হাস মুরগী চুরির হিড়িক পড়ে। হাতে নাতে ধরতে না পারায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। চোরদের গণপিটুনির পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে।

সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রামের দিপুর বাড়ি থেকে ছাগল চুরির পর একটি বাগানে জবাই করে মাংস কাটছিলো আসাদুল ও লালন। এসময় ছাগল মালিকসহ গ্রামবাসী তাদের হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেয়। আনুমানিক রাত ৩টার দিকে ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মারভিন অনিক চৌধুরী বলেন, ভোর আনুমানিক ৪টার পর আহতাবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ সদস্যরা। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে তারা শঙ্কামুক্ত নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। শনিবার রাত পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More