জীবননগরে নতুন পৌর মেয়র হলেন আওয়ামী লীগের রফিক

কাউন্সিলর হলেন যারা

জীবননগর ব্যুরো: নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থার মধ্যেও অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র দখল করে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে ও পর্দার আড়ালে কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীকে সিল, জাল ভোট প্রদান, কেন্দ্র হতে বিরোধীপক্ষের পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়া, ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, নৌকার বাইরে সিল না মারার হুমকি, বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষ ও ধাওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে জীবননগর পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিন অধিকাংশ কেন্দ্রই ছিলো আওয়ামী লীগ কর্মীদের দখলে। দখলকারীদের বেশীর ভাগই ছিলো বহিরাগত। ভোট কেন্দ্রের বাইরে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের তেমন একটা দেখা মেলেনি। নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি তেমন চোখে না পড়লেও ভোট প্রদানের হার ছিলো শতকরা ৭০ ভাগের ওপরে। সকালে বিএনপি প্রার্থী শাহাজাহান কবির ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়ার পর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী খোকন মিয়াও ভোট বর্জনের ডাক দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার আর ভোট বর্জন করা হয়নি। এ অবস্থার মধ্যে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জীবননগর পৌর সভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক। তার প্রাপ্ত ভোট ১৩ হাজার ৯১৭। উপজেলা নির্বাচন অফিস হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক নৌকা প্রতীকে ১৩ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত শাহাজাহান কবির ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৬৬ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত খোকন মিয়া হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২৫৩ ভোট। সংরক্ষিত ৩টি মহিলা আসনে বর্তমান কাউন্সিলর ৩ জনই পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন।
সংরক্ষিত ১নং আসনে বর্তমান কাউন্সিলর মাহফুজা পারভীন বিউটি আনারস প্রতীকে ৩ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়ারা বেগম চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৭ ভোট। সংরক্ষিত ২নং আসনের বর্তমান কাউন্সিলর পরিছন বেগম চশমা প্রতীকে ২ হাজার ৫৫০ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে খালেদা আলম আনারস প্রতীকে ১ হাজার ৪৮৬ ভোট, রিনা খাতুন জবা ফুল প্রতীকে ২৩২ ভোট ও কাত্যায়নী রাণী ভক্ত টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ২২২ ভোট। সংরক্ষিত ৩ আসনে বর্তমান কাউন্সিলর রিজিয়া বেগম চশমা প্রতীকে ৩ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অপর প্রার্থীদের মধ্যে রেখা খাতুন টেলিফোন প্রতীকে ১ হাজার ৪৬৯ ভোট ও শাহানারা খাতুন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩১ ভোট।
১নং সাধারণ ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আপিল মাহমুদ পাঞ্জাবি প্রতীকে ৫৩৯ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর আপেল মাহমুদ পানির বোতল প্রতীকে ৩২৭ ভোট ও রেজাউল বিশ^াস উটপাখি প্রতীকে পেয়েছেন ১০৩ ভোট। ২নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর শেখ জয়নাল আবেদীন ডালিম প্রতীকে ৮৬৯ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান কাউন্সিলর সাইদুর রহমান পানির বোতল প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৫ ভোট। ৩নং ওয়ার্ডে মো. খোকন টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে ৪৮১ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রফিকুল ইসলাম ব্ল্যাক বোর্ড প্রতীকে ৩৮৬ ভোট, শাহ জামাল উদ্দীন পাঞ্জাবি প্রতীকে ৩২১ ভোট, বর্তমান কাউন্সিলর সাংবাদিক আতিয়ার রহমান উটপাখি প্রতীকে ২৭৬ ভোট, কামরুজ্জামান খোকা গাজর প্রতীকে ২৪১ ভোট, ইয়াদুল ইসলাম পানির বোতল প্রতীকে ১৪৯ ভোট, ইলিয়াস হোসেন ব্রিজ প্রতীকে ৫৬ ভোট ও আশাদুল ইসলাম ডালিম প্রতীকে পেয়েছেন ১৪ ভোট। ৪নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর সোয়েব আহাম্মদ অঞ্জন টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে ৮২৯ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিল্লাল হোসেন উটপাখি প্রতীকে ২৮৮ ভোট, কামরুজ্জামান বিদ্যুৎ পানির বোতল প্রতীকে ২৫৩ ভোট, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রশিদ পাঞ্জাবি প্রতীকে ৩৬ ভোট ও কামাল উদ্দীন ডালিম প্রতীকে পেয়েছেন ২২ ভোট। ৫নং ওয়ার্ডে সাংবাদিক জামাল হোসেন খোকন পানির বোতল প্রতীকে ৮২৬ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান কাউন্সিলর খন্দকার আলী আজম উটপাখি প্রতীকে ৬৩৬ ভোট ও আনারুল ইসলাম টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯৫ ভোট। ৬নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আবুল কাশেম ডালিম প্রতীকে ৮১৫ ভোট পেয়ে বে-সরকারি ফলাফলে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মুরাদ হোসেন টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে ২৬৫ ভোট, সাবেক কাউন্সিলর কাজী নাসির ইকবাল ঠা-ু উটপাখি প্রতীকে ১১১ ভোট, আল্ মামুন রনি পানির বোতল প্রতীকে ৮২ ভোট ও সাজু আহাম্মদ পাঞ্জাবি প্রতীকে পেয়েছেন ২৭ ভোট। ৭নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর ওয়াসিম রাজা উটপাখি প্রতীকে ১ হাজার ৯৫ ভোট পেয়ে বে-সরকারি ভাবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আক্তারুজ্জামান পানির বোতল প্রতীকে ৪৮৫ ভোট ও রবিউল ইসলাম রবিন টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ ভোট । ৮নং ওয়ার্ডে শহিদুল ইসলাম উটপাখি প্রতীকে ১ হাজার ৯৪ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আশরাফ হোসেন ডালিম প্রতীকে ৪৫৬ ভোট ও আল মামুন পানির বোতল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮৮ ভোট এবং ৯নং ওয়ার্ডে মতিয়ার রহমান টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে ১ হাজার ৩১৫ ভোট পেয়ে বে-সরকারিভাবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আসাদুল হক পাঞ্জাবি প্রতীকে ১৮৭ ভোট, চাঁন আলী বিশ^াস ব্ল্যাক বোর্ড প্রতীকে ৭৮ ভোট, শুকুর আলী পানির বোতল প্রতীকে ৬১ ভোট, বর্তমান কাউন্সিলর আফতাব উদ্দীন উটপাখি প্রতীকে ৫৪ ভোট ও জহুরুল ইসলাম ডালিম প্রতীকে পেয়েছেন ৬ ভোট। পৌরসভার ১০টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জীবননগর পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৮২৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ১৩৩ ও মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার ৬৯৪ জন। গতকাল মোট ভোট পোল হয়েছে ১৪ হাজার ৯৩৬। এর মধ্যে ভোট নষ্ট হয়ে বাতিল হয়েছে ৩৪৪টি।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More