যশোরে পোস্টার লাগানো নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত

স্টাফ রিপোর্টার: যশোরের শার্শা উপজেলায় পোস্টার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কুতুব উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন উভয় প্রার্থীর ১১ জন সমর্থক। শনিবার সন্ধ্যায় শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর। নিহত কুতুব উদ্দিন রুদ্রপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে ও আনারস প্রতীকের সমর্থক।
এর আগে সকালে একই ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে নৌকার সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও স্থানীয় মেম্বার প্রার্থী বাবলু রহমানের ভাই আরিফ ইকবালকে (৩৮) কুপিয়ে জখম করেছে। টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে ওই এলাকায়। যে কোনো সময় আবারও হামলার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে মোতায়ন করা হয়েছে পুলিশ। আহতরা হলেন নৌকা সমর্থক বর্তমান মেম্বার ও মেম্বার প্রার্থী হবিবার (৫০), আক্কাচ আলী (৩৫), আজগার আলী (৩৫), মাসুদ হোসেন (২৫), আইনাল হোসেন (৪০) ও মন্টু মিয়া (৫০) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস মার্কার সমর্থক মেম্বার প্রার্থী ইকতিয়ার (২৫), আলাউদ্দিন (৫৫), আরশাদ আলী (৬০), কুতুব (৩৫) ও সাহাবুদ্দিন (৪০)। এদের মধ্যে মন্টু ও আরশাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে রুদ্রপুর বাজারে পোস্টার সাঁটানো নিয়ে বর্তমান মেম্বার হবিবর রহমানের সঙ্গে তার আপন চাচাতো ভাই মেম্বার প্রার্থী ইকতিয়ারের তর্ক হয়। এ সময় আরেকপক্ষ এসে তর্কে যোগ দিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়। দেশীয় অস্ত্র রামদা, লাঠি, লোহার রড নিয়ে একে-অপরকে কুপিয়ে ও মারপিট করে আহত করে। এদের মধ্যে হবিবর মেম্বার নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ টিংকু ও চাচাতো ভাই ইকতিয়ার স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফ হোসেনের সমর্থক।
আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে মন্টুকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকার বর্তমান চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ টিংকু ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফ হোসেন একে-অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগের দিন এই মারামারি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে; যাতে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে না যায়।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম খান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে ঘটনাস্থলে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More