জীবননগর কুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ছাত্রী ধর্ষণ মামলার খবর টক অব দ্য টাউন

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

জীবননগর ব্যুরো: জীবননগর উপজেলার কুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আল মামুনের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রুজু হওয়ার সংবাদ গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক মাথাভাঙ্গায় ফলাও করে প্রকাশিত হলে মুহূর্তেই তা ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়। প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার জামাতা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার খবরই ছিলো পাঠকদের প্রধান উপজীব্য। তারা নৈতিকতা স্খলন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দিতে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জানা যায়, জীবননগর উপজেলার কুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আল-মামুন (৪৫) মোক্তারপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে প্রাইভেট বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। করোনা সংক্রমণে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ ঘোষণা করলে তার প্রাইভেট বাণিজ্যে ধ্বস নামে। সে সময় শিক্ষক আল মামুন অত্যন্ত গোপনে তার গ্রামের ৮ম শ্রেণিতে পড়–য়া ছাত্রী ও তারই ছোট বোন ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন। এরই মাঝে হঠাৎ শিক্ষকের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র বেড়াতে গেলে সুযোগ বুঝে ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে ভাত খাওয়ার জন্য ডিম ভাজতে বলে। ওই ছাত্রী শিক্ষকের রান্না ঘরে ঢুকে ডিম ভাজার কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে স্কুল শিক্ষক আল-মামুন ঘরে ঢুকে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী বাড়িতে ফিরে তার মায়ের কাছে ঘটনাটি প্রকাশ করে। বিষয়টি প্রতিবেশীদের মধ্যে জানাজানি হলে অভিযুক্ত ধর্ষক শিক্ষক প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় ছাত্রীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। এই ঘটনায় ধর্ষিতার পরিবার সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্মরণাপন্ন হয়েও বিচার না পেয়ে অবশেষে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
এ দিকে গত ১০ জুলাই দৈনিক মাথাভাঙ্গা ‘জীবননগর কুলতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আল মামুনের কান্ড, ছাত্রীর সাথে অপকর্ম করে এবারও কী খুঁটির জোরে পার পেয়ে যাবেন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদ প্রকাশের দীর্ঘ প্রায় একমাস পর এ মামলা গত রোববার রাতে থানায় ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়। প্রভাবশালীদের চাপের কারণে এতোদিন মামলা করতে বিলম্ব হয় বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More