আলমডাঙ্গার খাদিমপুরের যুবক আলমগীরের কঙ্কালের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন : ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় শিপন-ইভা দম্পতি গ্রেফতার

আলমডাঙ্গা ব্যুরো/ভালাইপুর প্রতিনিধি: আলমডাঙ্গার খাদিমপুরে নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নিহত আলমগীর হোসেনের ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে শুক্রবার রাতেই আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় আটককৃত শিপন ও তার স্ত্রী ইভা খাতুনকে জিজ্ঞসাবাদ শেষে ওই গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সাকিব নামে আরও একজনকে আটক করা হয়। আলমগীর হত্যার ঘটনায় তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য পেয়েছে পুলিশ। অপরদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বাদ আছর গ্রামের কবরস্থানে আলমগীরের মরদেহের বাকি অংশ অর্থাৎ কঙ্কালের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের উপযুক্ত বিচারের দাবিতে গোরস্তানের পাশেই বিক্ষোভ করে গ্রামবাসী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে আলমডাঙ্গার খাদিমপুর গ্রামের কয়েকজন মাছ ধরার জন্য পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করছিলেন। এসময় তারা কচুরিপানার নিচে একটি কঙ্কাল দেখতে পান তারা। উদ্ধারের পর কঙ্কালটি একই এলাকার কাতব আলী বিশ্বাসের ছেলে আলমগীর হোসেনের বলে শনাক্ত করে তার পরিবারের লোকজন। গত ১০ অক্টোবর নিখোঁজ হন আলমগীর। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে আলমগীরের অন্তরঙ্গ বন্ধু একই এলাকার শিপন ও তার স্ত্রী ইভা খাতুন গা-ঢাকা দেয়। আলমগীর নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকে তাদের বিভিন্ন আচরণে কারণে সন্দেহের তীর যায় তাদের দিকে। শুক্রবার রাতেই আলমডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পরে খাদিমপুর গ্রাম থেকে আব্দুর রশিদের ছেলে প্রধান অভিযুক্ত শিপন ও তার স্ত্রী ইভা খাতুনকে আটক করে থানায় নেয়া হয়।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে আটককৃত শিপন ও তার স্ত্রী ইভা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর হত্যার বিষয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য দিয়েছে। শিপনের দেয়া স্বীকারোক্তিতে গতকাল শনিবার আলমগীর হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত আলমগীর হোসেনের চাচাতো ভাই একতার আলী ডাক্তারের ছেলে ইজিবাইক চালক সাকিবকে শনিবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকেও নানা তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আলমগীর হোসেনের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বাদি হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেয়া হবে।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বিকেলে আলমগীর হোসেনের কঙ্কাল বাড়িতে পৌঁছুলে পরিবার ও গ্রামবাসীর কান্নায় এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। বাদ আছর গ্রামের কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের আগে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়ে গোরস্তানের পাশেই বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। এসময় গ্রামের অনেকেই বলেছেন, ওই পুকুরের পাশে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েকজন যুবক দল বেধে আড্ডাবাজি করে। এমনকি সেখানে অনেকে গাঁজা সেবনও করে। তাদের বিষয়েও তদন্তের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More