অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়তা দিতে চায় ১৪ দেশ

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভোট পর্যবেক্ষণে ইসির পক্ষ থেকে বাধা নেই-সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আওয়ালসহ ইসি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়

স্টাফ রিপোর্টার: জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় দেখতে চায় উন্নয়ন সহযোগী ১৪ দেশের কূটনীতিকরা। রোববার বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাইকমিশনের নেতৃত্বে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টভুক্ত (ওইসিডি) ১৪টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা এসব কথা বলেন। এর আগে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আওয়ালসহ ইসি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথাল চুয়ারড। তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে, দেশের গণতন্ত্র আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে, অংশগ্রহণমূলক ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিতে সহায়ক অবস্থা তৈরি করতে এবং সব অংশীজনের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমাদের দেশগুলো নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো প্রকার সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শাণিত করার মধ্য দিয়ে নাগরিকদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সহায়তা করতে চায় ওইসিডি সদস্য দেশগুলো। সিইসি কাজী হাবিবুল আওয়াল বলেন, উনারা এসেছেন, এটা একটা ট্রাডিশন। আগেও এসেছেন তারই ধারাবাহিকতা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন-কানুন, আমাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমরা আমাদের কার্যক্রমগুলো জানিয়েছি। উনারা সাধারণত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়ে থাকেন। সে জন্যই উনারা ইলেকশনটা যদি ইনক্লুসিভ, একসেপ্টেবল, ফ্রি এবং ফেয়ার হয়, তাহলে উনারাও খুশি হবেন, পুরো দেশবাসী খুশি হবেন এই আশাবাদ উনারা ব্যক্ত করেছেন। আমরা আমাদের দিক থেকে ইলেকশন কমিশন হিসেবে আমাদের যা যা করণীয় আমরা করব। উনারা পিস্নজড। বলেছি ভবিষ্যতেও যখন প্রয়োজন হয়, আসবেন। আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব ঘোচাতে নির্বাচন কমিশন চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। সব দলের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, এমন আশার কথাও শুনিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এখনো কিছু কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে। তবে চেষ্টা করে যাব, যেন সব দলের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। যেন একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আহসান হাবিব, রাশিদা সুলতানা ও মো. আলমগীর। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইএসডি) ব্যানারে প্রতিনিধিরা বৈঠকে যোগ দেন। বিশ্বের ৩৮টি দেশ এই সংস্থার সদস্য হলেও রোববার ১৫টি দেশের প্রতিনিধিদের আসার কথা ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমি ব্রম্লর আসেননি। যার ফলে বৈঠকে ১৪টি দেশের প্রতিনিধি ছিলেন। যেসব রাষ্ট্রদূত বৈঠকে ছিলেন তারা হলেন-ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হাস, কানাডার হাইকমিশনার লিলিও নিকোলস, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি ইস্ট্রুপ পিটারসেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি, ফ্রান্সের সহকারী রাষ্ট্রদূত গুইলাম অড্রেন ডি কেরড্রেল, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আছিম ট্রস্টার, ইতালির রাষ্ট্রদূত এনরিকোনুনজিয়াটা, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত এনি গিয়ার্ড ভ্যান লিউয়েন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডি আসিস বেনিটেজ সালাস, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তোরান ও জাপানের হেড অব মিশন ইয়ামায়া হিরোয়ুকি।

বৈঠকে কোনো সহযোগিতার বিষয়ে প্রতিনিধিরা কিছু বলেছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ওরা যেটা বলেছে সহযোগিতা করার কথা। আমরা চট করেই নিজেরা কিছু বলিনি। আমরা বলেছি, আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দেখব। কোনো টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা উনাদের জানাব। কী ধরনের সহযোগিতা করবে, এই প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা বলেছি সেটা আমরা বিবেচনা করে দেখব। আমরা এখনো সহযোগিতা চাইনি। সক্ষমতা বাড়ানোর সহযোগিতা নাকি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করবে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ইলেকশন রিলেটেড। যেটা হতে পারে ভোটার এজুকেশন, ইসির সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয় হতে পারে। আমি তো বলেছি আমরা উনাদের জানাইনি এখনো। আমরা যদি মনে করি, কোনোরকম সহযোগিতা বা টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স বা ট্রেনিং প্রয়োজন হবে, তখন উনাদের জানাব। এজন্য নিশ্চিত করে বলতে পারছি না কী ধরনের সহযোগিতা উনারা দেবেন বা আমরা কী ধরনের সহযোগিতা চাইব। উনারা পর্যবেক্ষকের কথা বলেছেন, আমরা বলেছি আমাদের দিক থেকে কোনো বাধা নেই। তবে এ বিষয়ে ডিপ্লোমেটিকলি আলোচনা করে দেখতে পারেন। ফরেন অবজারভারদের বিষয়ে আপনারা ফরেন মিনিস্ট্রিতে একটু কথা বলে দেখতে পারেন।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More